✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
💡১. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, (খ) জীবনানন্দ দাশ, (গ) কাজী নজরুল ইসলাম, (ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য।
✔️উত্তর: (খ) জীবনানন্দ দাশ।
💡২. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) ধূসর পাণ্ডুলিপি, (খ) বনলতা সেন, (গ) রূপসী বাংলা, (ঘ) মহাপৃথিবী।
✔️উত্তর: (গ) রূপসী বাংলা।
💡৩. আকাশে কটি তারা ফুটে ওঠার কথা বলা হয়েছে?
(ক) পাঁচটি, (খ) ছটি, (গ) সাতটি, (ঘ) দশটি।
✔️উত্তর: (গ) সাতটি।
💡৪. আকাশে যখন সাতটি তারা ফুটে ওঠে, কবি তখন কোথায় বসে থাকেন?
(ক) নদীর তীরে, (খ) নৌকার ওপর, (গ) ঘাসের ওপর, (ঘ) ঘরের বারান্দায়।
✔️উত্তর: (গ) ঘাসের ওপর।
💡৫. কবিতায় মেঘের রঙকে কিসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
(ক) পাকা আম, (খ) কামরাঙা-লাল, (গ) কালো জাম, (ঘ) রাঙা জবা।
✔️উত্তর: (খ) কামরাঙা-লাল।
💡৬. কামরাঙা-লাল মেঘ কার মতো মৃত বলে কবি উল্লেখ করেছেন?
(ক) শালিকের মতো, (খ) বকের মতো, (গ) মনিয়ার মতো, (ঘ) চড়ুইয়ের মতো।
✔️উত্তর: (গ) মনিয়ার মতো।
💡৭. মৃত মনিয়ার মতো মেঘ কোথায় ডুবে গেছে?
(ক) রূপনারায়ণের জলে, (খ) গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে, (গ) পদ্মার বুকে, (ঘ) দিঘির জলে।
✔️উত্তর: (খ) গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে।
💡৮. মেঘ গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যাওয়ার পর কীসের আগমন ঘটে?
(ক) কালবৈশাখী ঝড়, (খ) শান্ত অনুগত নীল সন্ধ্যা, (গ) জোছনা রাত, (ঘ) কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর।
✔️উত্তর: (খ) শান্ত অনুগত নীল সন্ধ্যা।
💡৯. কবি বাংলার সন্ধ্যাকে কেমন বলেছেন?
(ক) চঞ্চল ও প্রখর, (খ) শান্ত ও অনুগত, (গ) অন্ধকার ও গম্ভীর, (ঘ) শীতল ও আর্দ্র।
✔️উত্তর: (খ) শান্ত ও অনুগত।
💡১০. কবি বাংলার সন্ধ্যাকে কোন রঙের রূপকে দেখেছেন?
(ক) কালো, (খ) ধূসর, (গ) নীল, (ঘ) বেগুনি।
✔️উত্তর: (গ) নীল।
💡১১. “যেন এক কেশবতী কন্যা এসেছে আকাশে” — এখানে ‘কেশবতী কন্যা’ আসলে কে?
(ক) রূপকথার রাজকুমারী, (খ) কবির প্রিয়া, (গ) বাংলার সন্ধ্যা, (ঘ) শরৎকালের মেঘ।
✔️উত্তর: (গ) বাংলার সন্ধ্যা।
💡১২. পৃথিবীর কোনো পথ কাকে দেখেনি বলে কবি জানিয়েছেন?
(ক) রূপসী কন্যাকে, (খ) সেই কেশবতী কন্যারে, (গ) নীল আকাশকে, (ঘ) নক্ষত্রমণ্ডলকে।
✔️উত্তর: (খ) সেই কেশবতী কন্যারে।
💡১৩. কেশবতী কন্যার চুল কেমন?
(ক) সোনার মতো উজ্জ্বল, (খ) অজস্র এবং কালো, (গ) মেঘের মতো চঞ্চল, (ঘ) ছোট ও সুবিন্যস্ত।
✔️উত্তর: (খ) অজস্র এবং কালো।
💡১৪. কেশবতী কন্যার চুল কবি কোথায় ঝরে পড়তে দেখেছেন?
(ক) গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে, (খ) আকাশের বুকে, (গ) কাঁঠাল-জাম-হিজলের ওপরে, (ঘ) কবির নিজের গায়ে।
✔️উত্তর: (গ) কাঁঠাল-জাম-হিজলের ওপরে।
💡১৫. “নরম ধানের গন্ধ” কবি কিসের স্পর্শে অনুভব করেন?
(ক) বাতাসের, (খ) সন্ধ্যার চুলের, (গ) বৃষ্টির জলের, (ঘ) ভোরের আলোর।
✔️উত্তর: (খ) সন্ধ্যার চুলের।
💡১৬. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি মূলত একটি —
(ক) সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা, (খ) গীতি কবিতা, (গ) ব্যঙ্গ কবিতা, (ঘ) ঐতিহাসিক কবিতা।
✔️উত্তর: (ক) সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।
💡১৭. সনেটের নিয়ম অনুযায়ী এই কবিতাটিতে কটি পঙক্তি বা লাইন আছে?
(ক) ১২টি, (খ) ১৪টি, (গ) ১৬টি, (ঘ) ১৮টি।
✔️উত্তর: (খ) ১৪টি।
💡১৮. কবি কার অলক্তক বা আলতার রূপ চরণে চরণে দেখেছেন?
