🌹 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর::দাম-নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়🌹


 

 

✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):

১. “গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়।” – এখানে ‘পঞ্চত্ব’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) ক্ষতি । (খ) হানি । (গ) মৃত্যু । (ঘ) সমস্যা ।

উত্তর: (গ) মৃত্যু।

২. “সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।” – বক্তার বক্তব্য অনুসারে সভাটি কোথায় হয়েছিল?
(ক) সুকুমার রায়ের কলেজে । (খ) বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে । (গ) কলকাতার এক নামী কলেজে । (ঘ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ।

উত্তর: (খ) বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে।

৩. কলকাতা থেকে কেউ বাইরে গেলে কেমন সংবর্ধনা দেওয়া হয়?
(ক) বীরোচিত । (খ) যথোচিত । (গ) রাজোচিত । (ঘ) ভদ্রোচিত ।

উত্তর: (গ) রাজোচিত।

৪. “এখানকার চড়ুই পাখিও সেখানে সন্মান পায়” – এখানে ‘সেখানে’ বলতে কোথায় বোঝানো হয়েছে?
(ক) রাজহংসের দেশ । (খ) ময়ূরের দেশ । (গ) টিয়াপাখির দেশ । (ঘ) চাতকের দেশ ।

উত্তর: (ক) রাজহংসের দেশ।

৫. প্লেটোর দরজার সামনে কী লেখা ছিল?
(ক) বাংলাদেশের কলেজে বক্তৃতা দিতে হবে । (খ) স্মৃতির দিকে তাকাবার অবসর নেই । (গ) যে অংক জানে না, এখানে তার প্রবেশ নিষেধ । (ঘ) সেখানে রাজোচিত সংবর্ধনা পাওয়া যাবে ।

উত্তর: (গ) যে অংক জানে না, এখানে তার প্রবেশ নিষেধ।

৬. “পৃথিবীতে যত _____ ছিল, সব যেন ওঁর মুখস্থ” – শূন্যস্থানে কী শব্দটি বসবে?
(ক) গল্প । (খ) অংক । (গ) কবিতা । (ঘ) ব্যাকরণ ।

উত্তর: (খ) অংক।

৭. ঝড়ের গতিতে খসখস শব্দ করে এগিয়ে চলত কী?
(ক) খড়ি । (খ) কলম । (গ) পেনসিল । (ঘ) ডাস্টার ।

উত্তর: (ক) খড়ি।

৮. ‘স্কুলে কি বিভীষিকাই যে ছিলেন’ – এখানে ‘বিভীষিকা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) মাস্টারমশাই । (খ) সুকুমার । (গ) এক ভদ্রলোক । (ঘ) হেডমাস্টার ।

উত্তর: (গ) এক ভদ্রলোক।

৯. “সেই কুবেরের ভান্ডারকে ধরে দিয়েও যা পাওয়া যায় না” – এখানে কী পাওয়া যায় না?
(ক) সম্পদ । (খ) জ্ঞান । (গ) ক্ষমা । (ঘ) সোনাদানা ।

উত্তর: (গ) ক্ষমা।

১০. মাস্টারমশাই সুকুমারকে কী নামে ডাকতেন?
(ক) বিভূতি । (খ) সুকুমার । (গ) বিমল । (ঘ) তারিণী ।

উত্তর: (খ) সুকুমার।

১১. বক্তা ইংরেজি কোটেশন কার নামে প্রচার করেছিলেন?
(ক) উইলিয়াম শেক্সপিয়ার । (খ) জন মিল্টন । (গ) জর্জ বার্নাড শ । (ঘ) এমিলি ব্রন্টে ।

উত্তর: (গ) জর্জ বার্নাড শ।

১২. বক্তা তাঁর বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথের কয়টি উক্তি ব্যবহার করেছিলেন?
(ক) ৩১ টি । (খ) ১৩ টি । (গ) ২১ টি । (ঘ) ১২ টি ।

উত্তর: (ঘ) ১২ টি।

১৩. মাস্টারমশাই কোন বিষয় পড়াতেন?
(ক) ইংরেজি । (খ) অংক । (গ) ভূগোল । (ঘ) সংস্কৃত ।

