✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. "ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবার সময় নেই" ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা সময় নেই কারণ -
(ক) মুহূর্তের জন্যও শান্তি ছিল না | (খ) তারা জাগতিক সুখ দুঃখ নিয়েই ব্যস্ত | (গ) ৫০ বছর ধরে সুখ খুঁজেছে | (ঘ) মনে দুশ্চিন্তা ছিল তাই
উত্তর: (খ) তারা জাগতিক সুখ দুঃখ নিয়েই ব্যস্ত |
২. "বন্ধুগণ হাসবেন না" - বন্ধুদের না হাসার কারণটি হলো-
(ক) কথাগুলি সব পবিত্র গ্রন্থে লেখা আছে | (খ) কথাগুলি সবই সত্য | (গ) এটা তামাশা নয়। এটাই মানুষের জীবন | (ঘ) অতিথিদের ভাবনা
উত্তর: (গ) এটা তামাশা নয়। এটাই মানুষের জীবন |
৩. "এ বিষয়ে তিনিই পুরো সত্য বলতে পারবেন" - সত্যটি বলেছিলেন -
(ক) মহম্মদ শা | (খ) ইলিয়াস | (গ) অতিথি | (ঘ) শামশেমাগি
উত্তর: (ঘ) শামশেমাগি |
৪. "সুখ খুঁজে খুঁজে এতদিনে পেয়েছি" - সুখ খুঁজেছেন -
(ক) অর্ধশতাব্দী ধরে | (খ) কুড়ি বছর আগে | (গ) ৫০ বছর ধরে | (ঘ) কল্যাণের জন্য
উত্তর: (গ) ৫০ বছর ধরে |
৫. "লোকটিকে কখনো চোখে দেখেনি, কিন্তু তার সুনাম ছড়িয়ে ছিল বহুদূর" - উক্তিটি কার ছিল?
(ক) গৃহস্বামীর | (খ) শামশেমাগির | (গ) অতিথির | (ঘ) ইলিয়াসের
উত্তর: (গ) অতিথির |
৬. "দুর্দশার একেবারে চরমে নেমে গেল" - দুর্দশা চরমে নেমে গেল -
(ক) যখন ঘরের আত্মীয় সমাগম হলো | (খ) যখন গ্রীষ্মকাল | (গ) ইলিয়াসের ৭০ বছর বয়সে | (ঘ) অতিথির কোথায়
উত্তর: (গ) ইলিয়াসের ৭০ বছর বয়সে |
৭. "এখনকার দুরাবস্থার কথা ভাবে কি খুব কষ্ট হচ্ছে?" - এ কথাটি কে বলেছিলেন?
(ক) মোল্লা অতিথিদের | (খ) ইলিয়াস বড় ছেলেকে | (গ) মহম্মদ শা ইলিয়াসকে | (ঘ) অতিথি ইলিয়াসের স্ত্রীকে
উত্তর: (ঘ) অতিথি ইলিয়াসের স্ত্রীকে |
৮. "কখনো সুখ পাইনি" - সুখ পায়নি কখন?
(ক) যখন দুশ্চিন্তা করেছেন | (খ) যখন ধনী ছিলেন | (গ) শীতকালে | (ঘ) যখন সম্পত্তি হারিয়েছিলেন
উত্তর: (খ) যখন ধনী ছিলেন |
৯. "আগেকার সুখ আর এখনকার দুঃখ সম্পর্কে তোমার মনের কথা বলতো।" - একথা বলেছে -
শামশেমাগি | অতিথি | মহম্মদ শা | ইলিয়াস
উত্তর: অতিথি |
১০. "এছাড়াও যদি কখনো কিছু লাগে, বলবে তাও দেবে" - এই কথাটি কে বলেছিল?
(ক) ইলিয়াস | (খ) মোল্লা | (গ) মহম্মদ শা | (ঘ) অতিথি
উত্তর: (গ) মহম্মদ শা |
১১. "সে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়ল" - সর্বহারা হয়েছিল কখন?
(ক) মেয়েটি মারা যাওয়ার পর | (খ) আসল অবস্থা বুঝে উঠবার আগেই | (গ) শরীরের জোর কমে গেলে | (ঘ) বড় ছেলে মারা যাওয়ার পর
উত্তর: (খ) আসল অবস্থা বুঝে উঠবার আগেই |
১২. "সম্বলের মধ্যে রইল শুধু কাঁধে একটা বোঁচকা" - বোঁচকায় ছিল -
(ক) কম্বল, ঘোড়ার জিন, তাবু | (খ) লোমের তৈরি কোর্ট, জুতো, আর বুট | (গ) চা, কুমিস, মাংস, শরবত | (ঘ) অনেক মূল্যবান জিনিস
উত্তর: (খ) লোমের তৈরি কোর্ট, জুতো, আর বুট |
১৩. "তার সবচাইতে ভালো ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে গেল" - ঘোড়াগুলি চুরি করেছিল কারা?
(ক) কিরবিজরা | (খ) ইলিয়াসের বিতাড়িত পুত্র | (গ) ইলিয়াস | (ঘ) অতিথিরা
উত্তর: (ক) কিরবিজরা |
১৪. "ইলিয়াস প্রতিবেশীকে ধন্যবাদ দিল"-ইলিয়াসের প্রতিবেশী কে ছিল?
(ক) মোল্লা | (খ) মহম্মদ শা | (গ) অতিথিরা | (ঘ) শামশেমাগি
উত্তর: (খ) মহম্মদ শা |
১৫. "যখন তার বাবা মারা গেল সে না ধনী, না দরিদ্র"-কার কথা বলা হয়েছে -
(ক) অতিথিরা | (খ) শামশেমাগি | (গ) মোল্লা | (ঘ) ইলিয়াস
উত্তর: (ঘ) ইলিয়াস |
১৬. "ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সর্বহারা হয়েও সুখে আছে"-এটিই তাদের ঈর্ষার কারণ
(ক) ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সর্বহারা হয়েও সুখে আছে | (খ) তাদের কল্যাণের জন্য এ কথা বলেছে তারা | (গ) অর্ধশতাব্দী ধরে তারা সুখ খুঁজেছে | (ঘ) আজ তারা সুখের সন্ধান পেয়েছে
উত্তর: (ক) ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সর্বহারা হয়েও সুখে আছে |
১৭. "এটা তামাশা নয়, এটাই মানুষের জীবন"-উক্তিটি বলেছিল -
(ক) ইলিয়াস | (খ) মোল্লা | (গ) মহম্মদ শা | (ঘ) অতিথি
উত্তর: (গ) মহম্মদ শা |
১৮. "এই হল আমার মনের কথা"-মনের কথাটি কি?
