✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. ম্যারেঙ্গো, হোহেনলিন্ডেন ও উলমের যুদ্ধে কোন দেশ ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়?
(ক) অস্ট্রিয়া (খ) স্পেন (গ) পর্তুগাল (ঘ) রাশিয়া।
উত্তর: (ক) অস্ট্রিয়া।
২. ফরাসি বিপ্লবের ‘অগ্নিময় তরবারি’ উপাধি কাকে দেওয়া হয়?
(ক) রুশো (খ) ভলতেয়ার (গ) নেপোলিয়ন (ঘ) রোবসপিয়ার।
উত্তর: (গ) নেপোলিয়ন।
৩. নেপোলিয়নের শাসন সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি কোনটি?
(ক) ধর্মীয় সংস্কার (খ) শিক্ষা সংস্কার (গ) অর্থনৈতিক সংস্কার (ঘ) আইনসংহিতা প্রবর্তন।
উত্তর: (ঘ) আইনসংহিতা প্রবর্তন।
৪. নেপোলিয়ন ফ্রান্সকে কতটি প্রশাসনিক প্রদেশে বিভক্ত করেন?
(ক) ৭০টি (খ) ৮৩টি (গ) ১৫০টি (ঘ) ৩০০টি।
উত্তর: (খ) ৮৩টি।
৫. নেপোলিয়ন কবে ‘ফরাসি জাতির সম্রাট’ উপাধি গ্রহণ করেন?
(ক) ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: (গ) ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে।
৬. কনসুলেটের সংবিধানের প্রধান রচয়িতা কে ছিলেন?
(ক) আবে সিয়েস (খ) ম্যারাট (গ) রজার ডুকোস (ঘ) নেপোলিয়ন।
উত্তর: (ক) আবে সিয়েস।
৭. নেপোলিয়ন প্রথমে কত বছরের জন্য কনসাল হিসেবে নিযুক্ত হন?
(ক) ৫ বছর (খ) ১০ বছর (গ) ১৫ বছর (ঘ) আজীবন।
উত্তর: (খ) ১০ বছর।
৮. নেপোলিয়ন ফ্রান্সের শাসনক্ষমতা দখল করেন কোন সালে?
(ক) ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: (ক) ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে।
৯. কোন দেশের শাসন থেকে ইতালিকে মুক্ত করে নেপোলিয়ন ‘মুক্তিদাতা’ উপাধি অর্জন করেন?
(ক) ইংল্যান্ড (খ) রাশিয়া (গ) অস্ট্রিয়া (ঘ) স্পেন।
উত্তর: (গ) অস্ট্রিয়া।
১০. কোন দেশের অবরোধ থেকে নেপোলিয়ন তুলোঁ বন্দর পুনরুদ্ধার করেন?
(ক) রাশিয়া (খ) অস্ট্রিয়া (গ) স্পেন (ঘ) ইংল্যান্ড।
উত্তর: (ঘ) ইংল্যান্ড।
১১. কাকে ‘ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদের শত্রু’ বলা হয়?
(ক) নেপোলিয়ন (খ) পঞ্চদশ লুই (গ) ষোড়শ লুই (ঘ) অষ্টাদশ লুই।
উত্তর: (ক) নেপোলিয়ন।
১২. কাকে ‘ইউরোপের মুক্তিদাতা’ বলা হয়?
(ক) ষোড়শ লুই (খ) নেপোলিয়ন (গ) রুশো (ঘ) ভলতেয়ার।
উত্তর: (খ) নেপোলিয়ন।
১৩. নেপোলিয়নের মৃত্যু ঘটে ৫ মে, কোন সালে?
(ক) ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: (ঘ) ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে।
১৪. ওয়াটারলু-এর যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন কে?
(ক) ডিউক অব ওয়েলিংটন (খ) ইয়র্ক (গ) ব্লুকার (ঘ) নেলসন।
উত্তর: (ক) ডিউক অব ওয়েলিংটন।
১৫. কোন যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে জার্মানি নেপোলিয়নের শাসন থেকে মুক্ত হয়?
(ক) বোরোডিনোর যুদ্ধ (খ) ভিত্তোরিয়ার যুদ্ধ (গ) লাইপজিগের যুদ্ধ (ঘ) ড্রেসডেনের যুদ্ধ।
উত্তর: (গ) লাইপজিগের যুদ্ধ।
১৬. কোন যুদ্ধ ‘জাতিসমূহের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত?
