✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. বামন গ্রহকে অন্যান্য গ্রহ থেকে আলাদা করে এমন বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) নিজ কক্ষপথ থেকে অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরাতে পারে না (খ) উপগ্রহ নেই (গ) পর্যাপ্ত ভরযুক্ত (ঘ) গোলাকার।
উত্তরঃ (ক) নিজ কক্ষপথ থেকে অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরাতে পারে না।
২. পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য মহাকাশে আমেরিকার কতটি জিপিএস স্যাটেলাইট রয়েছে?
(ক) ৩২টি (খ) ২৬টি (গ) ২৪টি (ঘ) ২২টি।
উত্তরঃ (গ) ২৪টি।
৩. শনির একটি উপগ্রহের নাম কী?
(ক) হমিয়া (খ) ফোবস (গ) চাঁদ (ঘ) টাইটান।
উত্তরঃ (ঘ) টাইটান।
৪. ভূপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে উঠলে দিগন্তরেখার বিস্তৃতি কী হয়?
(ক) কোনোটিই নয় (খ) একই থাকে (গ) কমে (ঘ) বাড়ে।
উত্তরঃ (ঘ) বাড়ে।
৫. ‘জিওয়েড’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) পৃথিবীর মতো (খ) চ্যাপ্টা (গ) সম্পূর্ণ গোলক (ঘ) অভাগত গোলক।
উত্তরঃ (ক) পৃথিবীর মতো।
৬. পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর অঞ্চল কোনটি?
(ক) কুমেরু অঞ্চল (খ) সুন্দা খাত (গ) সেন্ট লুইস খাত (ঘ) মারিয়ানা খাত।
উত্তরঃ (ঘ) মারিয়ানা খাত।
৭. জিপিএসের মাধ্যমে কোনটি নির্ণয় করা যায় না?
(ক) বায়ুমণ্ডলের গঠন (খ) দ্রাঘিমা (গ) অক্ষাংশ (ঘ) উচ্চতা।
উত্তরঃ (ক) বায়ুমণ্ডলের গঠন।
৮. গ্রহগুলোর মধ্যে কোনটির গড় ঘনত্ব সর্বাধিক?
(ক) বুধ (খ) পৃথিবী (গ) ইউরেনাস (ঘ) নেপচুন।
উত্তরঃ (খ) পৃথিবী।
৯. পৃথিবীর আকৃতি কেন অভিগত গোলকের মতো?
(ক) কোনোটিই নয় (খ) কেন্দ্রাতিগ বল (গ) কোরিওলিস বল (ঘ) কেন্দ্রভিগ বল।
উত্তরঃ (খ) কেন্দ্রাতিগ বল।
১০. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস ও মেরু ব্যাসের পার্থক্য কত?
(ক) ৫৩ কিমি (খ) ৪৩ কিমি (গ) ৫০ কিমি (ঘ) ৪০ কিমি।
উত্তরঃ (খ) ৪৩ কিমি।
১১. সৌরজগতের কোন গ্রহকে ‘নীল গ্রহ’ বলা হয়?
(ক) চাঁদ (খ) পৃথিবী (গ) বুধ (ঘ) শুক্র।
উত্তর: (খ) পৃথিবী গ্রহকে ‘নীল গ্রহ’ বলা হয়।
১২. নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল কেমন?
(ক) এর কোনোটিই নয় (খ) সবচেয়ে কম (গ) বেশি (ঘ) অনুপস্থিত।
উত্তর: (খ) সবচেয়ে কম।
১৩. পৃথিবী-কেন্দ্রিক মতবাদ কে সমর্থন করেছিলেন?
(ক) ব্রাহে (খ) অ্যারিস্টটল (গ) ব্রুনো (ঘ) কোপারনিকাস।
উত্তর: (খ) অ্যারিস্টটল।
১৪. সূর্য থেকে পৃথিবী দূরত্ব প্রায় কত কিলোমিটার?
(ক) ২০ কোটি কিমি (খ) ১৫.৫ কোটি কিমি (গ) ১৪.৭ কোটি কিমি (ঘ) ১৫ কোটি কিমি।
উত্তর: (ঘ) ১৫ কোটি কিমি।
১৫. পৃথিবী সৌরজগতের গ্রহগুলির মধ্যে কোন অবস্থানে আছে?