উত্তর: (খ) অংক।

১৪. মাস্টারমশাই কোন বিষয়কে ছবির মতো সাজিয়ে উপস্থাপন করতেন?
(ক) ব্যাকরণ । (খ) ভূগোল । (গ) অংক । (ঘ) ইংরেজি ।

উত্তর: (গ) অংক।

১৫. সুকুমার তাঁর মাস্টারমশাইকে নিয়ে গল্প লিখে পত্রিকার সম্পাদকের কাছ থেকে কী পুরস্কার পেয়েছিলেন?
(ক) দশ টাকা । (খ) বারো টাকা । (গ) পনেরো টাকা । (ঘ) কুড়ি টাকা ।

উত্তর: (ক) দশ টাকা।

১৬. পত্রিকা কর্তৃপক্ষ গল্প লেখার জন্য সুকুমারকে কত টাকা দক্ষিণা দিয়েছিলেন?
(ক) পাঁচশো টাকা । (খ) দশ টাকা । (গ) কুড়ি টাকা । (ঘ) একশো টাকা ।

উত্তর: (খ) দশ টাকা।

১৭. পত্রিকা থেকে কী বিষয়ের উপর গল্প লেখার জন্য অনুরোধ এসেছিল?
(ক) ছেলেবেলার গল্প । (খ) ঐতিহাসিক গল্প । (গ) প্রেমের কবিতা । (ঘ) ভ্রমণ কাহিনী ।

উত্তর: (ক) ছেলেবেলার গল্প।

১৮. “গাধা পিটিয়ে করতে _____ গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়।” – শূন্যস্থান পূরণ কর।
(ক) হাতি । (খ) মানুষ । (গ) ঘোড়া । (ঘ) বানর ।

উত্তর: (গ) ঘোড়া।

১৯. “ছবিটা যা ফুটলো” – এখানে ‘ছবিটা’ কেমন হয়েছিল?
(ক) উজ্জ্বল নয় । (খ) রঙিন নয় । (গ) সুন্দর নয় । (ঘ) গোছানো নয় ।

উত্তর: (ক) উজ্জ্বল নয়।

২০. “সে স্বর্গের চাইতে ______ যোজন দূরে থাকাই আমরা নিরাপদ বোধ করতুম” – শূন্যস্থানে কী বসবে?
(ক) শত । (খ) সহস্র । (গ) লক্ষ । (ঘ) কোটি ।

উত্তর: (গ) লক্ষ।

২১. “...কাঁদবার জো ছিল না।” – কেন কাঁদবার উপায় ছিল না?
(ক) ক্লাসের অন্য ছেলেদের সামনে কাঁদতে লজ্জা করত ।
(খ) চোখের জল মাস্টারমশাই সহ্য করতে পারতেন না ।
(গ) কাঁদলে মাস্টারমশাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন ।
(ঘ) কাঁদলে আরও অঙ্ক কষতে হত ।

উত্তর: (গ) কাঁদলে মাস্টারমশাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন।

২২. অঙ্কে যারা একশোর মধ্যে একশো পেত, তাদের কী অবস্থা ছিল?
(ক) ওঁর ভয়ে কান্নাকাটি করত । (খ) ওঁর ভয়ে অজ্ঞান হত । (গ) ওঁর জন্য অপেক্ষা করত । (ঘ) ওঁর ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত ।

উত্তর: (ঘ) ওঁর ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত।

২৩. এম.এ. পাস করার পরেও সুকুমার কিসের দুঃস্বপ্ন দেখতেন?
(ক) পরীক্ষায় অঙ্ক না মেলার । (খ) চাকরি না পাওয়ার । (গ) স্কুলে শাস্তি পাওয়ার । (ঘ) খেলায় জিততে না পারার ।

উত্তর: (ক) পরীক্ষায় অঙ্ক না মেলার।

২৪. 'দাম' গল্পে সুকুমার পেশায় কী ছিলেন?
(ক) ডাক্তার । (খ) অধ্যাপক । (গ) ইঞ্জিনিয়ার । (ঘ) সাংবাদিক ।

উত্তর: (ঘ) সাংবাদিক।

২৫. “কার একটা ইংরেজি কোটেশন চালিয়ে দিলুম _______ নামে” – শূন্যস্থানে কী বসবে?
(ক) টেনিসনের । (খ) বায়রনের । (গ) শেকসপিয়রের । (ঘ) বার্নার্ড শ-র ।

উত্তর: (ঘ) বার্নার্ড শ-র নামে।

✍️ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):

১.সুকুমারকে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ  কত টাকা দক্ষিণা দিয়েছিল?