(ক) লাইপজিগের যুদ্ধ (খ) ওয়াটারলু-এর যুদ্ধ (গ) উপদ্বীপের যুদ্ধ (ঘ) বোরোডিনোর যুদ্ধ।
উত্তর: (ক) লাইপজিগের যুদ্ধ।
১৭. নেপোলিয়নের শেষ বড় যুদ্ধজয় কোনটি ছিল?
(ক) স্যালামাস্কার যুদ্ধ (খ) বেলেনের যুদ্ধ (গ) ড্রেসডেনের যুদ্ধ (ঘ) ভিত্তোরিয়ার যুদ্ধ।
উত্তর: (গ) ড্রেসডেনের যুদ্ধ।
১৮. বোরোডিনোর যুদ্ধে রুশ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন কে?
(ক) নেলসন (খ) বাগ্রাসি (গ) বার্কলে (ঘ) কুটুজভ।
উত্তর: (ঘ) কুটুজভ।
১৯. স্পেনে ফরাসি বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন কে?
(ক) মার্শাল জুনো (খ) নেলসন (গ) নেপোলিয়ন (ঘ) দুঁপ।
উত্তর: (ঘ) দুঁপ।
২০. নেপোলিয়নের বার্লিন ডিক্রির জবাবে ইংল্যান্ড কোন আদেশ জারি করে?
(ক) মিলান ডিক্রি (খ) অর্ডার্স-ইন-ল (গ) অর্ডার্স-ইন-কাউন্সিল (ঘ) ওয়ারশ ডিক্রি।
উত্তর: (গ) অর্ডার্স-ইন-কাউন্সিল।
২১. বার্লিন ডিক্রি জারি করেন কে?
(ক) আবে সিয়েস (খ) নেপোলিয়ন (গ) মন্টজেলার্ড (ঘ) ব্রান্সউইক।
উত্তর: (খ) নেপোলিয়ন।
২২. কোন দেশের বিরুদ্ধে মহাদেশীয় অবরোধ ঘোষণা করা হয়?
(ক) অস্ট্রিয়া (খ) পর্তুগাল (গ) ইংল্যান্ড (ঘ) স্পেন।
উত্তর: (গ) ইংল্যান্ড।
২৩. নেপোলিয়ন প্রথমবার মহাদেশীয় অবরোধ ঘোষণা করেন কোন সালে?
(ক) ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: (গ) ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে।
২৪. নেপোলিয়ন জার্মানির ৩০০টি ছোট রাজ্য একত্র করে কয়টি রাজ্য তৈরি করেন?
(ক) ৩৯টি (খ) ৬৭টি (গ) ১৫০টি (ঘ) ২৫০টি।
উত্তর: (ক) ৩৯টি।
২৫. টিলসিটের সন্ধি কারা স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়?
(ক) ইংল্যান্ড (খ) রাশিয়া (গ) অস্ট্রিয়া (ঘ) প্রাশিয়া।
উত্তর: (খ) রাশিয়া।
২৬. ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
(ক) অস্টারলিৎজের (খ) পিরামিডের (গ) নীলনদের (ঘ) ফ্রিডল্যান্ডের।
উত্তর: (ঘ) ফ্রিডল্যান্ডের।
২৭. কোন সন্ধির মাধ্যমে নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য তার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে?
(ক) লুনভিলের (খ) প্রেসবার্গের (গ) টিলসিটের (ঘ) অ্যামিয়েন্সের।
উত্তর: (গ) টিলসিটের।
২৮. নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ‘পোড়ামাটির নীতি’ কে অনুসরণ করেছিল?
(ক) ইংরেজরা (খ) রুশরা (গ) জার্মানরা (ঘ) পোর্তুগিজরা।
উত্তর: (খ) রুশরা।
২৯. রাশিয়া অভিযানের জন্য নেপোলিয়ন কোন সেনাবাহিনী গঠন করেন?
(ক) স্প্যানিশ আর্মাডা (খ) গ্র্যান্ড আর্মি (গ) আইবেরীয় আর্মি (ঘ) কিংডম্ অব্ ওয়েস্টফেলিয়া।
উত্তর: (খ) গ্র্যান্ড আর্মি।
৩০. নীলনদের যুদ্ধে নেপোলিয়ন কার কাছে পরাজিত হন?
(ক) ব্রান্স উইকের কাছে (খ) আউটরামের কাছে (গ) ওয়েলিংটনের কাছে (ঘ) নেলসনের কাছে।
উত্তর: (ঘ) নেলসনের কাছে।
৩১. নেপোলিয়নের জীবনের শেষ যুদ্ধ কোনটি?