(ক) চতুর্থ (খ) দ্বিতীয় (গ) তৃতীয় (ঘ) প্রথম।
উত্তর: (গ) তৃতীয়।
১৬. বর্তমানে বামন গ্রহের সংখ্যা কত?
(ক) ৩টি (খ) ৬টি (গ) ৪টি (ঘ) ৫টি।
উত্তর: (ঘ) ৫টি।
১৭. প্রাচীনকালে পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের ধারণা কী ছিল?
(ক) চৌকো (খ) সমতল (গ) গোলাকার (ঘ) অভাগত গোলাকার।
উত্তর: (খ) সমতল।
১৮. দুরবীন যন্ত্রের আবিষ্কারক কে?
(ক) এডমান্ড হ্যালি (খ) গ্যালিলিয়ো গ্যালিলি (গ) নিউটন (ঘ) কেপলার।
উত্তর: (খ) গ্যালিলিয়ো গ্যালিলি।
১৯. সৌরজগতের গ্রহের সংখ্যা বর্তমানে কত?
(ক) ৮টি (খ) ৭টি (গ) ৫টি (ঘ) ৩টি।
উত্তর: (ক) ৮টি।
২০. পৃথিবীকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
(ক) কোনোটিই নয় (খ) নীল গ্রহ (গ) বামন গ্রহ (ঘ) লাল গ্রহ।
উত্তর: (খ) নীল গ্রহ।
২১. আয়তনের বিচারে গ্রহগুলির মধ্যে পৃথিবীর স্থান কী?
(ক) দ্বিতীয়। (খ) পঞ্চম। (গ) তৃতীয়। (ঘ) চতুর্থ।
উত্তর: (খ) পঞ্চম।
২২. যে সকল জ্যোতিষ্ক মিটমিট করে জ্বলে, যাদের তাপ ও আলো আছে, তাদের কী বলা হয়?
(ক) কোনোটিই নয়। (খ) নক্ষত্র। (গ) উপগ্রহ। (ঘ) গ্রহ।
উত্তর: (খ) নক্ষত্র।
২৩. এরাটোসথেনিস কোন দিন সূর্যরশ্মির পতন কোণের ভিত্তিতে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেছিলেন?
(ক) মহাবিষুব। (খ) জলবিষুব। (গ) কর্কট সংক্রান্তি। (ঘ) মকর সংক্রান্তি।
উত্তর: (গ) কর্কট সংক্রান্তি।
২৪. সৌরজগতে কুলীন গ্রহের সংখ্যা কত?
(ক) ২টি। (খ) ৮টি। (গ) ৫টি। (ঘ) ৪টি।
উত্তর: (খ) ৮টি।
২৫. পৃথিবীর গোলত্ব প্রমাণ করতে যে খালটি ব্যবহার করা হয়, তার নাম কী?
(ক) এর কোনটিই নয়। (খ) পানামা খাল। (গ) বেডফোর্ড। (ঘ) সুয়েজ।
উত্তর: (গ) বেডফোর্ড খাল।
২৬. পৃথিবীর গভীরতম অঞ্চল কোনটি?
(ক) কুমেরু অঞ্চল। (খ) সেন্ট লুইস খাত। (গ) সুন্দা খাত। (ঘ) মারিয়ানা খাত।
উত্তর: (ঘ) মারিয়ানা খাত।
২৭. প্যারিস শহরের অক্ষাংশ কত?
(ক) 75° 03′ উত্তর। (খ) 49° উত্তর। (গ) 47° উত্তর। (ঘ) 26°32′ উত্তর।
উত্তর: (খ) 49° উত্তর।
২৮. পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি কী?
(ক) আয়তাকার। (খ) অভিগত গোলকের মতো। (গ) উপবৃত্তাকার। (ঘ) বৃত্তাকার।
উত্তর: (খ) অভিগত গোলকের মতো।
২৯. পৃথিবী গোলাকার হওয়ার প্রমাণ কী?
(ক) মাউন্ট এভারেস্ট থেকে পৃথিবী দেখা। (খ) মহাকাশ থেকে তোলা আলোকচিত্র। (গ) জাহাজে পৃথিবী ভ্রমণ। (ঘ) জাহাজের উঁচু মাস্তুলে দাঁড়িয়ে দেখা।
উত্তর: (খ) মহাকাশ থেকে তোলা আলোকচিত্র।
৩০. পৃথিবী যদি সমতল হত, তাহলে তিনটি লাঠি কেমন দেখাত?