(ক) যখন আমরা ভারতে মানুষের মতন বেঁচে আছি, তখন আমরা পেয়েছি সত্যি কারের সুখ | (খ) বুড়ো বা আমার এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি ছিল না | (গ) ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব সময় নেই | (ঘ) একটা দুশ্চিন্তা পেরোতেই আর একটা এসে মাথায় চাড়া দিত
উত্তর: (ক) যখন আমরা ভারতে মানুষের মতন বেঁচে আছি, তখন আমরা পেয়েছি সত্যি কারের সুখ |
১৯. "ইলিয়াস, তুমি আমার বাড়ি এসে আমার সঙ্গে থাকো"-একথাটি বলেছিল -
(ক) মোল্লা | (খ) শামশেমাগি | (গ) মহম্মদ শা | (ঘ) অতিথিরা
উত্তর: (গ) মহম্মদ শা |
২০. "ইলিয়াসের বাড়ি থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হলো"-তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার কারণ -
(ক) ছোট ছেলে ঝগড়াটে বউ বিয়ে করে বাপের আদেশ অমান্য করেছিল | (খ) গরু মোষ অনেক মারা গিয়েছিল | (গ) ছোট ছেলে মারামারি করছিল | (ঘ) ভেড়ার পালে মড়ক লেগেছিল
উত্তর: (ক) ছোট ছেলে ঝগড়াটে বউ বিয়ে করে বাপের আদেশ অমান্য করেছিল |
২১. "পাশের পাশের সকলেই তাকে ঈর্ষা করে"-ঈর্ষা করার কারণটি হলো-
(ক) ইলিয়াসের নাম যশ প্রচুর | (খ) ইলিয়াসের তখন খুব বোলবোলাও | (গ) ইলিয়াস ভাগ্যবান পুরুষ | (ঘ) ইলিয়াস প্রচুর সম্পত্তির মালিক
উত্তর: (খ) ইলিয়াসের তখন খুব বোলবোলাও |
২২. "পঁইত্রিশ বছর পরিশ্রম করে সে প্রচুর সম্পত্তি করে ফেলল"-ইলিয়াসের সম্পত্তি বলতে ছিল-
(ক) সাতটা ঘোটকী দুটো গরু আর কুড়িটা ভেড়া | (খ) চারটি ঘোটকী, পাঁচটা গরু, হাজারটা ভেড়া | (গ) দুশো ঘোড়া, দেড়শ গরু মোষ, আর বারোশো ভেড়া | (ঘ) তিন ঘোড়া, একশো মোষ, পনেরশো ভেড়া
উত্তর: (গ) দুশো ঘোড়া, দেড়শ গরু মোষ, আর বারোশো ভেড়া |
২৩. "এইতার যা কিছুই বিষয়-সম্পত্তি"-এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
(ক) অতিথি | (খ) মহম্মদ শা | (গ) শামশেমাগি | (ঘ) ইলিয়াস
উত্তর: (ঘ) ইলিয়াস |
২৪. "ইলিয়াস নামে একজন বাসকির বাস করত"-ইলিয়াস বাস করত কোথায়?
(ক) ব্রিটেনে | (খ) উফা প্রদেশ | (গ) রাশিয়ায় | (ঘ) মস্কোয়
উত্তর: (খ) উফা প্রদেশ |
২৫. "দুর্দশা একেবারে চরমে নেমে গেল"– দুর্দশা চরমে নেমে গিয়েছিল কখন?
(ক) যখন ঘরের আত্মীয় এসেছিল (খ) গ্রীষ্মকালে (গ) ইলিয়াসের ৭০ বছরে (ঘ) অতিথির মন্তব্যে
উত্তরঃ (গ) ইলিয়াসের ৭০ বছরে।
২৬. "কখনো সুখ পাইনি"– সুখ পায়নি কখন?
(ক) যখন চিন্তা ছিল (খ) যখন তার কাছে ধনসম্পত্তি ছিল (গ) শীতের সময় (ঘ) যখন তার সম্পত্তি হারিয়েছিল
উত্তরঃ (খ) যখন তার কাছে ধনসম্পত্তি ছিল।
২৭. "আগেকার সুখ আর বর্তমানের দুঃখ নিয়ে মনের কথা বলতো"– এই কথা কে বলেছিল?
(ক) শাম শেমাগি (খ) অতিথি (গ) মহম্মদ শা (ঘ) ইলিয়াস
উত্তরঃ (খ) অতিথি।
২৮. "ইলিয়াস তাকে একটি বাড়ি দিল, কিছু গরু ও ঘোড়া দিল"– ইলিয়াস এই উপহারটি দিয়েছিল—
(ক) তার একমাত্র মেয়েকে (খ) তার বড়ো ছেলেকে (গ) তার ছোটো ছেলেকে (ঘ) মহম্মদ শা নামের প্রতিবেশীকে
উত্তরঃ (গ) তার ছোটো ছেলেকে।
২৯. "এছাড়া, যদি কখনো কিছু প্রয়োজন হয়, জানাবেন, তাও দেব"– এই কথাটি কে বলেছিল?