(ক) ফ্রিডল্যান্ডের যুদ্ধ (খ) উলমের যুদ্ধ (গ) উপদ্বীপের যুদ্ধ (ঘ) ওয়াটারলুর যুদ্ধ।
উত্তর: (ঘ) ওয়াটারলুর যুদ্ধ।
৩২. কোন জাতি নেপোলিয়নকে ‘মুক্তিদাতা’ হিসেবে অভিহিত করেছিল?
(ক) রোমানরা (খ) জার্মানিরা (গ) ফরাসিরা (ঘ) ইতালীয়রা।
উত্তর: (গ) ফরাসিরা।
৩৩. উপদ্বীপের যুদ্ধ কবে শুরু হয়েছিল?
(ক) ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: (ক) ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে।
৩৪. পোড়ামাটির নীতি অনুসরণ করেছিল কোন জাতি?
(ক) ইংরেজরা (খ) রুশরা (গ) জার্মানরা (ঘ) পোর্তুগিজরা।
উত্তর: (খ) রুশরা।
৩৫. নেপোলিয়ন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
(ক) ইটালিতে (খ) জার্মানিতে (গ) কোর্সিকা দ্বীপে (ঘ) ফ্রান্সে।
উত্তর: (গ) কোর্সিকা দ্বীপে।
৩৬. ‘স্পেনের ক্ষত’ কাকে ধ্বংস করেছে?
(ক) ফ্রান্সকে (খ) নেপোলিয়নকে (গ) ইংল্যান্ডকে (ঘ) জাতীয় ঐক্যকে।
উত্তর: (খ) নেপোলিয়নকে।
৩৭. ‘কোড নেপোলিয়ন’ রচনায় কতজন ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন?
(ক) ৪ জন (খ) ৫ জন (গ) ৭ জন (ঘ) ১০ জন।
উত্তর: (ক) ৪ জন।
৩৮. কনফেডারেশন অভ্ দ্য রাইন কবে গঠিত হয়?
(ক) ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তর: (ক) ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে।
৩৯. নেপোলিয়নের মহাদেশীয় অবরোধের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
(ক) রাশিয়া (খ) আইবেরীয় উপদ্বীপ (গ) প্রাশিয়া (ঘ) ইংল্যান্ড।
উত্তর: (ঘ) ইংল্যান্ড।
৪০. টিলজিটের সন্ধি কারা স্বাক্ষর করেছিল?
(ক) ইংল্যান্ড ও রাশিয়া (খ) ফ্রান্স ও রাশিয়া (গ) ফ্রান্স ও স্পেন (ঘ) ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
উত্তর: (খ) ফ্রান্স ও রাশিয়া।
৪১. ব্যাংক অভ্ ফ্রান্স কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
(ক) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (খ) তুর্গো (গ) মিরাবো (ঘ) আবে সিয়েস।
উত্তর: (ক) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
৪২. মৃত্যুর সময় নেপোলিয়নের বয়স কত ছিল?
(ক) ৩২ বছর (খ) ৪২ বছর (গ) ৫২ বছর (ঘ) ৬২ বছর।
উত্তরঃ (গ) ৫২ বছর।
৪৩. নেপোলিয়নের জীবনের শেষ যুদ্ধ কোনটি ছিল?
(ক) লাইপজিগের যুদ্ধ (খ) ওয়াটারলুর যুদ্ধ (গ) উলমের যুদ্ধ (ঘ) ম্যারেঙ্গার যুদ্ধ।
উত্তরঃ (খ) ওয়াটারলুর যুদ্ধ।
৪৪. নেপোলিয়নের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি কে ছিলেন?
(ক) মুনাট (খ) ইউজিন (গ) ম্যাসেনা (ঘ) ওডিনো।
উত্তরঃ (গ) ম্যাসেনা।
৪৫. ‘স্পেনীয় ক্ষতই আমাকে ধ্বংস করেছে’— কে বলেছিলেন?
(ক) রোমের পোপ (খ) সম্রাট নেপোলিয়ন (গ) মার্শাল জুর্দান (ঘ) রাশিয়ার সম্রাট।
উত্তরঃ (খ) সম্রাট নেপোলিয়ন।
৪৬. নেপোলিয়নের ‘গ্র্যান্ড আর্মি’ কোথায় ধ্বংস হয়েছিল?
(ক) পিরামিডের যুদ্ধে (খ) রাশিয়া অভিযানে (গ) প্যারিসের যুদ্ধে (ঘ) প্রাশিয়ার যুদ্ধে।
উত্তরঃ (খ) রাশিয়া অভিযানে।
৪৭. কোন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নেপোলিয়নকে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল?