(ক) এর কোনোটিই নয়। (খ) লাঠিগুলি বেঁকে থাকবে। (গ) একটু লম্বা দৈর্ঘ্যের। (ঘ) সমান দৈর্ঘ্যের।
উত্তর: (ঘ) সমান দৈর্ঘ্যের দেখাত।
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কত?
উত্তরঃ- ৯.৮৩২ মি/সেকেন্ড²।
২. জিওড বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ- পৃথিবীর মতো।
৩. ক্লিওপেট্রা কী?
উত্তরঃ- শিলাস্তম্ভ।
৪. ভূ-আকৃতি বিদ্যার জনক কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ- এরাটোসথেনিস।
৫. গেসপেরিওডাস শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ- পৃথিবীর বর্ণনা।
৬. হেক্যাটিয়াসের লেখা গ্রন্থের নাম কী?
উত্তরঃ- গেসপেরিওডাস।
৭. পৃথিবীর আকৃতি বেলনের মতো, এ ধারণা প্রথম কে দেন?
উত্তরঃ- অ্যানাক্সিম্যান্ডার।
৮. পৃথিবীর পরিধি কত?
উত্তরঃ- ৪০,০৭৭ কিমি।
৯. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাসের দৈর্ঘ্য কত?
উত্তরঃ- ১২,৭৫৭ কিমি।
১০. পৃথিবীর মেরু ব্যাসের দৈর্ঘ্য কত?
উত্তরঃ- ১২,৭১৪ কিমি।
১১. চাঁদে মানুষ প্রথম কখন পা রাখে?
উত্তরঃ- ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই।
১২. সৌরজগতের কোন গ্রহকে ‘নীল গ্রহ’ বলা হয়?
উত্তরঃ- পৃথিবী।
১৩. বেডফোর্ড খালে অ্যালফ্রেড ওয়ালেস কী প্রমাণ করেছিলেন?
উত্তরঃ- বেডফোর্ড খালে অ্যালফ্রেড ওয়ালেস পৃথিবীর গোলাকার আকৃতি প্রমাণ করেছিলেন।
১৪. পৃথিবীর চাপের দৈর্ঘ্য কোন দিক থেকে কোন দিকে কমে?
উত্তরঃ- পৃথিবীর চাপের দৈর্ঘ্য মেরু অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে কমে।
১৫. পৃথিবীর আবর্তনের কারণে কোন বল সৃষ্টি হয়?
উত্তরঃ- পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কেন্দ্রাতিগ বল সৃষ্টি হয়।
১৬. জিয়ড শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ- জিয়ড শব্দের অর্থ পৃথিবীর আকৃতি পৃথিবীর মতো।
১৭. সৌরজগতের কোন গ্রহকে ‘লাল গ্রহ’ বলা হয়?
উত্তরঃ- মঙ্গল।
১৮. GPS ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম কতটি উপগ্রহের প্রয়োজন হয়?
উত্তরঃ- ৩টি।
১৯. কোন দুটি গ্রহের উপগ্রহ নেই?
উত্তরঃ- বুধ এবং শুক্র।
২০. সৌরজগতে আয়তনে সবচেয়ে বড় গ্রহ কোনটি?
উত্তরঃ- বৃহস্পতি।
২১. সূর্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রহ কোনটি?
উত্তরঃ- বুধ।
২২. পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর স্থান কোনটি?
উত্তরঃ- মারিয়ানা খাত।
২৩. সৌরজগতে সবচেয়ে কম ঘনত্বের গ্রহ কোনটি?
উত্তরঃ- শনিগ্রহ।
২৪. পৃথিবীর আবর্তন কত সময়ে সম্পূর্ণ হয়?
উত্তরঃ- ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট।
২৫. জিপিএস-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তরঃ- গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম।
২৬. উপগ্রহহীন দুটি গ্রহের নাম কী?
উত্তরঃ- বুধ এবং শুক্র।
২৭. পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রহ কোনটি?
উত্তরঃ- শুক্র।
২৮. নীল গ্রহ কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ- পৃথিবীকে।
২৯. পৃথিবীর আনুমানিক বয়স কত?