(ক) রাজকন্যার, (খ) সন্ধ্যার, (গ) বাংলার প্রকৃতির, (ঘ) রূপসী নারীর।
✔️উত্তর: (খ) সন্ধ্যার।
💡১৯. কার চুলে চোখের ঘ্রাণ পাওয়ার কথা কবি বলেছেন?
(ক) কবির মায়ের, (খ) কবির প্রিয়ার, (গ) কেশবতী কন্যারূপী সন্ধ্যার, (ঘ) কোনো রূপসীর।
✔️উত্তর: (গ) কেশবতী কন্যারূপী সন্ধ্যার।
💡২০. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো” — এখানে ‘এ কন্যা’ বলতে বোঝানো হয়েছে —
(ক) বাংলার চিরন্তন রূপকে, (খ) বাংলার অনন্য সন্ধ্যাকে, (গ) গ্রামবাংলার বধূকে, (ঘ) আকাশের অপ্সরাকে।
✔️উত্তর: (খ) বাংলার অনন্য সন্ধ্যাকে।
💡২১. কবিতায় কোন কোন গাছের সুনির্দিষ্ট নাম পাওয়া যায়?
(ক) আম, জাম, কাঁঠাল, (খ) হিজল, কাঁঠাল, জাম, বট, (গ) শাল, পিয়াল, মহুয়া, (ঘ) নারকেল, সুপারি, তাল।
✔️উত্তর: (খ) হিজল, কাঁঠাল, জাম, বট।
💡২২. “জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে / রূপসীর চুলের বিন্যাসে” — এখানে কার চুলের কথা বলা হয়েছে?
(ক) বাংলার বধূর, (খ) রূপসী সন্ধ্যার, (গ) বনলতা সেনের, (ঘ) প্রকৃতির দেবীর।
✔️উত্তর: (খ) রূপসী সন্ধ্যার।
💡২৩. কবি সন্ধ্যার রূপ কিসের সাহায্যে গভীরভাবে অনুভব করেছেন?
(ক) শুধু চোখের দ্বারা, (খ) শুধু কানের দ্বারা, (গ) বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও ঘ্রাণের দ্বারা, (ঘ) কল্পনার দ্বারা।
✔️উত্তর: (গ) বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও ঘ্রাণের দ্বারা।
💡২৪. কবিতায় কোন ঘাসের বা উদ্ভিদের সুবাসের কথা আছে?
(ক) দূর্বা ঘাস, (খ) কলমী, (গ) কুশ ঘাস, (ঘ) উলু ঘাস।
✔️উত্তর: (খ) কলমী।
💡২৫. “কলমীর ঘ্রাণ” — এখানে ‘কলমী’ হলো এক প্রকার:
(ক) ফুল গাছ, (খ) জলজ শাক বা উদ্ভিদ, (গ) বনের লতা, (ঘ) ফলের গাছ।
✔️উত্তর: (খ) জলজ শাক বা উদ্ভিদ।
💡২৬. কবিতায় উল্লেখিত জলাশয়টি হলো —
(ক) নদী, (খ) সমুদ্র, (গ) পুকুর, (ঘ) বিল।
✔️উত্তর: (গ) পুকুর।
💡২৭. পুকুরের জলের গন্ধ কেমন?
(ক) খুব মিষ্টি, (খ) পানা-পুকুরের সঁদা গন্ধ, (গ) গন্ধহীন, (ঘ) নোনা জলের গন্ধ।
✔️উত্তর: (খ) পানা-পুকুরের সঁদা গন্ধ।
💡২৮. কবিতায় কোন কোন মাছের নাম পাওয়া যায়?
(ক) রুই ও কাতলা, (খ) চাঁদা ও সরপুঁটি, (গ) ইলিশ ও চিংড়ি, (ঘ) মাগুর ও শিং।
✔️উত্তর: (খ) চাঁদা ও সরপুঁটি।
💡২৯. চাঁদা ও সরপুঁটি মাছেদের গন্ধ কেমন বলা হয়েছে?
(ক) তীব্র গন্ধ, (খ) মৃদু ঘ্রাণ, (গ) আশঁটে গন্ধ, (ঘ) পচা গন্ধ।
✔️উত্তর: (খ) মৃদু ঘ্রাণ।
💡৩০. “কিশোরের পায়ে-দলা” কীসের কথা কবিতায় আছে?
(ক) নরম ঘাস, (খ) কাদা মাটি, (গ) মুথা ঘাস, (ঘ) শুকনো পাতা।
✔️উত্তর: (গ) মুথা ঘাস।
💡৩১. “লাল লাল বটফলের” গন্ধ কেমন?
(ক) সুমিষ্ট, (খ) ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা, (গ) ঝাঁঝালো গন্ধ, (ঘ) সুবাসিত।
✔️উত্তর: (খ) ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা।
💡৩২. “হাতে কলমা-নাড়া” কার কথা বলা হয়েছে?
(ক) এক বৃদ্ধার, (খ) এক কিশোরীর, (গ) এক চাষীর, (ঘ) এক মাঝির।
✔️উত্তর: (খ) এক কিশোরীর।
💡৩৩. কিশোরীর হাত কেমন?
(ক) উষ্ণ ও নরম, (খ) শীতল, (গ) খসখসে, (ঘ) রক্তাভ।
✔️উত্তর: (খ) শীতল।
💡৩৪. “আইয়াছে শান্ত অনুগত / ------ সন্ধ্যা” — শূন্যস্থানে কোন শব্দটি বসবে?