(ক) ইলিয়াস (খ) মোল্লা (গ) মহম্মদ শা (ঘ) অতিথি
উত্তরঃ (গ) মহম্মদ শা।
৩০. "সে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়ল" – সর্বহারা হয়ে পড়েছিল—
(ক) মেয়ে মারা যাওয়ার পর (খ) পরিস্থিতি বুঝতে না পারার আগেই (গ) শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে (ঘ) বড় ছেলে মারা যাওয়ার পর
উত্তরঃ (খ) পরিস্থিতি বুঝতে না পারার আগেই।
৩১. "সম্বলের মধ্যে কেবল একটি বোঁচকা ছিল"– বোঁচকায় কী ছিল?
(ক) কম্বল, ঘোড়ার জিন, তাবু (খ) লোমের তৈরি কোর্ট, জুতো, বুট (গ) চা, কুমিস, মাংস, শরবত (ঘ) অনেক মূল্যবান জিনিস
উত্তরঃ (খ) লোমের তৈরি কোর্ট, জুতো, বুট।
৩২. "তার সেরা ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে গেল"– ঘোড়াগুলো চুরি করেছিল—
(ক) কিরবিজরা (খ) ইলিয়াসের বিতাড়িত পুত্র (গ) ইলিয়াস (ঘ) অতিথিরা
উত্তরঃ (ক) কিরবিজরা।
৩৩. "ইলিয়াস তার প্রতিবেশীকে ধন্যবাদ দিল"– ইলিয়াসের প্রতিবেশী ছিল—
(ক) মোল্লা (খ) মহম্মদ শা (গ) অতিথিরা (ঘ) শাম শেমাগি
উত্তরঃ (খ) মহম্মদ শা।
৩৪. "ইলিয়াস নামে একজন বাসকির বাস করত"– ইলিয়াস কোথায় বাস করত?
(ক) ব্রিটেনে (খ) উফা প্রদেশে (গ) রাশিয়ায় (ঘ) মস্কোয়ে
উত্তরঃ (খ) উফা প্রদেশে।
৩৫. "অতিথিরা বিস্মিত"– অতিথিদের বিস্মিত হওয়ার কারণ ছিল—
(ক) ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সর্বহারা হয়ে সুখী ছিল (খ) তারা কল্যাণের জন্য কথা বলেছিল (গ) তারা দীর্ঘদিন ধরে সুখ খুঁজছিল (ঘ) আজ তারা সুখের সন্ধান পেয়েছিল
উত্তরঃ (ক) ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সর্বহারা হয়ে সুখী ছিল।
৩৬. "আমাদের সাথে কিছু কুমিস পান করবেন?"– এই কথাটি বলেছিল—
(ক) মহম্মদ শা ইলিয়াসকে (খ) মহম্মদ শা অতিথিকে (গ) মহম্মদ শা মোল্লাকে (ঘ) মহম্মদ শা শাম শেমাগি
উত্তরঃ (ক) মহম্মদ শা ইলিয়াসকে।
৩৭. "এই সম্পন্ন মানুষ দুটির দুর্দশা দেখে মহম্মদ শার দুঃখ হতো"– এখানে সম্পন্ন মানুষ দুটি কারা ছিল?
(ক) ইলিয়াসের দুই ছেলে (খ) ইলিয়াস ও তার স্ত্রী (গ) মোল্লা ও তার স্ত্রী (ঘ) মোহাম্মদ শা ও তার স্ত্রী
উত্তরঃ (খ) ইলিয়াস ও তার স্ত্রী।
৩৮. "একদল আত্মীয় অনেক দূর থেকে এসে তার বাড়িতে অতিথি হলেন"– আত্মীয়রা কোথায় এসেছিল—
(ক) ইলিয়াসের কাছে (খ) মোল্লার কাছে (গ) ইলিয়াসের মেয়ে (ঘ) মহম্মদ শার কাছে
উত্তরঃ (ঘ) মহম্মদ শার কাছে।
৩৯. ইলিয়াসের বড়ো ছেলেটি মারা গিয়েছিল—
(ক) প্রবল জ্বরে (খ) কলেরা রোগে (গ) ক্যানসারে (ঘ) মারামারি করতে গিয়ে
উত্তরঃ (ঘ) মারামারি করতে গিয়ে।
৪০. কত বছরের পরিশ্রমে ইলিয়াস প্রচুর সম্পত্তি বানিয়েছিল?
(ক) ৩০ বছর (খ) ৩২ বছর (গ) ৩৪ বছর (ঘ) ৩৫ বছর
উত্তরঃ (ঘ) ৩৫ বছর।
৪১. "যখন তার বাবা মারা গেল, সে না ধনী, না দরিদ্র"– এটি কার কথা ছিল?
(ক) অতিথিরা (খ) শামশেমাগি (গ) মোল্লা (ঘ) ইলিয়াস
উত্তরঃ (ঘ) ইলিয়াস।
৪২. “এখনকার দুরাবস্থার কথা ভেবে কি খুব কষ্ট হচ্ছে?” – এ কথাটি কে বলেছিলেন?
(ক) মোল্লা অতিথিদের | (খ) ইলিয়াস বড় ছেলেকে | (গ) মহম্মদ শা ইলিয়াসকে | (ঘ) অতিথি ইলিয়াসের স্ত্রীকে
উত্তর: (ঘ) অতিথি ইলিয়াসের স্ত্রীর কাছে।
৪৩. “ইলিয়াসের সবচাইতে ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল”–
(ক) কিরবিজরা | (খ) কজারিকা | (গ) প্রতিবেশীরা | (ঘ) মহম্মদ শা
উত্তর: (ক) কিরবিজরা।
৪৪. “বুড়ো বুড়িকে রেখে মহম্মদ শার লাভ হল”– কারণ—
(ক) তারা সব কাজই ভালোভাবে করতে পারত | (খ) একদিন তারা ছিল মনিব | (গ) তারা সাধ্যমতো কাজকর্ম করত | (ঘ) তারা অলস নয়
উত্তর: (ক) তারা সব কাজই ভালোভাবে করতে পারত।
৪৫. “বড়লোক হওয়ার পরে তারা আয়েশি হয়ে উঠল”– আয়েশি হয়ে উঠেছিল কারা?