(ক) লাইপজিগের যুদ্ধ (খ) প্যারিসের যুদ্ধ (গ) ওয়াটারলুর যুদ্ধ (ঘ) ম্যারেঙ্গার যুদ্ধ।
উত্তরঃ (ক) লাইপজিগের যুদ্ধ।
৪৮. নেপোলিয়ন ‘ইউনিভার্সিটি অফ ফ্রান্স’ কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
(ক) ১৮০৫ সালে (খ) ১৮০৬ সালে (গ) ১৮০৭ সালে (ঘ) ১৮০৮ সালে।
উত্তরঃ (ঘ) ১৮০৮ সালে।
৪৯. কাকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয়?
(ক) অ্যাবে সিয়েস (খ) রোবসপিয়ের (গ) রুশো (ঘ) নেপোলিয়ন।
উত্তরঃ (ঘ) নেপোলিয়ন।
৫০. নেপোলিয়ন ‘ব্যাংক অফ ফ্রান্স’ কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
(ক) ১৮০০ সালে (খ) ১৮০২ সালে (গ) ১৮০৪ সালে (ঘ) ১৮০৬ সালে।
উত্তরঃ (ক) ১৮০০ সালে।
৫১. ‘আমিই বিপ্লব’ এবং ‘আমিই বিপ্লবের ধ্বংসকারী’— উক্তিটি কার?
(ক) রোবসপিয়ের (খ) দাঁতো (গ) সম্রাট নেপোলিয়ন (ঘ) রাজা ষোড়শ লুই।
উত্তরঃ (গ) সম্রাট নেপোলিয়ন।
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. বিপ্লবের সন্তান কাকে বলা হয়?
উত্তর: নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয়।
২. কোড নেপোলিয়ন কবে ঘোষণা করা হয়?
উত্তর: ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে।
৩. কোড নেপোলিয়নে মোট কতটি ধারা ছিল?
উত্তর: ২২৮৭টি।
৪. নেপোলিয়ন কবে নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেন?
উত্তর: ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে।
৫. নেপোলিয়ন কবে ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটান?
উত্তর: ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে।
৬. ট্রাফালগারের যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?
উত্তর: ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে।
৭. ‘বিপ্লবের তরবারি’ হিসেবে কে পরিচিত ছিলেন?
উত্তর: নেপোলিয়ন।
৮. ‘লিজিয়ন অব অনার’ কে চালু করেন?
উত্তর: ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন।
৯. নেপোলিয়নের সেনাদল কী নামে পরিচিত ছিল?
উত্তর: গ্রাঁদ আর্মি।
১০. নেপোলিয়ন কবে রাশিয়া অভিযান করেন?
উত্তর: ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে।
১১. কোড নেপোলিয়ন কতটি অংশে বিভক্ত ছিল?
উত্তর: তিনটি।
১২. কোড নেপোলিয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি কী?
উত্তর: আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা।
১৩. সিজালপাইন প্রজাতন্ত্র কবে ইতালীয় প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
উত্তর: ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে।
১৪. নেপোলিয়নকে কোথায় নির্বাসিত করা হয়েছিল?
উত্তর: সেন্ট হেলেনা দ্বীপে।
১৫. টিলসিটের সন্ধি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
উত্তর: ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে।
১৬. রাইন কনফেডারেশন কবে গঠিত হয়?
উত্তর: ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে।
১৭. নেপোলিয়ন কবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মিলান ডিগ্রি চালু করেন?
উত্তর : ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে।
১৮. সিজালপাইন প্রজাতন্ত্র কবে ইতালীয় প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
উত্তর : ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে।
১৯. নেপোলিয়ন কবে ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটান?
উত্তর : ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে।
২০. ফ্রান্সের প্রথম কনসাল কে ছিলেন?
উত্তর : নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
২১. কোন যুদ্ধকে ‘সম্মিলিত জাতিবর্গের যুদ্ধ’ বলা হয়?
উত্তর : লিপজিগের যুদ্ধ।
২২. বাটাভিয়ান প্রজাতন্ত্র কোথায় গড়ে উঠেছিল?
উত্তর : হল্যান্ডে।
২৩. ইতালীয় জাতীয়তাবাদের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তর : নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
২৪. ট্রাফালগারের যুদ্ধ কবে হয়েছিল?
উত্তর : ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে।
২৫. নেপোলিয়ন কবে আজীবনের জন্য কনসাল পদ লাভ করেন?
উত্তর : ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে।
২৬. কত বছর বয়সে নেপোলিয়ন ফরাসি গোলন্দাজ বাহিনীতে যোগ দেন?