(ক) ধূসর, (খ) নীল, (গ) কালো, (ঘ) ঘন।
✔️উত্তর: (খ) নীল।
💡৩৫. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কয়টি স্তবক আছে?
(ক) একটি, (খ) দুটি, (গ) তিনটি, (ঘ) চারটি।
✔️উত্তর: (খ) দুটি (৮ লাইনের অষ্টক এবং ৬ লাইনের ষটক)।
💡৩৬. সনেটের প্রথম ৮টি লাইনকে কী বলা হয়?
(ক) ষটক, (খ) অষ্টক, (গ) অন্ত্যমিল, (ঘ) শ্লোক।
✔️উত্তর: (খ) অষ্টক।
💡৩৭. সনেটের শেষ ৬টি লাইনকে কী বলা হয়?
(ক) অষ্টক, (খ) ষটক, (গ) চূর্ণক, (ঘ) ত্রিপদী।
✔️উত্তর: (খ) ষটক।
💡৩৮. “এ সবেই আরদ্ধ হয় বাংলার রূপ” — ‘এ সবেই’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
(ক) বাংলার শহরের ব্যস্ত জীবন, (খ) বাংলার গাছপালা, ঘাস, নদী ও মাঠের গন্ধ, (গ) বাংলার উৎসব, (ঘ) বাংলার প্রাচীন ইতিহাস।
✔️উত্তর: (খ) বাংলার গাছপালা, ঘাস, নদী ও মাঠের গন্ধ।
💡৩৯. “আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি পাই টের” — কবি কী টের পান?
(ক) সকালের আগমন, (খ) বাংলার রূপসী সন্ধ্যার আগমন, (গ) বৃষ্টির সম্ভাবনা, (ঘ) চাঁদের আলো।
✔️উত্তর: (খ) বাংলার রূপসী সন্ধ্যার আগমন।
💡৪০. ‘মুথা ঘাস’ কিশোরের পায়ে কী অবস্থায় থাকে?
(ক) সতেজ, (খ) দলা-পাকানো বা মর্দিত, (গ) কাটা, (ঘ) উপড়ানো।
✔️উত্তর: (খ) দলা-পাকানো বা মর্দিত।
💡৪১. বটফলের রঙ কেমন বলা হয়েছে?
(ক) হলুদ, (খ) লাল লাল, (গ) সবুজ, (ঘ) কালো।
✔️উত্তর: (খ) লাল লাল।
💡৪২. “ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা” — এই অনুভূতিটি কবি কার সঙ্গে জড়িয়েছেন?
(ক) কামরাঙা মেঘ, (খ) ঝরে পড়া বটফল, (গ) শীতল হাত, (ঘ) মনিয়া পাখি।
✔️উত্তর: (খ) ঝরে পড়া বটফল।
💡৪৩. “আকাশে সাতটি তারা” কবিতাটিতে কোন ঋতুর স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়?
(ক) বর্ষা, (খ) শরৎ, (গ) হেমন্ত, (ঘ) বসন্ত।
✔️উত্তর: (গ) হেমন্ত (ধানের গন্ধ, কলমীর ঘ্রাণ ও শীতলতার আভাস হেমন্তকে নির্দেশ করে)।
💡৪৪. জীবনানন্দ দাশকে প্রধানত কীসের কবি বলা হয়?
(ক) বিদ্রোহের কবি, (খ) রূপসী বাংলার বা প্রকৃতির কবি, (গ) আধ্যাত্মিক কবি, (ঘ) নগরের কবি।
✔️উত্তর: (খ) রূপসী বাংলার বা প্রকৃতির কবি।
💡৪৫. “গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে” — কী ডুবে গেছে?
(ক) নৌকা, (খ) সূর্য, (গ) কামরাঙা-লাল মেঘ, (ঘ) চাঁদের আলো।
✔️উত্তর: (গ) কামরাঙা-লাল মেঘ।
💡৪৬. “আকাশে সাতটি তারা” কবিতায় কবি কোন নদী বা সাগরের নাম উল্লেখ করেছেন?
(ক) রূপনারায়ণ, (খ) গঙ্গাসাগর, (গ) ইছামতী, (ঘ) পদ্মা।
✔️উত্তর: (খ) গঙ্গাসাগর।
💡৪৭. ‘মনিয়া’ আসলে কী?
(ক) একটি ফুল, (খ) একটি ছোট পাখি, (গ) একটি নদী, (ঘ) এক প্রকার ঘাস।
✔️উত্তর: (খ) একটি ছোট পাখি।
💡৪৮. “তারাই ব্যাকুল করে” — কাদের ব্যাকুল করে?
(ক) কবিকে, (খ) কিশোর-কিশোরীকে, (গ) বাংলার প্রকৃতিকে, (ঘ) পাখিদের।
✔️উত্তর: (ক) কবিকে (বাংলার গন্ধ ও রূপ কবি মনকে ব্যাকুল করে)।
💡৪৯. “আকাশে সাতটি তারা” কবিতার মূল সুর কী?
(ক) দেশপ্রেম ও স্বদেশী আন্দোলন, (খ) বাংলার পল্লীপ্রকৃতির প্রতি নিবিড় ভালোবাসা, (গ) নগর জীবনের যন্ত্রণা, (ঘ) অতীত স্মৃতির রোমন্থন।
✔️উত্তর: (খ) বাংলার পল্লীপ্রকৃতির প্রতি নিবিড় ভালোবাসা।
💡৫০. “মেঠো পথ” এবং “পুকুরের জল” — এই উপাদানগুলো কবিতার কোন পরিবেশকে ফুটিয়ে তোলে?