(ক) ইলিয়াসের ছেলেমেয়েরা | (খ) মহম্মদ শা এবং তার স্ত্রী | (গ) ইলিয়াস ও তার স্ত্রী | (ঘ) অতিথিরা
উত্তর: (ক) ইলিয়াসের ছেলেমেয়েরা।
৪৬. “ইলিয়াস, তুমি আমার বাড়ি এসে আমার সঙ্গে থাকো”– এই কথাটি বলেছিল–
(ক) মোল্লা | (খ) শাম শেমাগি | (গ) মহম্মদ শা | (ঘ) অতিথিরা
উত্তর: (গ) মহম্মদ শা।
৪৭. “পাশেপাশের সকলেই তাকে ঈর্ষা করে” – ঈর্ষা করার কারণ—
(ক) ইলিয়াসের নাম ও খ্যাতি প্রচুর | (খ) ইলিয়াস তখন খুব বোলবোলা ছিল | (গ) ইলিয়াস ভাগ্যবান পুরুষ ছিল | (ঘ) ইলিয়াস প্রচুর সম্পত্তির মালিক ছিল
উত্তর: (খ) ইলিয়াস তখন খুব বোলবোলা ছিল।
৪৮. “এই তার যা কিছুই বিষয়-সম্পত্তি”–এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
(ক) অতিথি | (খ) মহম্মদ শা | (গ) ইলিয়াস | (ঘ) শাম শেমাগি
উত্তর: (গ) ইলিয়াস।
৪৯. “বন্ধুরা হাসবেন না। এটা তামাশা নয়।”– এটি কার উক্তি ছিল?
(ক) ইলিয়াসের | (খ) মোল্লার | (গ) শাম-শেমাগির | (ঘ) মহম্মদ শা-র
উত্তর: (ক) ইলিয়াসের উক্তি।
৫০. “বন্ধুরা হাসবেন না”– বন্ধুদের হাসা উচিত নয় এর কারণ—
(ক) কথাগুলি পবিত্র গ্রন্থে লেখা আছে | (খ) কথাগুলি সবই সত্য | (গ) এটি তামাশা নয়, মানুষের জীবন | (ঘ) অতিথিদের চিন্তা
উত্তর: (গ) এটি তামাশা নয়, মানুষের জীবন।
৫১. “এ বিষয়ে তিনিই পুরো সত্য বলতে পারবেন”– সত্যটি কে বলেছিলেন?
(ক) মহম্মদ শা | (খ) ইলিয়াস | (গ) অতিথি | (ঘ) শাম শেমাগি
উত্তর: (ঘ) শাম শেমাগি।
৫২. “সুখ খুঁজে খুঁজে এতদিনে পেয়েছি”– বক্তা সুখ খুঁজেছেন–
(ট) অর্ধশতাব্দী ধরে | (খ) কুড়ি বছর আগে | (গ) ৫০ বছর ধরে | (ঘ) কল্যাণের জন্য
উত্তর: (গ) ৫০ বছর ধরে।
৫৩. “লোকটিকে কখনো চোখে দেখেনি, কিন্তু তার সুনাম ছড়িয়ে ছিল বহুদূর”– এই উক্তিটি কার ছিল?
(ক) গৃহস্বামীর | (খ) শাম শেমাগির | (গ) অতিথির | (ঘ) ইলিয়াসের
উত্তর: (গ) অতিথির।
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. অতিথিরা ইলিয়াসের স্ত্রীর কাছে কী জানতে চেয়েছিলেন?
উত্তরঃ- অতিথিরা ইলিয়াসের স্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, একসময়ের সুখী জীবন ছেড়ে এখনকার কষ্টের জীবন কেমন লাগছে এবং এই পরিবর্তন তার মনে কী প্রভাব ফেলেছে।
২. "এ তল্লাটের সবচেয়ে ধনী ছিল"—কে ধনী ছিল?
উত্তরঃ- লিও তলস্তয়ের ইলিয়াস গল্পে উল্লিখিত বাক্যে ইলিয়াসের কথাই বলা হয়েছে। একসময় সে ছিল এলাকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।
৩. মুহম্মদ শার বাড়িতে আসা আত্মীয়দের মধ্যে একজন জাতিতে কী ছিলেন?
উত্তরঃ- মুহম্মদ শার বাড়িতে আসা অতিথিদের মধ্যে একজন ছিলেন মুসলিম পণ্ডিত বা মোল্লা সাহেব।
৪. "তা ছাড়া তারা অলস নয়"—কারা অলস নয়?
উত্তরঃ- লিও তলস্তয়ের ইলিয়াস গল্পের এই উদ্ধৃতাংশে বৃদ্ধ ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগির কথা বলা হয়েছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করত এবং অলস ছিল না।
৫. "ক্রমে ক্রমে সব সয়ে গেল"—কার কী সয়ে গেল?
উত্তরঃ- ইলিয়াস ও তার স্ত্রী প্রথমদিকে ভাড়াটে মজুরের মতো কঠোর পরিশ্রম করতে কষ্ট পেত, তবে ধীরে ধীরে তারা সেই জীবনযাত্রার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
৬. ইলিয়াস ও তার স্ত্রী মুহম্মদ শার বাড়িতে কীসের মতো কাজ করত?
উত্তরঃ- ইলিয়াস ও তার স্ত্রী মুহম্মদ শার বাড়িতে ভাড়াটে মজুরের মতো কঠোর পরিশ্রম করত।
৭. ইলিয়াসের স্ত্রীর জন্য মুহম্মদ শা কী কাজ দিয়েছিল?
উত্তরঃ- মুহম্মদ শা ইলিয়াসের স্ত্রীকে ঘোটকীদের দুধ দোয়ানো ও কুমিস তৈরির কাজ দিয়েছিল।
৮. মুহম্মদ শা ইলিয়াসকে কী কাজ দিল?