উত্তরঃ- ৪৬০ কোটি বছর।
৩০. জিওড শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেছিলেন?
উত্তরঃ- জোহান বেনেডিক্ট লিসটিং।
৩১. শনির সবচেয়ে বড় উপগ্রহটির নাম কী?
উত্তরঃ- টাইটান।
৩২. বৃহস্পতির দুটি উপগ্রহের নাম কী?
উত্তরঃ- গ্যানিমিড এবং ইউরোপা।
৩৩. মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহগুলোর নাম কী কী?
উত্তরঃ- ফোবস এবং ডিমস।
৩৪. ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা ও অবস্থান পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত উপগ্রহ-নির্ভর পদ্ধতির নাম কী?
উত্তরঃ- গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস)।
৩৫. অভিগত গোলকের নিরক্ষীয় অঞ্চল দেখতে কেমন?
উত্তরঃ- চাপা।
৩৬. অভিগত গোলকের মেরু অঞ্চল দেখতে কেমন?
উত্তরঃ- স্ফীত।
৩৭. নিরক্ষীয় অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কত?
উত্তরঃ- ৯.৭৮ মি/সেকেন্ড²।
৩৮. চন্দ্রগ্রহণের মাধ্যমে কী প্রমাণিত হয়?
উত্তরঃ- চন্দ্রগ্রহণের মাধ্যমে পৃথিবীর গোলাকৃতি প্রমাণিত হয়।
৩৯. দিগন্তরেখার আকৃতি কী রকম?
উত্তরঃ- দিগন্তরেখার আকৃতি গোলাকার।
৪০. আকাশে উজ্জ্বল আলোকবিন্দুগুলির আরেক নাম কী?
উত্তরঃ- আকাশে উজ্জ্বল আলোকবিন্দুগুলি জ্যোতিষ্ক নামে পরিচিত।
৪১. সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ কোনটি?
উত্তরঃ- সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি।
৪২. IAU-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তরঃ- International Astronomical Union।
৪৩. ২০০৬ সালে কোন গ্রহকে বামন গ্রহ হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
উত্তরঃ- প্লুটোকে।
৪৪. GPS ব্যবহারের জন্য সর্বনিম্ন কতগুলি উপগ্রহের প্রয়োজন?
উত্তরঃ- ৩টি।
৪৫. পৃথিবীর অভিকর্ষজ বলের মান কোন স্থানে সবচেয়ে কম থাকে?
উত্তরঃ- পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলে।
৪৬. পৃথিবীর আবর্তন বেগ পৃথিবীপৃষ্ঠের সকল স্থানে কেন সমান নয়?
উত্তরঃ- পৃথিবীর অভিগত গোলক আকৃতির কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠের সব জায়গায় আবর্তন বেগ সমান নয়।
৪৭. কোরিওলিস বলের বিকল্প নাম কী?
উত্তরঃ- কোরিওলিস বলের বিকল্প নাম অপকেন্দ্র বল।
✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):
১. দিগন্ত রেখা বলতে কী বোঝানো হয়?
উত্তরঃ- দিগন্ত রেখা হলো সেই সীমানা যেখানে আকাশ ও পৃথিবী একে অপরকে স্পর্শ করেছে মনে হয়। এটি সমুদ্রের ধারে বা উন্মুক্ত জায়গায় দাঁড়িয়ে চোখে পড়া একটি গোলাকার রেখা, যা আকাশ ও ভূমির মিলন বিন্দু নির্দেশ করে।
২. জিওড শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ- "জিওড" শব্দটি গ্রিক ভাষার "Geoeides" থেকে এসেছে, যার মানে হলো "পৃথিবীর মতো।" পৃথিবী তার বিশেষ আকৃতির জন্য একমাত্র পৃথিবীই এই ধরনের আকারে পরিগণিত হতে পারে, তাই একে "জিওড" বলা হয়।
৩. অভিগত গোলক কী?
উত্তরঃ- অভিগত গোলক হলো এমন একটি গোলক যার মেরু অঞ্চল কিছুটা চ্যাপ্টা এবং নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা ফোলা। পৃথিবী এরকমই একটি আকার ধারণ করেছে, যা অভাগত গোলকের মতো।
৪. বামন গ্রহ কী?