উত্তর : ১৭ বছর বয়সে।
২৭. তৃতীয় শক্তিজোটের সদস্য দেশগুলো কী কী?
উত্তর : ইংল্যান্ড, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, নেপলস।
২৮. দ্বিতীয় শক্তিজোটের সদস্য দেশগুলো কী কী?
উত্তর : ইংল্যান্ড, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, অটোমান সাম্রাজ্য, পর্তুগাল, নেপলস।
২৯. আমিয়েন্সের সন্ধি কবে এবং কার মধ্যে হয়?
উত্তর : ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে।
৩০. নেপোলিয়নের সময় রাশিয়ার জার কে ছিলেন?
উত্তর : প্রথম আলেকজান্ডার।
৩১. লিপজিগের যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?
উত্তর : ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে।
৩২. কোন সময়কে ‘নেপোলিয়নের যুগ’ বলা হয়?
উত্তর : ১৭৯৯ থেকে ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে।
৩৩. ফরাসি বিপ্লবের ‘অগ্নিময় তরবারি’ কাকে বলা হয়?
উত্তর : নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
৩৪. নেপোলিয়নের প্রতিষ্ঠিত ফরাসি সাম্রাজ্য কতটি ডিপার্টমেন্টে বিভক্ত ছিল?
উত্তর : ১৩০টি।
৩৫. ‘মিশরের নায়ক’ নামে কোন ফরাসি সম্রাট পরিচিত ছিলেন?
উত্তর : নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
৩৬. নেপোলিয়ন ডাইরেক্টরি শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে কোন শাসনব্যবস্থা চালু করেন?
উত্তর : কনসুলেট শাসনব্যবস্থা।
৩৭. নেপোলিয়নের শ্রেষ্ঠ সেনাপতি কে ছিলেন?
উত্তর : ম্যাসেনা।
৩৮. নেপোলিয়ন কবে ‘ইউনিভার্সিটি অফ ফ্রান্স’ প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর : ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে।
৩৯. কোন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নেপোলিয়নকে এলবা দ্বীপে নির্বাসিত হতে হয়েছিল?
উত্তর : লাইপজিগের যুদ্ধে।
✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):
১. নেপোলিয়নের ‘গ্রাঁদ আর্মি’ কী?
উত্তরঃ নেপোলিয়নের গ্রাঁদ আর্মি ছিল তার অন্যতম শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সেনাবাহিনী। ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে এই বাহিনী নিয়ে তিনি রাশিয়া অভিযানে গেলে প্রচণ্ড ঠান্ডা, খাদ্যসংকট এবং রুশ গেরিলা হামলার কারণে বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য মারা যায়। এই অভিযানে নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে।
২. নেপোলিয়নকে ‘বিপ্লবের ধ্বংসকারী’ বলা হয় কেন?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন ফরাসি বিপ্লবের অনেক আদর্শ লঙ্ঘন করেছিলেন। তিনি ব্যক্তিস্বাধীনতা সীমিত করেন এবং ফ্রান্সে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া, তার শাসনে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার হ্রাস পায়।
৩. ‘স্পেনীয় ক্ষতি’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন স্পেন দখল করে তার ভাই জোসেফকে সিংহাসনে বসান। এতে স্পেনবাসীরা বিদ্রোহ শুরু করে এবং ফরাসি বাহিনী চূড়ান্ত পরাজিত হয়। এই সামরিক ব্যর্থতা ‘স্পেনীয় ক্ষতি’ নামে পরিচিত।
৪. রাইন কনফেডারেশন কাকে বলে?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন জার্মানির ছোট ছোট রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে একটি কনফেডারেশন গঠন করেন। এটি ‘কনফেডারেশন অফ দ্য রাইন’ নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে তিনি জার্মানির রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনেন।
৫. ‘মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেন। এতে ইংল্যান্ডের পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এই কৌশলটি ‘মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত।
৬. নেপোলিয়নকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় কেন?
উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ ও সুযোগ নেপোলিয়নকে ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করেছিল। তিনি সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের নীতি গ্রহণ করেন। এছাড়া, বিপ্লবের আদর্শ ইউরোপে ছড়িয়ে দেন।
৭. ‘শত দিবসের রাজত্ব’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে এলবা দ্বীপ থেকে ফিরে এসে নেপোলিয়ন পুনরায় ফ্রান্সের ক্ষমতা দখল করেন। তিনি প্রায় ১০০ দিন ফ্রান্স শাসন করেন, যা ‘শত দিবসের রাজত্ব’ নামে পরিচিত। ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
৮. কোড নেপোলিয়ন বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে একটি統 একক আইন সংহিতা প্রণয়ন করেন। এটি ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান আইনগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করে। এই আইনসংহিতা ‘কোড নেপোলিয়ন’ নামে পরিচিত।
৯. লিপজিগের যুদ্ধ কারা কারা লড়েছিল?