(ক) নাগরিক বৈভব, (খ) খাঁটি গ্রামবাংলার শান্ত রূপ, (গ) পাহাড়ি জীবন, (ঘ) সমুদ্র উপকূলের দৃশ্য।
✔️উত্তর: (খ) খাঁটি গ্রামবাংলার শান্ত রূপ।
✍️ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
💡১. “আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে”— তখন কবি কী করেন?
✔️উত্তরঃ আকাশে সাতটি তারা ফুটে উঠলে কবি শান্ত মনে ঘাসের ওপর বসে প্রকৃতির রূপ নিরীক্ষণ করেন।
💡২. কবি জীবনানন্দ দাশের মতে ‘কামরাঙা-লাল মেঘ’ কার মতো নিথর ও মৃত?
✔️উত্তরঃ কবি জীবনানন্দ দাশের মতে ‘কামরাঙা-লাল মেঘ’ একটি মৃত মনিয়া পাখির নিথর দেহের মতো।
💡৩. মৃত মনিয়ার মতো কামরাঙা-লাল মেঘ কোথায় বিলীন বা ডুবে গেছে?
✔️উত্তরঃ মৃত মনিয়ার মতো কামরাঙা-লাল মেঘ সুদূর গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ের বুকে ডুবে গেছে।
💡৪. মেঘ গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যাওয়ার পর বাংলার বুকে কেমন সন্ধ্যা নেমে আসে?
✔️উত্তরঃ মেঘ ডুবে যাওয়ার পর বাংলার বুকে এক শান্ত, অনুগত ও নীল রঙের মায়াবী সন্ধ্যা নেমে আসে।
💡৫. কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার সন্ধ্যাকে কার সঙ্গে তুলনা করেছেন?
✔️উত্তরঃ কবি বাংলার সন্ধ্যাকে এক অপরূপা ‘কেশবতী কন্যা’ বা কালো চুল ছড়িয়ে দেওয়া রূপসী নারীর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
💡৬. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”— এখানে ‘কন্যা’ বলতে কবি কাকে বুঝিয়েছেন?
✔️উত্তরঃ এখানে ‘কন্যা’ বলতে কবি জীবনানন্দ দাশ গ্রামবাংলার চিরন্তন, স্নিগ্ধ ও অনন্য রূপের ‘নীল সন্ধ্যা’কে বুঝিয়েছেন।
💡৭. কেশবতী কন্যারূপী সন্ধ্যার অজস্র চুল কোথায় কোথায় ঝরে পড়ে?
✔️উত্তরঃ সন্ধ্যারূপী কন্যার অজস্র কালো চুল বাংলার হিজল, জাম আর কাঁঠাল গাছের ডালপালার ওপর ঝরে পড়ে।
💡৮. “জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে”— এই স্নিগ্ধ গন্ধ কোথা থেকে ঝরে পড়ার কথা কবি বলেছেন?
✔️উত্তরঃ রূপসী বাংলার সন্ধ্যাবেলা যখন নেমে আসে, তখন সেই সন্ধ্যারূপী রূপসী কন্যার চুলের বিন্যাস থেকে স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে পড়ে।
💡৯. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় সন্ধ্যার চুলের স্পর্শে কবি কোন কোন জিনিসের গন্ধ টের পান?
✔️উত্তরঃ সন্ধ্যার চুলের স্পর্শে কবি নরম ধান, কলমী শাক, পুকুরের জল এবং চাঁদা ও সরপুঁটি মাছের মৃদু গন্ধ টের পান।
💡১০. “কিশোরের পায়ে-দলা”— কিশোরের পায়ে কী দলা পাকিয়ে যাওয়ার কথা কবিতায় আছে?
✔️উত্তরঃ মেঠো পথে হাঁটার সময় কিশোরের পায়ে ‘মুথা ঘাস’ দলা পাকিয়ে বা মর্দিত হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
💡১১. “লাল লাল বটফলের ব্যথিত গন্ধের”— বটফলের গন্ধকে কবি ‘ব্যথিত’ বলেছেন কেন?
✔️উত্তরঃ ঝরে পড়া পাকা বটফলগুলো যখন নিথর ও নীরব অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকে, তখন তাদের মধ্য থেকে এক ধরণের করুণ ও ক্লান্ত গন্ধ বের হয়, তাই কবি একে ব্যথিত বলেছেন।
💡১২. “ক্লান্ত নীরবতা”— এই ক্লান্ত নীরবতা কোথায় বা কিসের মধ্যে বিরাজ করে?
✔️উত্তরঃ মাটিতে ঝরে পড়া লাল লাল বটফলের সঁদা ও করুণ গন্ধের ভেতরেই এক ধরণের ‘ক্লান্ত নীরবতা’ বিরাজ করে।
💡১৩. “হাতে কলমা-নাড়া কিশোরীর”— কিশোরীর হাত কেমন বলে কবি উল্লেখ করেছেন?
✔️উত্তরঃ ধান বা কলমা শাক নাড়াচাড়া করা সেই গ্রাম্য কিশোরীর হাত দুটি অত্যন্ত শান্ত ও শীতল।
💡১৪. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি মূলত কোন ধরণের কবিতা?