উত্তরঃ- মহাকাশে কিছু গ্রহ রয়েছে, যারা সূর্য বা অন্য কোনো নক্ষত্রের চারপাশে কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করলেও তাদের কক্ষপথে থাকা ছোট মহাজাগতিক বস্তুগুলোকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এই ধরনের গ্রহকে বামন গ্রহ বলা হয়। সৌরজগতের প্লুটো একটি উদাহরণ হিসেবে বামন গ্রহের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
৫. কুপার বেল্ট কী?
উত্তরঃ- কুপার বেল্ট হলো সৌরজগতের একটি অংশ, যা নেপচুনের কক্ষপথের বাইরে প্রায় ৩০০ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই অঞ্চলে থাকা মহাজাগতিক বস্তুসমূহ সৌরজগতের উৎপত্তির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
৬. সৌরজগৎ কী?
উত্তরঃ- সৌরজগৎ হলো একটি মহাজাগতিক পরিবার, যেখানে সূর্য, তার চারপাশে আবর্তিত বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ এবং গ্রহাণুপুঞ্জ একসাথে সৌর শক্তির প্রভাবে কক্ষপথে চলতে থাকে।
৭. G.P.S. কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
উত্তরঃ- G.P.S. (Global Positioning System) হলো একটি প্রযুক্তি, যা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অবস্থান নির্ধারণে সহায়তা করে। এটি কোনো স্থান থেকে তার অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা এবং সময়ের তথ্য প্রদান করে।
৮. সৌরজগতের বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ দুটি কোন দুটি?
উত্তরঃ- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ হলো বৃহস্পতি এবং ক্ষুদ্রতম গ্রহ হলো বুধ।
৯. বহিস্থ গ্রহ (Exterior Planet) কী?
উত্তরঃ- সৌরজগতের সেই সব গ্রহ, যা সূর্য থেকে যথেষ্ট দূরে অবস্থিত এবং বৃহৎ আকারের, তাদেরকে বহিস্থ গ্রহ বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
১.পৃথিবীর আকৃতি অভিগত গোলকের মতো - এর প্রত্যক্ষ এবং অভিজ্ঞতালব্ধ প্রমাণসমূহ আলোচনা করো।
অথবা - পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতির বা গোলাকার আকৃতির প্রমাণগুলি কী কী?
উত্তরঃ
[A] পৃথিবীর আকৃতির প্রত্যক্ষ প্রমাণ:
১. বেডফোর্ড লেভেল পরীক্ষা:
১৮৭০ সালে বিজ্ঞানী অ্যালফ্রেড রাসেল ওয়ালেস ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড খালে একটি পরীক্ষা চালান। তিনি এক কিলোমিটার দীর্ঘ সরল রেখায় একই উচ্চতার তিনটি খুঁটি স্থাপন করেন। পরে দূরবীক্ষণের মাধ্যমে দেখা যায়, মাঝখানের খুঁটি অন্য দুই খুঁটির চেয়ে উঁচু দেখা যায়। পৃথিবী গোলাকার হওয়ার কারণেই এমনটি ঘটে। পৃথিবী সমতল হলে এই তিনটি খুঁটি একই সমতলে থাকতো।
২. মহাকাশচারীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা:
মহাকাশ থেকে পৃথিবীর গোলাকার আকৃতি সুস্পষ্টভাবে দেখা গেছে। ১৯৬১ সালে ইউরি গ্যাগারিন, নীল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিন, রাকেশ শর্মা এবং সুনিতা উইলিয়ামের মতো মহাকাশচারীদের তোলা ছবি পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির প্রমাণ প্রদান করেছে।
১. প্রাচীন পণ্ডিতদের মতামত:
প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক পিথাগোরাস গাণিতিকভাবে পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির ধারণা প্রদান করেন। অ্যারিস্টটল চন্দ্রগ্রহণে পৃথিবীর ছায়ার গোলাকার প্রকৃতি দেখে এই সিদ্ধান্তে আসেন। বরাহমিহির, আর্যভট্ট এবং কোপারনিকাসও পৃথিবীর গোলাকার আকৃতি সমর্থন করেছিলেন।
২. নাবিকদের পৃথিবী পরিভ্রমণ:
১৫১৯ সালে ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান এবং ১৫৭৭ সালে ফ্রান্সিস ড্রেক দিক পরিবর্তন না করেই পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেন। এটি পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
৩. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় ভিন্নতা:
পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির কারণে, একই সময়ে পৃথিবীর সব স্থানে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত হয় না। পূর্বে আগে এবং পশ্চিমে পরে সূর্য ওঠে।
৪. দিগন্তরেখার আকৃতি:
খোলা প্রান্তরে বা সমুদ্রের ধারে দাঁড়ালে মনে হয় আকাশ ও মাটি একটি বৃত্তাকারে মিশে গেছে। এই দিগন্তরেখা পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির ইঙ্গিত দেয়।
৫. সমুদ্রে জাহাজের অবস্থান পরিবর্তন:
জাহাজ যখন সমুদ্রের দিকে অদৃশ্য হয়, প্রথমে তার নিম্নাংশ এবং শেষে মাস্তুল অদৃশ্য হয়। আবার, তীরে আসার সময় মাস্তুল সবার আগে দৃশ্যমান হয়। এটি পৃথিবীর গোলাকার সমুদ্রপৃষ্ঠের জন্য ঘটে।
৬. নক্ষত্রের অবস্থান পরিবর্তন:
ধ্রুবতারা উত্তর গোলার্ধের নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। বিষুবরেখা থেকে এটি শূন্য ডিগ্রিতে এবং মেরু অঞ্চলে ৯০ ডিগ্রিতে দেখা যায়। এটি পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির প্রমাণ।
৭. সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ:
দূরবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়, সৌরজগতের অন্য গ্রহগুলোর আকৃতি গোলাকার। পৃথিবীও একটি গ্রহ হওয়ায় তার আকৃতিও গোলাকার।
৮. চন্দ্রগ্রহণের ছায়া:
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের উপর পড়া পৃথিবীর ছায়া গোলাকার। এটি পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতির একটি নিশ্চিত প্রমাণ।
উপরোক্ত প্রত্যক্ষ এবং অভিজ্ঞতালব্ধ প্রমাণসমূহ থেকে স্পষ্ট যে, পৃথিবীর আকৃতি অভিগত গোলকের মতো।
২.পৃথিবী কেন মানুষের একমাত্র বাসযোগ্য গ্রহ?-ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের তুলনায় পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব বিদ্যমান। অনুকূল পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের জন্যই পৃথিবী জীব ও মানুষের বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। মানুষের একমাত্র আবাসস্থল হিসেবে পৃথিবীর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. সৌরজগতের নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান:
পৃথিবী সূর্যের থেকে এমন একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে রয়েছে, যা এই গ্রহকে অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা হওয়া থেকে রক্ষা করে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা প্রাণধারণের জন্য আদর্শ।
২. জলের প্রাচুর্য:
জল জীবনধারণের অপরিহার্য উপাদান। পৃথিবীর ৭১% অংশ জল দ্বারা আবৃত। এই বিপুল জলরাশির কারণে পৃথিবীতে জীবনের বিকাশ সম্ভব হয়েছে।
৩. অক্সিজেনের উপস্থিতি:
জীবনের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ২১% অক্সিজেন প্রাণের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
৪. খাদ্যের সহজলভ্যতা:
পৃথিবীতে সৌরশক্তি, জল, খনিজ এবং বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদানের প্রাচুর্য রয়েছে। এই উপাদানগুলোর সাহায্যে সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য উৎপাদন করে। এই খাদ্যই পৃথিবীর সব জীবের বেঁচে থাকার উৎস।
৫. গ্রিনহাউস প্রভাব:
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা গ্রিনহাউস গ্যাস (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন) পৃথিবীর তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় ধরে রাখে। এই প্রভাবের কারণে পৃথিবীতে প্রাণধারণের জন্য উপযুক্ত উষ্ণতা বজায় থাকে। গ্রিনহাউস প্রভাব ছাড়া পৃথিবী শীতল, শুষ্ক এবং প্রাণহীন হতো।
উপসংহার:উপরোক্ত কারণগুলোর জন্যই পৃথিবী প্রাণের বিকাশ এবং মানুষের বাসযোগ্য গ্রহ হয়ে উঠেছে। সৌরজগতের অন্য কোনো গ্রহে এমন পরিবেশগত উপাদান এবং জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত বিদ্যমান নয়।
<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>>>>