উত্তরঃ- মুহম্মদ শা গ্রীষ্মকালে ইলিয়াসকে তরমুজের খেত দেখাশোনা করার ও শীতকালে গরু-ঘোড়াদের খাওয়ানোর কাজ দিয়েছিল।
৯. বৃদ্ধ ইলিয়াসকে দেখে তার প্রতি কার করুণা হয়েছিল?
উত্তরঃ- বৃদ্ধ ইলিয়াসকে দেখে প্রতিবেশী মুহম্মদ শার করুণা হয়েছিল।
১০. বৃদ্ধ বয়সে ইলিয়াসের সম্বল বলতে কী রইল?
উত্তরঃ- বৃদ্ধ বয়সে ইলিয়াসের সম্বল বলতে ছিল একটি লোমের তৈরি কোট, টুপি, জুতো ও বুট সমেত একটি বোঁচকা এবং তার স্ত্রী শাম-শেমাগি।
১১. ইলিয়াসের স্ত্রীর নাম কী?
উত্তরঃ- ইলিয়াসের স্ত্রীর নাম ছিল শাম-শেমাগি।
১২. বৃদ্ধ বয়সে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী কোথায় বাস করত ও কীভাবে খাবার জোগাড় করত?
উত্তরঃ- বৃদ্ধ বয়সে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী অপরিচিত লোকের বাড়িতে বাস করত এবং সেখানকার যাবতীয় কাজ করে খাবার জোগাড় করত।
১৩. সত্তর বছর বয়সে দুর্দশার চরমে নেমে ইলিয়াস কী কী বিক্রি করতে বাধ্য হল?
উত্তরঃ- সত্তর বছর বয়সে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়ে ইলিয়াস তার পশমের কোট, কম্বল, ঘোড়ার জিন, তাবু ও গৃহপালিত পশুগুলি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল।
১৪. ইলিয়াসের অনেক ভেড়ার কীভাবে মৃত্যু ঘটল?
উত্তরঃ- ভেড়ার পালে মড়ক লাগার কারণে ইলিয়াসের অনেক ভেড়া মারা গিয়েছিল।
১৫. "ইলিয়াসের সম্পত্তিতে টান পড়ল"—কেন?
উত্তরঃ- ছোট ছেলে বাবার কথা না শুনে একটি মুখরা মেয়েকে বিয়ে করায় ইলিয়াস তাকে বাড়ি ও কিছু গরু-ঘোড়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এতে ইলিয়াসের সম্পত্তিতে টান পড়ে।
১৬. "বাড়ি থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হলো"—কারা ও কেন বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলো?
উত্তরঃ- ইলিয়াসের ছোট ছেলে বাবার আদেশ অমান্য করে একটি মুখরা মেয়েকে বিয়ে করায় তাকে ও তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
১৭. ইলিয়াস কোন জনগোষ্ঠীর মানুষ ছিলেন?
উত্তরঃ- ইলিয়াস বাস্কির জনগোষ্ঠীর মানুষ ছিলেন।
১৮. ইলিয়াস কোথায় বসবাস করত?
উত্তরঃ- ইলিয়াস উফা প্রদেশে বসবাস করত।
১৯. "ইলিয়াস" গল্পের লেখক কে?
উত্তরঃ "ইলিয়াস" গল্পটি রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয় রচনা করেছেন।
২০. "ইলিয়াস" গল্পটি বাংলায় কে অনুবাদ করেছেন?
উত্তরঃ এই গল্পটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন মণীন্দ্র দত্ত।
২১. গল্পে কাকে ‘বাবাই’ বলে ডাকা হয়েছে?
উত্তরঃ বৃদ্ধ ইলিয়াসকে ‘বাবাই’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
২২. "ফলে সারারাত ঘুমই ছিল না।"— ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর ঘুম না হওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তরঃ গৃহপালিত পশুগুলোর ক্ষতির আশঙ্কায় ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর সারারাত ঠিকমতো ঘুম হতো না।
২৩. "কথা বলবার সময় নেই।"— কখন ইলিয়াসের কথা বলার সময় ছিল না?
উত্তরঃ যখন ইলিয়াস ধনী ছিলেন, তখন নানা কাজের চাপে তার ও তার স্ত্রীর কথা বলার সময় পর্যন্ত থাকত না।
২৪. ইলিয়াসের মূল্যবান ঘোড়াগুলি কারা চুরি করেছিল?
উত্তরঃ ‘কিরবিজ’ জাতির লোকেরা ইলিয়াসের সবচেয়ে ভালো ঘোড়াগুলো চুরি করেছিল।
২৫. ইলিয়াস অতিথিদের কী দিয়ে আপ্যায়ন করতেন?
উত্তরঃ ইলিয়াস অতিথিদের কুমিস, শরবত ও মাংসসহ নানা সুস্বাদু খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করতেন।
২৬. "সকলেই তাকে ঈর্ষা করে।"— কাকে এবং কেন সবাই ঈর্ষা করত?
উত্তরঃ ইলিয়াস ছিলেন ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি, তাই তার প্রতিপত্তি দেখে সবাই তাকে ঈর্ষা করত।
২৭. "অন্যদিকে দুশ্চিন্তা"— এখানে কোন দুশ্চিন্তার কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ নেকড়ে বা চোর এসে তার গৃহপালিত পশু চুরি করে নিয়ে যেতে পারে— এই আশঙ্কাই দুশ্চিন্তার কারণ ছিল।
২৮. "অতিথিরা বিস্মিত"— কেন তারা বিস্মিত হয়েছিল?
উত্তরঃ শাম-শেমাগির মুখে ধনী জীবনের কষ্ট ও গরিব জীবনের সুখের কথা শুনে অতিথিরা বিস্মিত হয়েছিল।
২৯. ইলিয়াসের বড়ো ছেলে কীভাবে মারা যায়?
উত্তরঃ এক মারামারির ঘটনায় ইলিয়াসের বড়ো ছেলেটির মৃত্যু ঘটে।
৩০. "তারা আয়েশি হয়ে উঠল"— কারা এবং কখন আয়েশি হয়ে উঠেছিল?