✔️উত্তরঃ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি একটি চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট (Sonnet), যা চৌদ্দটি পঙক্তিতে রচিত।
💡১৫. এই কবিতায় কবি বাংলার রূপকে কীভাবে বা কোন কোন ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করেছেন?
✔️উত্তরঃ কবি বাংলার রূপকে কেবল চোখ দিয়ে দেখেননি, বরং ঘ্রাণ ও স্পর্শের মতো গভীর ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির মাধ্যমে হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন।
💡১৬. “তারাই ব্যাকুল করে”— কোন জিনিসগুলো কবির মনকে ব্যাকুল বা আকুল করে তোলে?
✔️উত্তরঃ চাঁদা-সরপুঁটি মাছের গন্ধ, কিশোরের পায়ে দলা মুথা ঘাস, কিশোরীর শীতল হাত এবং বটের ব্যথিত গন্ধ কবিমনকে ব্যাকুল করে।
💡১৭. “আইয়াছে শান্ত অনুগত / নীল সন্ধ্যা”— এখানে সন্ধ্যাকে ‘অনুগত’ বলার কারণ কী?
✔️উত্তরঃ বাংলার বুকে সন্ধ্যা কোনো রকম কোলাহল বা আড়ম্বর ছাড়াই অত্যন্ত নিঃশব্দে ও শান্তভাবে প্রতিদিনের চেনা নিয়মে নেমে আসে, তাই কবি একে অনুগত বলেছেন।
💡১৮. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কোন কোন মাছের মৃদু ঘ্রাণের কথা উল্লেখ আছে?
✔️উত্তরঃ কবিতায় গ্রামবাংলার অতি পরিচিত দুটি ছোট মাছ— ‘চাঁদা’ এবং ‘সরপুঁটি’র মৃদু ঘ্রাণের কথা উল্লেখ আছে।
💡১৯. “আকাশে সাতটি তারা” কবিতায় কোন নক্ষত্রমণ্ডলীর সংকেত দেওয়া হয়েছে?
✔️উত্তরঃ আকাশে সাতটি তারা বলতে উত্তর আকাশের বিখ্যাত ‘সপ্তর্ষি মণ্ডল’ বা সাতটি উজ্জ্বল তারার সমষ্টিকে বোঝানো হয়েছে।
💡২০. “নরম ধানের গন্ধ, কলমীর ঘ্রাণ”— এর মাধ্যমে কবি বাংলার প্রকৃতির কোন ঋতুর আবহ ফুটিয়ে তুলেছেন?
✔️উত্তরঃ ধানের গন্ধ, কলমীর সুবাস ও প্রকৃতির ভেজা শীতলতার মাধ্যমে কবি মূলত গ্রামবাংলার ‘হেমন্ত’ ঋতুর এক অপরূপ আবহ ফুটিয়ে তুলেছেন।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
💡১. “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো” — উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
✔️উত্তরঃ আলোচ্য অংশটি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে।
কবি এখানে সূর্যাস্তের ঠিক পরের আকাশের এক চমৎকার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। অস্তগামী সূর্যের শেষ আলোয় আকাশের মেঘ পাকা কামরাঙা ফলের মতো গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। কিন্তু সেই আলোর আয়ু বেশি সময় থাকে না। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই লালচে আভা ম্লান হয়ে আসে এবং নিথর হয়ে পড়ে, যা দেখে কবির মনে হয়েছে একটি ছোট্ট মনিয়া পাখি যেন প্রাণ হারিয়ে নিস্পন্দ হয়ে গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ের বুকে তলিয়ে গেছে।
💡২. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো” — এখানে কোন কন্যার কথা বলা হয়েছে? কেন এমন উক্তি?
✔️উত্তরঃ কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় এখানে ‘কন্যা’ বলতে বাংলার বুকে নেমে আসা অপরূপ স্নিগ্ধ ‘নীল সন্ধ্যা’কে বোঝানো হয়েছে।
কবি পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছেন, কিন্তু গ্রামবাংলার গোধূলি বা সন্ধ্যার মতো এমন শান্ত, অনুগত ও রহস্যময় রূপ তিনি কোথাও দেখেননি। সন্ধ্যা নামার এই প্রাকৃতিক ঘটনাকে কবি এক ছায়াময়ী নারীর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার অজস্র কালো চুল চারিদিকের গাছপালার ওপর ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলার এই অনন্য রূপ পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তে দেখা যায় না বলেই কবি এমন মন্তব্য করেছেন।
💡৩. “জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে / রূপসীর চুলের বিন্যাসে” — উক্তিটির অন্তর্নিত অর্থ ব্যাখ্যা করো।
✔️উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবি বাংলার সন্ধ্যাকে এক কেশবতী কন্যা হিসেবে কল্পনা করেছেন। রূপক অর্থে, অন্ধকার নেমে আসার ঘটনাটি যেন সেই নারীর মাথার চুল খুলে যাওয়ার মতো। কবি অনুভব করেছেন যে, এই মায়াবী সন্ধ্যারূপী রূপসীর চুলের বিন্যাস থেকে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধ ও সঁদা সুবাস ঝরে পড়ছে। এই গন্ধ আসলে কোনো কৃত্রিম সুগন্ধি নয়, এটি হলো বাংলার চিরন্তন মাটির স্পর্শে মিশে থাকা গাছপালা ও প্রকৃতির নিজস্ব সুবাস।
💡৪. “হিজলে কাঁঠালে জামে ঝরে অবিরত” — কী ঝরে পড়ে এবং তার ফলে কী ঘটে?