উত্তরঃ ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়নের নেতৃত্বাধীন ফরাসি বাহিনী ও ফ্রান্স-বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে লিপজিগের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই বিরোধী শক্তির মধ্যে প্রাশিয়া, রাশিয়া, সুইডেন, অস্ট্রিয়া ও ইংল্যান্ড অন্যতম ছিল। যুদ্ধের ফলে নেপোলিয়ন চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন।
১০. ট্রাফালগারের যুদ্ধের ফলাফল কী ছিল?
উত্তরঃ ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ট্রাফালগারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে নেপোলিয়নের নৌবাহিনী চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয় এবং ইংল্যান্ডের নৌশক্তির আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে নেপোলিয়নের ইউরোপজয়ী পরিকল্পনা ব্যাহত হয়।
১১. কত খ্রিস্টাব্দে সংবিধান সংশোধন করে নেপোলিয়ন আজীবনের জন্য কনসাল নিযুক্ত হন?
উত্তরঃ ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের সংবিধান সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনের মাধ্যমে নেপোলিয়নকে আজীবনের জন্য কনসাল হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এর ফলে ফ্রান্সের শাসনব্যবস্থায় তার কর্তৃত্ব আরও দৃঢ় হয়।
১২. ‘পোড়ামাটি নীতি’ কী?
উত্তরঃ ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়নের রাশিয়া অভিযানের সময় রুশ বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে ধাপে ধাপে পিছু হটতে থাকে। তারা পশ্চাদপসরণের সময় খাদ্যভাণ্ডার ও বসতি ধ্বংস করে দেয়, যাতে ফরাসি বাহিনী খাবার ও আশ্রয়ের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই কৌশল ‘পোড়ামাটি নীতি’ নামে পরিচিত।
১৩. ‘লিজিয়ন অব অনার’ কী?
উত্তরঃ ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন ফ্রান্সের নাগরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সেবা ও বীরত্বের জন্য পুরস্কৃত করতে ‘লিজিয়ন অব অনার’ নামে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় উপাধি চালু করেন। এটি পাঁচটি মর্যাদার স্তরে বিভক্ত ছিল। এর মাধ্যমে তিনি দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতাকে উৎসাহিত করতে চেয়েছিলেন।
১৪. ‘কনফেডারেশন অভ দ্য রাইন’ কেন গঠন করা হয়েছিল?
উত্তরঃ জার্মানি একসময় প্রায় ৩০০টি ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল। নেপোলিয়ন এই ক্ষুদ্র রাজ্যগুলিকে একীভূত করে ৩৯টি বৃহত্তর রাজ্য গঠন করেন এবং তাদের নিয়ে ‘কনফেডারেশন অভ দ্য রাইন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে জার্মানির প্রশাসনিক কাঠামো আরও কার্যকর হয়।
১৫. কনস্যুলেট শাসনব্যবস্থার তিনজন কনসাল কারা ছিলেন?