উত্তরঃ ইলিয়াস ধনী হওয়ার পর তার ছেলেরা আর কোনো পরিশ্রম না করে বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
৩১. যখন ইলিয়াস দরিদ্র ছিল, তখন তার ছেলেরা কীভাবে সাহায্য করত?
উত্তরঃ তারা বাবার সঙ্গে গরু-ভেড়া চরিয়ে সংসারের কাজে সাহায্য করত।
৩২. ইলিয়াসের কয়টি সন্তান ছিল?
উত্তরঃ ইলিয়াসের দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছিল, অর্থাৎ মোট তিনটি সন্তান ছিল।
৩৩. "দূরদূরান্ত থেকে অতিথিরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসে।"— এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ বিপুল সম্পত্তির অধিকারী ইলিয়াসের সঙ্গে দূরদূরান্ত থেকে অতিথিরা দেখা করতে আসত।
৩৪. "ওর তো মরবারই দরকার নেই।"— কার সম্পর্কে এমন বলা হয়েছিল এবং কেন?
উত্তরঃ প্রতিবেশীরা বলেছিল যে ইলিয়াসের মৃত্যু প্রয়োজন নেই, কারণ তিনি এত ধনী ছিলেন যে তার জীবনে কোনো কিছুর অভাব ছিল না।
৩৫. ইলিয়াস কত বছর পরিশ্রম করে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েছিল?
উত্তরঃ ইলিয়াস পঁয়ত্রিশ বছর কঠোর পরিশ্রম করে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছিল।
৩৬. "এই তার যা কিছু বিষয়-সম্পত্তি"— এখানে কোন সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ উদ্ধৃতাংশে সাতটি ঘোটকী, দুটি গরু ও কুড়িটি ভেড়ার কথা ইলিয়াসের সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
১. "ইলিয়াসের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ল।"— কীভাবে ইলিয়াসের অবনতি ঘটল?
উত্তর: ইলিয়াস যখন দরিদ্র ছিলেন, তখন তাঁর পুত্ররা বাবার সঙ্গে পরিশ্রম করত। কিন্তু সম্পদের বৃদ্ধি পেলে ছেলেরা বিলাসী হয়ে ওঠে এবং কাজ করা বন্ধ করে দেয়। একসময় ইলিয়াস তাদের সম্পত্তির ভাগ দিয়ে আলাদা করে দিলে তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি কমে যায়। এরপর দুর্ভিক্ষ ও মহামারির প্রকোপে অনেক গৃহপালিত পশু মারা যায়, আর ‘কিরবিজ’ জাতির লোকেরা তাঁর সেরা ঘোড়াগুলি চুরি করে নিয়ে যায়। এইভাবে ইলিয়াস ধীরে ধীরে দারিদ্র্যের শিকার হন এবং সত্তর বছর বয়সে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
২. "অতিথিরা বিস্মিত।"— কী কারণে তারা অবাক হয়েছিলেন?
উত্তর: লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে, এক অতিথি ইলিয়াসের অতীত ও বর্তমান জীবনের সুখ-দুঃখ সম্পর্কে জানতে চান। উত্তরে ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি জানান যে, প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েও তারা প্রকৃত সুখ পাননি। তবে সর্বস্ব হারিয়ে সাধারণ মজুরের জীবন কাটাতে গিয়ে তারা সত্যিকারের শান্তি ও সুখ অনুভব করেছেন। এই কথাগুলো শুনে অতিথিরা বিস্মিত হয়ে পড়েন।
৩. "ইলিয়াসের তখন খুব বোলবোলাও"— এখানে ‘বোলবোলাও’ শব্দের অর্থ কী? উদ্ধৃতির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বোলবোলাও’ শব্দের অর্থ প্রতিপত্তি বা প্রভাব।
ইলিয়াস দীর্ঘ ৩৫ বছর কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর সম্পদের মালিক হন। তাঁর মালিকানায় ছিল ২০০টি ঘোড়া, ১৫০টি গোরু-মোষ এবং ১২০০টি ভেড়া। প্রচুর ভাড়াটে মজুর তাঁর পশুগুলোর দেখাশোনা করত, আর মজুরানীরা দুধ দোহন ও দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি করত। তাঁর প্রতিপত্তি দেখে প্রতিবেশীরা ঈর্ষান্বিত হতো। এইভাবে ইলিয়াস সমাজে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
৪. "দূর দূরান্ত থেকে অতিথিরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসে।"— অতিথিরা কাকে দেখতে আসত, এবং কীভাবে তাঁদের আপ্যায়ন করা হতো?
উত্তর: ইলিয়াস ধনী হওয়ার পর তাঁর খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে বহু অতিথি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন।
তিনি অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতেন। অতিথিদের জন্য ছিল কুমিস, শরবত, চা ও মাংসের আয়োজন। যদি অতিথি সংখ্যা বেশি হতো, তবে তাঁদের সেবায় একটি বা দুটি ভেড়া এবং কখনো কখনো একটি ঘোটকী পর্যন্ত কুরবানি করা হতো।
৫. "প্রতি বছরই তার অবস্থার উন্নতি হতে লাগল।"— কার অবস্থার কথা বলা হয়েছে এবং কীভাবে উন্নতি ঘটল?
উত্তর: এখানে ইলিয়াসের আর্থিক অবস্থার উন্নতির কথা বলা হয়েছে।
বিয়ের এক বছর পর তাঁর বাবা মারা যান, তখন তিনি মধ্যবিত্ত শ্রেণির ছিলেন। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে গৃহপালিত পশু পালন শুরু করেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী পরিশ্রম করে দিনরাত খেটে সম্পদ বৃদ্ধি করেন। তাঁরা খুব ভোরে ওঠে রাত পর্যন্ত কাজ করতেন। এই নিয়মিত কঠোর পরিশ্রমের ফলে ধীরে ধীরে ইলিয়াসের আর্থিক উন্নতি ঘটতে থাকে।
৬. "এটা খুবই জ্ঞানের কথা"— কার কোন্ বক্তব্যকে ‘জ্ঞানের কথা’ বলা হয়েছে?