✔️উত্তরঃ আলোচ্য পঙক্তিটি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত।
কবি জীবনানন্দ দাশের কল্পনায় বাংলার নীল সন্ধ্যা হলো এক কেশবতী কন্যা। সেই কন্যার অজস্র কালো চুল বা অন্ধকার যেন হিজল, কাঁঠাল আর জাম গাছের পাতার আড়ালে অবিরাম ঝরে পড়ে। এর ফলে চারিদিকের চেনা প্রকৃতি ধীরে ধীরে অন্ধকারের চাদরে ঢাকা পড়ে যায়। গাছপালার ওপর অন্ধকারের এই নিবিড় স্পর্শে এক শান্ত ও রহস্যময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা কবিকে মুগ্ধ করে।
💡৫. “আমি পাই টের” — কবি কী টের পান এবং কখন টের পান?
✔️উত্তরঃ আলোচ্য উক্তিটি কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার অংশ।
দিনের আলো ফুরিয়ে যখন উত্তর আকাশে সপ্তর্ষি মণ্ডল বা সাতটি তারা ফুটে ওঠে, কবি তখন ঘাসের ওপর শান্ত হয়ে বসেন। সেই সময়ে তিনি টের পান যে, বাংলার বুকে এক শান্ত, অনুগত নীল সন্ধ্যা নেমে এসেছে। এই সন্ধ্যার আগমন কবি কেবল চোখ দিয়ে দেখেন না, বরং তার চুলের স্পর্শে প্রকৃতির বুকে যে মায়াবী আবেশ তৈরি হয়, তা তিনি ইন্দ্রিয় দিয়ে গভীরভাবে অনুভব বা টের পান।
💡৬. “বটফলের ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা” — কবি কেন বটফলের গন্ধকে ‘ব্যথিত’ এবং ‘ক্লান্ত’ বলেছেন?
✔️উত্তরঃ আলোচ্য চরণটি কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
পল্লীবাংলার মেঠো পথের ধারে পাকা লাল লাল বটফল মাটিতে ঝরে পড়ে নিথর হয়ে থাকে। রোদ আর বাতাসের সংস্পর্শে এসে সেই ফলগুলো থেকে এক ধরণের সঁদা ও করুণ গন্ধ বের হয়। ঝরে পড়া এই ফলগুলোর নিঃশব্দে নষ্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে এক ধরণের বিষণ্ণতা বা কষ্ট লুকিয়ে থাকে। তাই প্রকৃতির এই অবহেলিত, শান্ত রূপটিকে বোঝাতে কবি বটফলের গন্ধকে ‘ব্যথিত’ এবং সেই পরিবেশকে ‘ক্লান্ত নীরবতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
💡৭. “হাতে কলমা-নাড়া কিশোরীর”— উদ্ধৃতিটির প্রাসঙ্গিকতা কবিতা অনুযায়ী বুঝিয়ে দাও।
✔️উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে ধৃত।
কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার রূপ খুঁজতে গিয়ে কেবল গাছপালা বা আকাশ দেখেননি, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোঁয়াও খুঁজেছেন। গ্রামবাংলার কোনো এক কিশোরী যখন তার শীতল হাতে কলমা শাক বা ধান নাড়াচাড়া করে, তখন তার সেই কর্মব্যস্ত হাত দুটির মধ্যেও কবি বাংলার আসল সৌন্দর্য খুঁজে পান। প্রকৃতির শান্ত রূপের সঙ্গে এই গ্রামীণ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মিলেমিশেই বাংলার প্রকৃত সত্তা গড়ে উঠেছে।
💡৮. “আকাশে সাতটি তারা” কবিতাটিকে একটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা বলা হয় কেন?
✔️উত্তরঃ সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে মোট চৌদ্দটি পঙক্তি বা লাইন থাকে এবং এটি একটি নির্দিষ্ট ভাবকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটিতেও ঠিক চৌদ্দটি লাইন রয়েছে। এর প্রথম আটটি লাইনকে ‘অষ্টক’ (Octave) বলা হয়, যেখানে কবি বাংলার সন্ধ্যার রূপ বর্ণনা করেছেন। আর শেষ ছয়টি লাইনকে ‘ষটক’ (Sestet) বলা হয়, যেখানে কবির অনুভূতির গভীরতা ও ভালোবাসার ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে। এই গাঠনিক মিলের কারণেই কবিতাটি একটি সনেট।
💡৯. “নরম ধানের গন্ধ কলমীর ঘ্রাণ” — এই চরণের মাধ্যমে কবি প্রকৃতির কোন দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন?
✔️উত্তরঃ আলোচ্য অংশটি কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার অন্তর্গত।
এই চরণের মাধ্যমে কবি বাংলার প্রকৃতির এক নিবিড় ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। হেমন্তের শুরুতে মাঠে মাঠে যখন নরম ধান পাকতে শুরু করে, তখন বাতাস এক মিষ্টি সুবাসে ভরে যায়। একই সাথে জলাশয়ের ধারে জন্মানো কলমী শাকের সঁদা গন্ধ চারপাশের পরিবেশকে মায়াবী করে তোলে। কবি দেখাতে চেয়েছেন যে, বাংলার রূপ কেবল দেখার জিনিস নয়, তা ঘ্রাণের মাধ্যমেও হৃদয়ে অনুভব করা যায়।
💡১০. “চাঁদা সরপুঁটিদের মৃদু ঘ্রাণ” — কবি কেন এই ছোট মাছগুলির উল্লেখ করেছেন?