উত্তরঃ গল্পকথক নিজের স্কুলের মাস্টারমশাইকে নিয়ে লেখা গল্পের জন্য পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাঁকে সম্মানসূচক দশ টাকা দক্ষিণা দিয়েছিল।

২. “তার প্রমাণ আমি নিজেই।” — এখানে কে এবং কীসের প্রমাণ দিচ্ছেন?

উত্তরঃ ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমার বলছেন যে, কঠোর শাসন ও শাস্তির মাধ্যমে কাউকে শেখানো সম্ভব নয়, এবং তিনি নিজেই তার জীবন্ত প্রমাণ।

৩. “গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়”— এখানে ‘পঞ্চত্ব’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ এখানে ‘পঞ্চত্ব’ বলতে দুর্বল ছাত্রদের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অপমৃত্যুকে বোঝানো হয়েছে।

৪. “তা হলে নির্ভয়ে লিখতে পারি।” — কথকের এই নির্ভয়তার কারণ কী?

উত্তরঃ পত্রিকাটির পাঠকসংখ্যা কম হওয়ায় কথকের আত্মকথা অন্য কারও কাছে অপমানজনক মনে হবে না, এই বিশ্বাসেই তিনি নির্ভয়ে লিখেছিলেন।

৫. “এম এ পাশ করবার পরেও স্বপ্ন দেখেছি” — কে এবং কী স্বপ্ন দেখেছেন?

উত্তরঃ গল্পকথক সুকুমার স্বপ্ন দেখেছিলেন যে, পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা বেজে যাচ্ছে, অথচ অঙ্ক মিলছে না, আর মাস্টারমশাই রাগী চোখে তাঁকে দেখছেন।

৬. “কিন্তু কাঁদবার জো ছিল না” — কেন কাঁদবার সুযোগ ছিল না?

উত্তরঃ অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের হাতে চড় খেয়েও কাঁদার উপায় ছিল না, কারণ তাতে তিনি আরও বেশি বকাঝকা করতেন এবং পা ধরে পুকুরে ছুঁড়ে ফেলার হুমকি দিতেন।

৭. মাস্টারমশাই অঙ্ককে কীভাবে বোর্ডে সাজাতেন?

উত্তরঃ ‘দাম’ গল্পে মাস্টারমশাই অঙ্ক বোর্ডে এত নিখুঁতভাবে সাজিয়ে দিতেন যে, সেটি যেন একটি সুগঠিত চিত্র হয়ে উঠত।

৮. অঙ্ক করার সময় খড়ি ভেঙে গেলে মাস্টারমশাই কী করতেন?

উত্তরঃ অঙ্ক করার সময় খড়ি ভেঙে গেলে মাস্টারমশাই বিরক্ত হয়ে ভাঙা খড়ির টুকরো ছাত্রদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে নতুন খড়ি নিতেন।

৯. ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে সুকুমার কীসের হাত থেকে মুক্তি পেলেন?

উত্তরঃ ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুকুমার অঙ্ক এবং ভীতিকর অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে মুক্তি পেলেন।

১০. যে স্বর্গে পা দিয়েই জ্যামিতির এক্সট্রা কষতে হয়, তার সম্পর্কে কথকের মত কী?

উত্তরঃ কথকের মতে, যেখানে স্বর্গে প্রবেশ করেই জ্যামিতির কঠিন অঙ্ক কষতে হয়, সে স্বর্গ থেকে লক্ষ যোজন দূরে থাকাই ভালো।

১১. মাস্টারমশাইয়ের মতে, স্বর্গের দরজায় কী লেখা আছে?

উত্তরঃ মাস্টারমশাইয়ের মতে, স্বর্গের দরজাতেও প্লেটোর দোরগোড়ার মতোই লেখা আছে, “যে অঙ্ক জানে না — এখানে তার প্রবেশ নিষেধ।”

১২. প্লেটোর দোরগোড়ায় কী লেখা ছিল বলে মাস্টারমশাই বলেছেন?