উত্তর: ইলিয়াস ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সময় বলেন যে, বিত্ত-বৈভব থাকার পরও তাঁরা প্রকৃত সুখ খুঁজে পাননি, বরং সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু সবকিছু হারিয়ে সাধারণ মজুরের জীবন কাটাতে গিয়ে তারা প্রকৃত সুখের আস্বাদ পেয়েছেন, কারণ এখন তাঁদের মনে কোনো দুশ্চিন্তা নেই।
তাঁদের এই উপলব্ধি এবং বক্তব্যকে মোল্লা সাহেব ‘জ্ঞানের কথা’ বলে উল্লেখ করেন, কারণ এতে জীবনের প্রকৃত সত্য নিহিত রয়েছে।
৭. "এ বিষয়ে তিনিই পুরো সত্য বলতে পারবেন।"— এখানে ‘তিনি’ বলতে কে? এবং কেন তাঁকে সত্য বলার উপযুক্ত ব্যক্তি বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে ‘তিনি’ বলতে ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগির কথা বলা হয়েছে।
যখন অতিথিরা ইলিয়াসের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান, তখন মহম্মদ শা তাঁদের পরামর্শ দেন যে, শাম-শেমাগির কাছ থেকেই তাঁরা প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন। কারণ তিনি একজন সৎ ও সরল নারী, যা মনে আসে তাই মুখে বলেন। তাই তাঁর কাছ থেকেই ইলিয়াসের জীবনের সত্য ঘটনাগুলো জানা যাবে।
৮. "তাকে দেখতে পেয়ে মহম্মদ শা অতিথিদের বলল"— এখানে ‘তাকে’ বলতে কে বোঝানো হয়েছে? এবং মহম্মদ শা অতিথিদের কী বললেন?
উত্তর: এখানে ‘তাকে’ বলতে ইলিয়াসের কথা বলা হয়েছে।
মহম্মদ শা তাঁর গৃহে আগত অতিথিদের জানান যে, ইলিয়াস একসময় এই অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে তিনি এখন নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন এবং মহম্মদ শা-র বাড়িতে মজুরের মতো জীবনযাপন করছেন। এমনকি তাঁর স্ত্রী শাম-শেমাগি এখন গৃহপালিত ঘোটকীর দুধ দোহনের কাজ করেন।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
১. "ইলিয়াসের অতিথিবৎসলতার কথা স্মরণ করে তার খুব দুঃখ হলাে।"— এখানে কার কথা বলা হয়েছে? সে কী করেছিল? এবং ইলিয়াসের জীবনে তার কীরূপ প্রভাব পড়েছিল?
উত্তর: এখানে ইলিয়াসের প্রতিবেশী মহম্মদ শা’র কথা বলা হয়েছে।
মহম্মদ শা নিজে খুব ধনী না হলেও অভাবের মধ্যে ছিলেন না এবং অত্যন্ত সদয় ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তি ছিলেন। ইলিয়াসের দুর্দশা দেখে তাঁর প্রতি সহমর্মিতা অনুভব করেন এবং তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন।
এর বিনিময়ে ইলিয়াস গ্রীষ্মকালে তরমুজ খেতে কাজ করতেন এবং শীতকালে গরু-ঘোড়াদের যত্ন নিতেন। তাঁর স্ত্রী শাম-শেমাগি ঘোটকীর দুধ দোহন করে কুমিস তৈরি করতেন। মহম্মদ শা তাঁদের থাকা-খাওয়ার সমস্ত দায়িত্ব নেন এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রথমদিকে ইলিয়াস ও তাঁর স্ত্রী ভাড়াটে মজুরের মতো কাজ করতে অভ্যস্ত ছিলেন না, কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁরা মানিয়ে নেন। একসময় নিজে জমিদার থাকলেও, এখন তাঁরা উপলব্ধি করেন যে অর্থ-সম্পত্তি প্রকৃত সুখের উৎস নয়। বরং এখন তাঁদের জীবনে দুশ্চিন্তা কমেছে, কাজের বাইরে নিজেদের জন্য সময় পাচ্ছেন, এবং প্রকৃত সুখের সন্ধান করেছেন।
২. "পঞ্চাশ বছর ধরে সুখ খুঁজে খুঁজে এতদিনে পেয়েছি।"— এখানে কোন সুখের কথা বলা হয়েছে তার পরিচয় দাও।
উত্তর: এই উক্তিটি ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগির।
একসময় ইলিয়াস ও তাঁর স্ত্রী বিত্তশালী ছিলেন, তাঁদের প্রচুর সম্পত্তি ছিল, এবং সমাজে যথেষ্ট প্রতিপত্তিও অর্জন করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁদের মন কখনো শান্ত ছিল না। অতিথিদের আদর-আপ্যায়ন করতে গিয়ে, মজুরদের দেখভাল করতে গিয়ে, গৃহপালিত পশুর যত্ন নিয়ে তাঁদের সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় কাটত। নিজেরা নিজেদের সঙ্গে কথাও বলতে পারতেন না, এমনকি ঈশ্বরচিন্তার সময়ও তাঁদের থাকত না।
কিন্তু সব সম্পদ হারানোর পর, এখন তাঁরা সাধারণ জীবনযাপন করছেন, যেখানে অর্থ নেই, কিন্তু মানসিক শান্তি রয়েছে। তাঁরা সকালে উঠে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারেন, যথাসাধ্য মনিবের কাজ করেন এবং তাতে তাঁদের রুটি-রুজি নিশ্চিত হয়। তাঁদের খাদ্য বা আশ্রয়ের অভাব নেই এবং ঈশ্বরচিন্তার জন্যও সময় আছে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজার পর, প্রকৃত সুখ এখন তাঁদের জীবনে এসেছে।
৩. "ইলিয়াস তো ভাগ্যবান পুরুষ।"— কারা এবং কেন ইলিয়াসকে ভাগ্যবান বলেছেন? তুমি কি এই উক্তির সঙ্গে একমত? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে, ইলিয়াসের আশেপাশের লোকজন এই মন্তব্যটি করেছিলেন।