✔️উত্তরঃ আলোচ্য অংশটি জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার অতি সাধারণ এবং তুচ্ছ উপাদানের মধ্যেও অপরূপ সৌন্দর্য খুঁজে পেয়েছেন। বড় কোনো নদীর বদলে তিনি গ্রামের ছোট পুকুর, আর দামি কোনো জিনিসের বদলে পুকুরের জলের চাঁদা ও সরপুঁটির মতো ছোট ছোট মাছের মৃদু গন্ধের কথা বলেছেন। এই অতি সাধারণ উপাদানগুলোই গ্রামবাংলার গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির আসল পরিচয় বহন করে, তাই কবি এদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
💡১১. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় ‘সাতটি তারা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং কবিতার প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব কী?
✔️উত্তর: ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় ‘সাতটি তারা’ বলতে উত্তর আকাশে দৃশ্যমান বিখ্যাত নক্ষত্রমণ্ডল **‘সপ্তর্ষি মণ্ডল’**কে বোঝানো হয়েছে। পুরাণ অনুযায়ী এই সাতটি তারা হলেন সাতজন ঋষি — ক্রতু, পুলহ, পুলস্ত্য, অত্রি, অঙ্গিরা, বশিষ্ঠ ও মরীচি।
কবিতার প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। এই সাতটি তারা ফুটে ওঠার মধ্য দিয়েই দিনের সমাপ্তি এবং বাংলার বুকে শান্ত, মায়াবী ও অনুগত নীল সন্ধ্যার আগমনের সূচনা ঘটে। এই সময়েই কবি প্রকৃতির রূপ, গন্ধ ও অনুভূতির এক অপূর্ব জগৎ আবিষ্কার করেন। তাই কবিতার পরিবেশ সৃষ্টি ও ভাব প্রকাশে ‘সাতটি তারা’ বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
💡১. “আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি পাই টের”— কবি কী টের পান? ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা অবলম্বনে কবি জীবনানন্দ দাশের সেই গভীর অনুভূতির স্বরূপটি নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
✔️উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি যখন ঘাসের ওপর বসেন এবং আকাশে সপ্তর্ষি মণ্ডলের সাতটি তারা ফুটে ওঠে, তখন তিনি প্রকৃতির বুকে এক শান্ত, অনুগত ও মায়াবী ‘নীল সন্ধ্যা’র আগমন টের পান।
কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার সন্ধ্যাকে কেবল বাহ্যিক চোখ দিয়ে দেখেননি, বরং তাঁর সমস্ত ইন্দ্রিয় ও গভীর হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন। কবি টের পান, সূর্যাস্তের পর কামরাঙা-লাল মেঘ যেন এক মৃত মনিয়া পাখির মতো গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ের বুকে তলিয়ে গেছে। আর তারপরেই বাংলার আকাশে নিঃশব্দে এক কেশবতী কন্যা রূপ ধরে নেমে এসেছে অনন্য রূপসী সন্ধ্যা।
সেই কাল্পনিক রূপসী কন্যার ছড়িয়ে পড়া কালো চুলের মায়াবী স্পর্শ যেন হিজল, জাম আর কাঁঠাল গাছের পাতায় পাতায় অবিরত ঝরে পড়ে। এই অন্ধকারের নিবিড় স্পর্শে কবি প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধের এক মায়াবী জগৎ আবিষ্কার করেন। তিনি টের পান নরম ধানের মিষ্টি সুবাস, কলমী শাকের সঁদা ঘ্রাণ, পুকুরের জলের শীতলতা এবং চাঁদা ও সরপুঁটি মাছেদের মৃদু গন্ধ। কবির এই অনুভূতির পরতে পরতে মিশে আছে গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপের প্রতি এক নিবিড় ও আত্মিক ভালোবাসা।
💡২. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”— এখানে ‘কন্যা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? পৃথিবীর কোনো পথ তাকে দেখেনি কেন? কবিতার অনুসরণে এই কন্যারূপের বর্ণনা দাও।
✔️উত্তর: রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় এখানে ‘কন্যা’ বলতে গ্রামবাংলার বুকে নিভৃতে নেমে আসা অনন্য ও স্নিগ্ধ ‘নীল সন্ধ্যা’কে এক রূপক নারীরূপে বোঝানো হয়েছে।
কবি জীবনানন্দ দাশ পৃথিবীর বহু দেশ ও পথ ঘুরেছেন, কিন্তু গ্রামবাংলার গোধূলি বা সন্ধ্যার মতো এমন শান্ত, স্নিগ্ধ ও মায়াবী রূপ তিনি বিশ্বের আর কোথাও দেখেননি। বাংলার এই সন্ধ্যা কোনো কৃত্রিম আড়ম্বর বা কোলাহল ছাড়াই অত্যন্ত নিঃশব্দে ও চেনা নিয়মে প্রকৃতির বুকে নেমে আসে, যা পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তের মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। তাই কবি এমন মন্তব্য করেছেন।