উত্তরঃ ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে কনস্যুলেট শাসনব্যবস্থা চালু হয়, যেখানে তিনজন কনসাল ছিলেন। তারা হলেন নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, আবে সিয়েস এবং রজার ডুকোস। নেপোলিয়ন ছিলেন এর প্রধান ও সর্বক্ষমতাসম্পন্ন কনসাল।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৪):
১. ওয়াটারলুর যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তরঃ নেপোলিয়ন এলবা দ্বীপ থেকে ফিরে এসে পুনরায় ফ্রান্সের শাসন ক্ষমতা দখল করলে মিত্রশক্তিগুলো তার বিরুদ্ধে একজোট হয়। ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড, প্রাশিয়া, রাশিয়া ও অস্ট্রিয়ার বাহিনী ফ্রান্স আক্রমণ করে। প্রথমে নেপোলিয়ন লিঞ্জি ও কোয়াটার ব্রাসের যুদ্ধে জয়লাভ করলেও পরবর্তীতে ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজিত হন। ব্রিটিশ সেনাপতি ডিউক অব ওয়েলিংটনের নেতৃত্বে ফরাসি বাহিনী সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। যুদ্ধের পর ১৫ জুলাই, ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ন ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বিজয়ী মিত্রশক্তিগণ তাকে আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত করে। সেখানে দীর্ঘ বন্দিজীবন কাটানোর পর ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই যুদ্ধে নেপোলিয়নের পরাজয়ের ফলে ইউরোপে ফ্রান্সের আধিপত্য চিরতরে শেষ হয়ে যায়।
২. ট্রাফালগারের যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তরঃ নেপোলিয়ন ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে নীলনদের যুদ্ধে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হলে তিনি ইংল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়। ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, রাশিয়া ও সুইডেন মিলে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে তৃতীয় শক্তি জোট গঠন করে। নেপোলিয়ন ইংলিশ চ্যানেলের তীরে বিশাল বাহিনী গঠন করেন এবং ইংল্যান্ড আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। ফরাসি সেনাপতি ভিলনেউভের নেতৃত্বে ফরাসি নৌবহর ট্রাফালগারে ব্রিটিশ নৌসেনা অ্যাডমিরাল নেলসনের মুখোমুখি হয়। যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনী ফরাসি নৌবহরকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে। নেপোলিয়নের ইউরোপীয় আধিপত্যের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং ইংল্যান্ডের নৌশক্তি আরও সুদৃঢ় হয়। এই যুদ্ধে নেলসন বিজয়ী হলেও তিনি গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
৩. নেপোলিয়ন সাম্রাজ্যের সঙ্গে ফরাসি বিপ্লবের আদর্শের সংঘাত সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লব ‘সাম্য’, ‘স্বাধীনতা’ ও ‘ভ্রাতৃত্ব’-এই তিনটি আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নেপোলিয়ন প্রথমদিকে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের নীতি অনুসরণ করলেও, স্বাধীনতার আদর্শের বিপরীতে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করে তিনি রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, যা বিপ্লবের মূল চেতনার পরিপন্থী। অধিকৃত রাজ্যগুলোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে তিনি নিজ পরিবারের সদস্যদের শাসক হিসেবে বসান। বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে তিনি জনগণের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। এছাড়া, স্থানীয় আইনসভাগুলির ক্ষমতা সীমিত করে ফ্রান্সে কেন্দ্রীয় শাসন শক্তিশালী করেন। শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শাসকের প্রতি আনুগত্য বাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। ফলে, নেপোলিয়ন বিপ্লবের কিছু আদর্শ রক্ষা করলেও, তার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের নীতি ক্ষুণ্ন হয়।
৪. মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তরঃ ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের দীর্ঘকালীন দ্বন্দ্বের পর ট্রাফালগারের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নেপোলিয়নের ইংল্যান্ড দখলের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। সামরিক পরাজয়ের কারণে তিনি অর্থনৈতিকভাবে ইংল্যান্ডকে দুর্বল করার পরিকল্পনা করেন। ১৮০৬ সালে ‘বার্লিন ডিক্রি’ জারি করে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে ব্রিটিশ জাহাজের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ব্রিটিশ সরকার ‘অর্ডার্স ইন কাউন্সিল’ জারি করে ফ্রান্স ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ১৮০৭ সালে নেপোলিয়ন ‘মিলান ডিক্রি’ জারি করে ইউরোপের বন্দরে ব্রিটিশ পণ্য বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন। এই অর্থনৈতিক অবরোধ নীতি ‘মহাদেশীয় ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত। যদিও এই নীতি ইংল্যান্ডকে দুর্বল করতে পারেনি, বরং ইউরোপের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। ফলে, এই ভুল কৌশলই নেপোলিয়নের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৮):