বিয়ের পর ইলিয়াস একসময় না সম্পূর্ণ দরিদ্র ছিলেন, না খুব ধনী। তাঁর সম্পত্তি বলতে ছিল সাতটি ঘোটকী, দুটি গরু ও কুড়িটি ভেড়া। তবে তাঁর নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং স্ত্রী শাম-শেমাগির সহায়তায়, প্রতি বছর তাঁর সম্পদ বাড়তে থাকে। পঁয়ত্রিশ বছর কঠোর পরিশ্রমের পর, তিনি ২০০টি ঘোড়া, ১৫০টি গরু ও মহিষ এবং ১২০০টি ভেড়ার মালিক হন। তাঁর অনেক ভাড়াটে মজুর ছিল, যারা পশুপালনের কাজ করত এবং দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করত। এই সাফল্য দেখে আশেপাশের লোকেরা হিংসার চোখে তাঁকে ‘ভাগ্যবান’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
আমি এই উক্তির সঙ্গে একমত নই। ইলিয়াসের সফলতা শুধুমাত্র ভাগ্যের কারণে আসেনি; বরং এটি তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফল। একজন ব্যক্তি যখন নিরলস পরিশ্রম করেন, তাঁর ইচ্ছাশক্তি ও পরিকল্পনা থাকে, তখনই তিনি সাফল্য অর্জন করতে পারেন। ভাগ্য শুধু একটি বাহ্যিক বিষয়, কিন্তু ইলিয়াস প্রকৃতপক্ষে নিজের প্রচেষ্টায় উন্নতি করেছিলেন। তাই শুধুমাত্র ভাগ্যকে তাঁর সাফল্যের কারণ বলা হলে, তাঁর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগকে অগ্রাহ্য করা হবে।
৪. ‘ভাগ্য যেন চাকার মতো ঘোরে।’– উক্তিটি কে এবং কাকে উদ্দেশ্য করে করেছেন ? বক্তার এরূপ মন্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটি লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পের একজন অতিথির, যিনি মহম্মদ শা-কে উদ্দেশ্য করে কথাগুলি বলেছেন।
বক্তার এই মন্তব্য যথার্থ, কারণ ইলিয়াসের ভাগ্য সত্যিই চাকার মতো ঘুরেছে। মহম্মদ শা যখন অতিথির সামনে ইলিয়াসের অতীত ও বর্তমান জীবন সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন, তখন অতিথি এই উপলব্ধি করেন যে জীবনে সৌভাগ্যের পাশাপাশি দুর্ভাগ্যও আসে।
প্রথম জীবনে ইলিয়াস কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। তার বাড়িতে দেশ-বিদেশের অতিথিরা আসতেন, আর তিনি তাদের আদর-আপ্যায়ন করতেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিক্রমায় একসময় তার সমস্ত সম্পদ হারিয়ে যায়, এবং সে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। জীবনের শেষ পর্যায়ে ইলিয়াস তার প্রতিবেশী মহম্মদ শায়ের আশ্রয়ে থেকে মজুরের কাজ করতে বাধ্য হয়।
বক্তা এই ঘটনাগুলো শুনেই মন্তব্য করেন যে, ভাগ্য এক জায়গায় স্থির থাকে না—তা চাকার মতো ঘুরে। কখনো মানুষ উত্থান দেখে, কখনো পতন। ইলিয়াসের জীবনই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৫. “ইলিয়াস” গল্পে ইলিয়াস চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পের প্রধান চরিত্র ইলিয়াস, যিনি জীবনে উত্থান-পতনের সম্মুখীন হয়েছেন। তার চরিত্রের বিভিন্ন দিক হলো—
পরিচয়:
ইলিয়াস বাসকির জাতির একজন মানুষ, যার স্ত্রী শাম-শেমাগি এবং দুই পুত্র ও এক কন্যা ছিল। প্রথম জীবনে তার আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল ছিল না, তবে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি প্রচুর সম্পত্তির মালিক হন। কিন্তু ভাগ্যের পরিক্রমায় তিনি আবার সবকিছু হারান এবং ভাড়াটে মজুর হয়ে যান।
কঠোর পরিশ্রমী ও কর্মনিষ্ঠ:
ইলিয়াস অক্লান্ত পরিশ্রম করে সম্পদ অর্জন করেছিলেন। তার কঠোর পরিশ্রমের ফলে তিনি দুশো ঘোড়া, দেড়শো গরু-মহিষ, বারোশো ভেড়ার মালিক হয়েছিলেন। তবে শেষজীবনে মজুর হিসেবে কাজ করেও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করতেন।
অতিথিপরায়ণ:
ইলিয়াস ছিলেন দারুণ অতিথিপরায়ণ। তার অতিথিদের জন্য চা, শরবত, মাংস ও কুমিসের ব্যবস্থা থাকত। তার এই গুণের কারণেই পরবর্তীকালে মহম্মদ শা তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।
কঠোর কিন্তু কর্তব্যপরায়ণ:
ছোট ছেলের স্ত্রী দুর্ব্যবহার করায় ইলিয়াস তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। তবে নিজের কর্তব্য ভুলে যাননি—ছেলেকে একটি বাড়ি ও গৃহপালিত পশু দিয়ে তার ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করেন।
জীবনদর্শন ও সত্য উপলব্ধি:
শেষ জীবনে নিঃস্ব হলেও ইলিয়াস জীবনের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করেন। তিনি বুঝতে পারেন, প্রকৃত সুখ সম্পদে নয়, বরং মানসিক শান্তিতে। তার এই উপলব্ধি শিক্ষণীয় এবং অনুপ্রেরণাদায়ক।
<<<<<<<<<<<<🌹 সমাপ্ত 🌹>>>>>>>>>>>>>>