উত্তরঃ প্লেটোর দোরগোড়ায় লেখা ছিল, “যে অঙ্ক জানে না — এখানে তার প্রবেশ নিষেধ।”

১৩. মাস্টারমশাইয়ের চড়ের জোর দেখে ছাত্ররা কী ধারণা করেছিল?

উত্তরঃ ছাত্ররা মনে করত যে, মাস্টারমশাই চড় মারার মতোই শক্তিশালী এবং সত্যিই পা ধরে তাদের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলতে পারেন।

১৪. গল্পে ‘বিভীষিকা’ হিসেবে কাকে দেখানো হয়েছে?

উত্তরঃ ‘দাম’ গল্পে কথকের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছাত্রদের কাছে এক বিভীষিকাস্বরূপ ছিলেন।

১৫. “এখনি পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেবো” — কে, কাদের উদ্দেশ্যে বলতেন?

উত্তরঃ যেসব ছাত্ররা অঙ্ক না পারায় চড় খেয়ে কাঁদত, তাদের উদ্দেশ্যে কথকের অঙ্কের মাস্টারমশাই এই কথা বলতেন।

১৬.ছেলেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা  কী নিয়ে পণ্ডশ্রম করত?

উত্তরঃ স্কুলের ছাত্ররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জটিল অঙ্ক কষে পণ্ডশ্রম করত।

১৭. গল্পকথকের স্কুলে বিভীষিকা হিসেবে কে ছিলেন?

উত্তরঃ গল্পকথকের স্কুলে অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন ছাত্রদের বিভীষিকার মতো ভীতিকর ব্যক্তি।

১৮. সুকুমার মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে কোনটিকে নগদ লাভ বলে মনে করেছিলেন?

উত্তরঃ পত্রিকায় মাস্টারমশাইকে নিয়ে লেখা ছেলেবেলার স্মৃতির জন্য পাওয়া দশ টাকাকেই সুকুমার নগদ লাভ বলে মনে করেছিলেন।

১৯. “মনে এল মাস্টারমশাইয়ের কথা।” — কথক কখন এমনটি মনে করেছিলেন?

উত্তরঃ একটি পত্রিকায় ছেলেবেলার গল্প লেখার সময় সুকুমারের মনে তাঁর অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা এসেছিল।

২০. সুকুমার কাকে নিয়ে ছেলেবেলার গল্প লিখেছিলেন?

উত্তরঃ সুকুমার তাঁর স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে ছেলেবেলার গল্প লিখেছিলেন।

২১. ‘সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ — এখানে কাদের বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ স্বনামধন্য সাহিত্যিকদের ‘সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ বলে বোঝানো হয়েছে।

২২. সুকুমারের কাছে ছেলেবেলার গল্প লেখার অনুরোধ কোথা থেকে এসেছিল?

উত্তরঃ একটি অখ্যাত পত্রিকার পক্ষ থেকে সুকুমারের কাছে তাঁর ছেলেবেলার গল্প লেখার অনুরোধ এসেছিল।

২৩. সুকুমার কলেজে কী পড়াতেন?

উত্তরঃ ‘দাম’ গল্পে দেখা যায়, সুকুমার কলেজে বাংলা পড়াতেন।

২৪. “তারপর চোখে পড়ল মানুষটিকে।” — এখানে মানুষটি দেখতে কেমন ছিলেন?

উত্তরঃ মানুষটি ছিলেন লম্বা ও কুঁজো, আর রাতের অন্ধকারেও তাঁর সাদা চুলগুলো উজ্জ্বলভাবে চোখে পড়ছিল।

২৫. “এমন সময় একটি ছেলে এসে খবর দিলে” — কী খবর দিল?

উত্তরঃ একটি ছেলে এসে জানায় যে, এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক সুকুমারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

২৬. “আর বলতে পারলেন না।” — কে এবং কেন বলতে পারলেন না?

উত্তরঃ বৃদ্ধ অঙ্কের মাস্টারমশাই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ায় তাঁর চোখে জল এসে গিয়েছিল, তাই তিনি আর কথা বলতে পারেননি।

২৭. “...লুকিয়ে ছিল মনের চোরাকুঠুরিতে” — এখানে কী লুকিয়ে ছিল?