১. নেপোলিয়নের রাশিয়া আক্রমণের কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ নেপোলিয়নের রাশিয়া আক্রমণের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক কারণ ছিল।
টিলসিটের সন্ধি লঙ্ঘন – ১৮০৭ সালে ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে টিলসিটের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে রাশিয়া মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থায় যোগ দিতে সম্মত হয়। কিন্তু পরে রাশিয়া এই চুক্তি ভঙ্গ করে, যা দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।
মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা – নেপোলিয়ন ব্রিটিশ অর্থনীতিকে দুর্বল করতে ইউরোপে মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা চালু করেন। কিন্তু রাশিয়ার বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের চাহিদা থাকায় তারা এই ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করে, যা নেপোলিয়নের অসন্তোষের কারণ হয়ে ওঠে।
গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারস সমস্যা – নেপোলিয়ন পোল্যান্ডের কিছু অংশ নিয়ে ‘গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারস’ গঠন করেন, যা রাশিয়ার সীমান্তের কাছে ছিল। এতে রাশিয়া মনে করে, নেপোলিয়ন ভবিষ্যতে তাদের ভূখণ্ডের ওপরও দাবি জানাতে পারেন।
ফ্রান্স-অস্ট্রিয়া ঘনিষ্ঠতা – নেপোলিয়ন যখন অস্ট্রিয়ার রাজকন্যা মেরি লুইসাকে বিয়ে করেন, তখন রাশিয়ার জার এটিকে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক জোট হিসেবে দেখেন, যা রাশিয়ার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা – রাশিয়া মহাদেশীয় অবরোধ মানতে গিয়ে প্রচুর অর্থনৈতিক সমস্যার মুখে পড়ে, কারণ ব্রিটিশ পণ্যের অনুপস্থিতিতে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। এই কারণে রাশিয়া অবরোধ মানতে অস্বীকার করে এবং ব্রিটেনের সঙ্গে বাণিজ্য পুনরায় শুরু করে।
ফরাসি সাম্রাজ্য বিস্তারের ইচ্ছা – নেপোলিয়ন ইউরোপজুড়ে তার আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিলেন এবং রাশিয়াও তার লক্ষ্যভুক্ত ছিল। তিনি রাশিয়াকে পরাজিত করলে ইউরোপে তার ক্ষমতা আরও সুসংহত হবে বলে মনে করতেন।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব – নেপোলিয়ন এবং রাশিয়ার জার আলেকজান্ডারের মধ্যে ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সম্পর্কে তিক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা যুদ্ধের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
ক্ষমতা প্রদর্শনের ইচ্ছা – নেপোলিয়ন বিশ্বাস করতেন, রাশিয়াকে পরাজিত করতে পারলে তার সাম্রাজ্য আরও শক্তিশালী হবে এবং ব্রিটেন ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ তাকে ভয় পাবে।
এইসব কারণেই ১৮১২ সালে নেপোলিয়ন বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে রাশিয়া আক্রমণ করেন, যা শেষ পর্যন্ত তার সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
২. নেপোলিয়নের বিভিন্নপ্রকার সংস্কার গুলি নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তরঃ নেপোলিয়ন শুধুমাত্র একজন বিজয়ী সম্রাটই ছিলেন না, তিনি এক দক্ষ প্রশাসক ও সংস্কারক হিসেবেও ইতিহাসে স্মরণীয়। তার বিভিন্ন সংস্কার ফ্রান্সের শাসনব্যবস্থাকে দৃঢ় করে এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশেও প্রভাব ফেলে।
নেপোলিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসমূহ:
(১) প্রশাসনিক সংস্কার: নেপোলিয়ন ফ্রান্সকে ৮৩টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলে ‘প্রিফেক্ট’ ও ‘সাব-প্রিফেক্ট’ নিয়োগ করেন। এতে কেন্দ্রীয় শাসন আরও শক্তিশালী হয়।
(২) আইন সংস্কার: ১৮০৪ সালে তিনি ‘কোড নেপোলিয়ন’ প্রবর্তন করেন, যা ব্যক্তি স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার নীতি প্রচলন করে।
(৩) শিক্ষা সংস্কার: তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ‘ইউনিভার্সিটি অফ ফ্রান্স’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং কারিগরি, বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটান।
(৪) অর্থনৈতিক সংস্কার: তিনি ‘ব্যাংক অফ ফ্রান্স’ স্থাপন করেন, সরকারি ব্যয় কমিয়ে অর্থনীতিকে সুসংহত করেন এবং কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখেন।
(৫) ধর্মীয় সংস্কার: পোপের সঙ্গে ‘কনকর্ডাট’ চুক্তি করে ক্যাথলিক ধর্মের স্বীকৃতি দেন এবং গির্জার সম্পত্তি সংরক্ষণ করেন।
(৬) যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: ফ্রান্সের সড়ক, সেতু ও খাল নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করেন, যা বাণিজ্য সম্প্রসারণে সাহায্য করে।
(৭) কৃষি ও ভূমি সংস্কার: তিনি কৃষকদের জন্য ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করেন, ফলে কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি ঘটে এবং সামন্ততন্ত্রের অবসান ঘটে।
(৮) সামরিক সংস্কার: সেনাবাহিনীকে আধুনিকীকরণ করেন, যুদ্ধ কৌশলে নতুনত্ব আনেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেন।
নেপোলিয়নের সংস্কার ফ্রান্সের সমাজ, প্রশাসন ও অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। তার শাসনব্যবস্থা আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
<<<<<<<<<<<<<🌹 সমাপ্ত 🌹>>>>>>>>>>>>>