কবিতায় কবি এই সন্ধ্যাকে এক ‘কেশবতী কন্যা’ বা কালো চুল ছড়িয়ে দেওয়া রূপসী নারীরূপে কল্পনা করেছেন। দিনশেষে যখন আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠে, তখন মনে হয় সেই কন্যা যেন তার অজস্র কালো চুল আকাশে মেলে ধরেছে। সেই চুলের কোমল স্পর্শ এবং মায়াবী অন্ধকার অবিরত ঝরে পড়ে বাংলার হিজল, জাম ও কাঁঠাল বনের ওপর। শুধু তাই নয়, সেই কন্যার চুলের বিন্যাস থেকে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধ ও সঁদা সুবাস চারপাশের প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে, যা কবির রোমান্টিক মনকে আচ্ছন্ন ও মুগ্ধ করে তোলে।
💡৩. “বটফলের ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা / এরই মাঝে বাংলার প্রাণ”— ‘বাংলার প্রাণ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? উদ্ধৃত অংশটির আলোকে কবিমনস্কতার পরিচয় দাও।
✔️উত্তর: ‘বাংলার প্রাণ’ বলতে কবি জীবনানন্দ দাশ গ্রামবাংলার অবহেলিত, তুচ্ছ, শান্ত এবং অতি সাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান ও গ্রামীণ জীবনযাত্রার চিরন্তন সত্তাকে বুঝিয়েছেন।
কবি জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির অতি সাধারণ ও তুচ্ছ জিনিসের মধ্যেও এক গভীর মহিমা খুঁজে পেয়েছেন। মেঠো পথের ধারে ঝরে পড়া লাল লাল পাকা বটফল যখন মাটিতে নিথর হয়ে পড়ে থাকে, তখন রোদ আর বাতাসের স্পর্শে তা থেকে এক ধরণের করুণ ও সঁদা গন্ধ বের হয়। এই নিস্তব্ধ ও অবহেলিত রূপের মধ্যেই কবি এক ‘ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা’ খুঁজে পান, যা আসলে চিরন্তন গ্রামবাংলারই এক শান্ত ছবি।
কবির দৃষ্টি কেবল প্রকৃতির গাছপালাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা মিশে গেছে গ্রামীণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ছোঁয়ায়। কিশোরের পায়ে দলা মুথা ঘাসের গন্ধ কিংবা ধান ও কলমা শাক নাড়াচাড়া করা গ্রাম্য কিশোরীর শান্ত ও শীতল হাতের স্পর্শের মাঝেই কবি বাংলার প্রকৃত সত্তা বা প্রাণকে খুঁজে পেয়েছেন। এই উক্তি থেকে কবির গভীর দেশপ্রেম এবং প্রকৃতির অতি সাধারণ উপাদানকে ভালোবাসার এক অনন্য কবিমনস্কতার পরিচয় পাওয়া যায়। চেনা রূপ-রস-গন্ধের এই চাদরেই যে বাংলার আসল প্রাণ লুকিয়ে আছে, কবি তা নিবিড়ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
💡৪. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি জীবনানন্দ দাশের বঙ্গপ্রকৃতি–প্রীতির পরিচয় দাও।
✔️উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বাংলার প্রকৃতি ও পল্লীজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় তিনি গ্রামবাংলার শান্ত, স্নিগ্ধ ও মায়াময় প্রকৃতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার পরিচয় দিয়েছেন।
আকাশে সাতটি তারা ফুটে উঠলে কবি বাংলার বুকে নেমে আসা শান্ত নীল সন্ধ্যার আগমন অনুভব করেন। তিনি এই সন্ধ্যাকে এক ‘কেশবতী কন্যা’রূপে কল্পনা করেছেন, যার অজস্র কালো চুল হিজল, জাম ও কাঁঠাল গাছের ওপর ঝরে পড়ে। সূর্যাস্তের কামরাঙা-লাল মেঘকে মৃত মনিয়া পাখির সঙ্গে তুলনা করে কবি প্রকৃতির রূপকে আরও জীবন্ত করে তুলেছেন।
কবির প্রকৃতি-প্রীতি শুধু দৃশ্যবর্ণনায় সীমাবদ্ধ নয়; তিনি বাংলার প্রকৃতিকে ঘ্রাণ ও অনুভূতির মাধ্যমেও উপলব্ধি করেছেন। নরম ধানের গন্ধ, কলমীর ঘ্রাণ, পুকুরের সঁদা জল, চাঁদা ও সরপুঁটি মাছের মৃদু গন্ধ— এই সব সাধারণ উপাদানের মধ্যেই কবি বাংলার প্রাণ খুঁজে পেয়েছেন। এমনকি মেঠো পথে কিশোরের পায়ে দলা মুথা ঘাস, ঝরে পড়া বটফলের ব্যথিত গন্ধ এবং গ্রাম্য কিশোরীর শীতল হাতও তাঁর কাছে বাংলার প্রকৃত সৌন্দর্যের অংশ হয়ে উঠেছে।
কবি মনে করেছেন, পৃথিবীর অন্য কোথাও বাংলার মতো এমন শান্ত ও মায়াবী প্রকৃতি নেই। তাই তিনি বলেছেন— “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”।
পরিশেষে বলা যায়, ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় জীবনানন্দ দাশ বাংলার প্রকৃতির রূপ, গন্ধ, অনুভূতি ও গ্রামীণ জীবনের সহজ সৌন্দর্যকে গভীর মমতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। এই কবিতাটি তাঁর গভীর বঙ্গপ্রকৃতি-প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.
<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>