উত্তরঃ ছেলেবেলায় অঙ্ক না পারলে মাস্টারমশাইয়ের শাস্তি পাওয়ার স্মৃতি গল্পকথকের মনের গভীরে লুকিয়ে ছিল।

২৮. “একটা ভয়ের মৃদু শিহরন আমার বুকের ভিতর দিয়ে বয়ে গেল।” — কথকের মনে এমন ভয় কেন জেগেছিল?

উত্তরঃ মাস্টারমশাইয়ের প্রতি শৈশবের চাপা ভীতি ও আতঙ্ক মনে রয়ে যাওয়ায় তাঁর গলা শুনে সুকুমারের শরীরে শিহরন বয়ে যায়।

২৯. “আমার মনটাকে অদ্ভুতভাবে দুলিয়ে দিল।” — কথকের মন দুলে উঠেছিল কেন?

উত্তরঃ এক আশ্চর্যভাবে পরিচিত কণ্ঠে কেউ নাম ধরে ডাকলে কথকের মন আলোড়িত হয়ে ওঠে।

৩০. “মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে এইটুকুই আমার নগদ লাভ” — কথক এখানে কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তরঃ গল্পকথক মাস্টারমশাইকে নিয়ে লেখা গল্পের জন্য পত্রিকা থেকে যে দশ টাকা সম্মানী পেয়েছিলেন, সেটিকেই তিনি নগদ লাভ বলে মনে করেছিলেন।

৩১. “এখানে তাঁর প্রবেশ নিষেধ” — কাদের কোথায়  প্রবেশ নিষেধ ছিল?

উত্তরঃ এখানে ‘এখানে’ বলতে প্লেটোর দোরগোড়া বোঝানো হয়েছে। মাস্টারমশাইয়ের মতে, যারা অঙ্ক জানে না, তাদের প্লেটোর দোরগোড়ায় প্রবেশ নিষেধ।

৩২. “তা উনি পারতেন।” — এখানে ‘উনি’ কী পারতেন?

উত্তরঃ গল্পের অঙ্কের মাস্টারমশাই অঙ্ক না-পারা ছাত্রদের কাঁদতে দেখলে পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারতেন বলে দাবি করতেন।

৩৩. “ওর ভয়ে তারাও তটস্ত হয়ে থাকতো” — এখানে ‘ওর’ ও ‘তারা’ কাকে বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ ‘ওর’ বলতে গল্পের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে বোঝানো হয়েছে এবং ‘তারা’ বলতে অঙ্কে ১০০ তে ১০০ পাওয়া ছাত্রদের কথা বলা হয়েছে, যারা তাঁর রাগের ভয়ে তটস্ত থাকত।

৩৪. “আমরা রোমাঞ্চিত হয়ে দেখতুম” — কী দেখার কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ ‘দাম’ গল্পে কথকের ছোটবেলায় স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই যখন জটিল অঙ্ক অনায়াসে ব্ল্যাকবোর্ডে ছবির মতো সাজিয়ে দিতেন, তখন ছাত্ররা রোমাঞ্চিত হয়ে তা দেখত।

✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):

১. "আমাদের মতো নগণ্যের পক্ষে ততই সুখাবহ" - 'আমাদের' বলতে এখানে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের কাছে কোন বিষয়টি সুখাবহ ছিল?

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমার ‘আমাদের’ বলতে তার মতো মাঝারি মানের লেখকদের বোঝাতে চেয়েছেন।

বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে বার্ষিক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে সুকুমার আনন্দ অনুভব করেন। কলকাতার মতো শহরে যেখানে লেখকের বিশেষ মর্যাদা থাকে না, সেখানে এই গ্রামের মানুষরা তাদের খুব গুরুত্ব দেয়। তারা লেখকদের সম্মান জানায় এবং বিশেষ মর্যাদার আসনে বসায়। এই শ্রদ্ধা ও সম্মানই সুকুমারের কাছে সুখাবহ বলে মনে হয়।

২. "আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে" - বক্তার ছাত্র কাকে কীভাবে অমর করে দিয়েছে?

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে কথক সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই এই উক্তিটি করেছেন।

অঙ্কের শিক্ষক ছিলেন অত্যন্ত কঠোর এবং ছাত্রদের শাসনের মাধ্যমে অঙ্ক শেখাতে চাইতেন। ফলে তার প্রতি ছাত্রদের মিশ্র অনুভূতি ছিল—ভয় ও শ্রদ্ধার সংমিশ্রণ। সুকুমার পরবর্তীকালে মাস্টারমশাইয়ের সেই কঠোরতার কথা ও তার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি গল্প লেখেন, যা একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। মাস্টারমশাই যখন সেই গল্প পড়েন, তখন তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন যে, ছাত্ররা তাকে লিখে রাখার মাধ্যমে তাকে অমর করে দিয়েছে।

৩. "দু-চোখ দিয়ে তার আগুন ঝরছে" - কার কথা বলা হয়েছে? তার চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে কেন?

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে।

সুকুমার এমএ পাস করার পরও এক দুঃস্বপ্নে দেখেন যে তিনি অঙ্ক পরীক্ষায় বসেছেন, কিন্তু একটি অঙ্কও মিলছে না। সময় ফুরিয়ে আসছে, আর ঠিক তখনই তার স্কুলের বিভীষিকাময় মাস্টারমশাই গার্ড হিসেবে সামনে এসে দাঁড়ান। সুকুমার অঙ্ক পারছে না দেখে মাস্টারমশাইয়ের চোখ থেকে যেন আগুন ঝরতে থাকে, যা তার রাগ ও কঠোরতার প্রতীক।

৪. "মাস্টারমশাই আমাকে বলতে দিলেন না" - বলতে না দিয়ে তিনি নিজে কী বলেছিলেন?

উত্তর: গল্পের কথক সুকুমারের বক্তৃতার প্রশংসা করলে তিনি লজ্জা পান এবং কিছু বলতে চান। কিন্তু মাস্টারমশাই তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন যে, ছাত্ররাই শিক্ষকদের গর্ব ও পরিচয়ের মূল ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন যে তিনি ছাত্রদের শাসন ছাড়া কিছুই দেননি, অথচ তার ছাত্র তাকে স্মরণ করে লিখেছে। এরপর তিনি পকেট থেকে একটি পুরোনো পত্রিকা বের করে দেখান যেখানে সুকুমারের লেখা গল্পে তার কথা আছে। এই লেখা দেখে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে যান এবং বলেন যে, ছাত্ররা তাকে লিখে অমর করে দিয়েছে।

৫. "এখনি পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেবো" - বক্তা কেন এই কথা বলেছেন?

উত্তর: এই উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর শিক্ষক, যিনি ছাত্রদের অঙ্ক শেখাতে গিয়ে প্রয়োজনে মারধর করতেন। ছাত্ররা অঙ্ক না পারলে তিনি তাদের কষিয়ে চড় মারতেন। কেউ কেঁদে ফেললে তিনি আরও রেগে যেতেন এবং পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলার হুমকি দিতেন। তার মতে, অঙ্ক না পারা এবং কান্নাকাটি করা দুটোই লজ্জার বিষয়।

৬. "একটা ভয়ের মৃদু শিহরণ আমার বুকের ভিতর দিয়ে বয়ে গেল" - বক্তার শিহরণ হওয়ার প্রকৃত কারণ কী?

উত্তর: গল্পের কথক সুকুমার বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে বক্তৃতা দেওয়ার পর, এক ভদ্রলোক অন্ধকারে তাকে নাম ধরে ডাকেন। এই মুহূর্তে তিনি শিহরিত হন।

প্রথমে অচেনা জায়গায় কেউ তার নাম ধরে ডাকছে শুনে তিনি বিস্মিত হন, এরপর কণ্ঠস্বরটি চিনতে পেরে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এটি ছিল তার স্কুলের বিভীষিকা-স্বরূপ অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কণ্ঠস্বর। ছোটোবেলায় তার কাছ থেকে অঙ্ক না পারার জন্য প্রায়ই শাস্তি পেতে হয়েছে। সেই পুরোনো স্মৃতির ভয়ই তার বুকের ভিতর দিয়ে শিহরণ বইয়ে দেয়।

৭. "ওঁর ভয়ে তারাই তটস্থ হয়ে থাকত" - কার ভয়ে কারা তটস্থ থাকত?

উত্তর: গল্পে স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের ভয়ে এমনকি ভালো ছাত্ররাও তটস্থ থাকত।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ গণিতজ্ঞ, যে-কোনো কঠিন অঙ্ক মুহূর্তের মধ্যে সমাধান করতে পারতেন। তিনি মনে করতেন, অঙ্ক না জানলে জীবন বৃথা। তাই ছাত্ররা অঙ্ক না পারলে তিনি প্রচণ্ড রেগে যেতেন এবং তাদের কঠোর শাস্তি দিতেন। ফলে যারা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেত তারাও তার ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকত।

৮. "ছেলেরা বিস্ময়ে চোখ কপালে তুলল" - ছেলেরা বিস্মিত হলো কেন?

উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে বক্তৃতা শেষে বৃদ্ধ প্রিন্সিপাল সুকুমারের প্রশংসা করছিলেন।

তখন সুকুমার বলেন, শরীর ভালো না থাকার কারণে তিনি ঠিকমতো বক্তৃতা দিতে পারেননি। অর্থাৎ, তিনি সুস্থ থাকলে আরও ভালো বক্তৃতা দিতে পারতেন। এই কথা শুনে ছাত্ররা অবাক হয়ে যায় এবং বিস্ময়ে তাদের চোখ কপালে ওঠে। কারণ, তাদের কাছে বক্তৃতাটি এতই চমৎকার লেগেছিল যে তারা কল্পনাই করতে পারেনি যে তিনি আরও ভালো বক্তৃতা দিতে পারতেন।

৯. "স্কুলে কী বিভীষিকাই যে ছিলেন ভদ্রলোক!" - এখানে যার কথা বলা হয়েছে তিনি কেন বিভীষিকা ছিলেন?

উত্তর: এখানে গল্পের কথক সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে।

তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ গণিতজ্ঞ, যে-কোনো অঙ্ক মুহূর্তেই সমাধান করতে পারতেন। তিনি মনে করতেন, অঙ্ক না পারলে জীবন বৃথা। তাই ছাত্ররা অঙ্ক না পারলে তিনি প্রচণ্ড রেগে যেতেন এবং শাস্তি দিতেন। ছাত্রদের পিঠে তার কঠিন হাতের চড় পড়ত, কিন্তু কেউ কাঁদতে পারত না, কারণ কান্নাকাটিকে তিনি দুর্বলতার লক্ষণ মনে করতেন। এই কঠোর শাসনের কারণেই ছাত্রদের কাছে তিনি বিভীষিকা-স্বরূপ ছিলেন।

✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):

১. 'দাম' ছোট গল্পে মাস্টারমশাইয়ের চরিত্র বর্ণনা করো।

উত্তর: মাস্টারমশাই চরিত্রটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ গণিত শিক্ষক এবং ছাত্রদের কাছে এক ভীতিকর ব্যক্তিত্ব।

প্রথমত, মাস্টারমশাই গণিতের এক অসাধারণ পাণ্ডিত্যসম্পন্ন শিক্ষক ছিলেন। যে-কোনো জটিল অঙ্ক একবার দেখেই তিনি অনায়াসে সমাধান করতে পারতেন।

দ্বিতীয়ত, তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, কঠোর শাসনই ছাত্রদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। এই কারণে তার পড়ানোর ধরনে শাসনের আধিক্য ছিল, যা ছাত্রদের মনে ভীতি তৈরি করত।

তৃতীয়ত, তিনি ছিলেন উদার মনের মানুষ। বহু বছর পর যখন তিনি তার ছাত্র সুকুমারের লেখা সমালোচনামূলক স্মৃতিকথা পড়েন, তখন সেটাকে তিনি বিরূপভাবে না দেখে বরং সন্তানের অধিকার হিসেবেই গ্রহণ করেন। তার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল ছাত্রের স্মৃতিতে বেঁচে থাকা।

সারকথা, মাস্টারমশাই ছিলেন একজন কর্তব্যপরায়ণ এবং আদর্শ শিক্ষক। যদিও তার শাসনের পদ্ধতিতে ত্রুটি ছিল, তবে তিনি কখনো ছাত্রদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেননি। বরং ক্ষমার দৃষ্টিতে তিনি সবকিছু গ্রহণ করেছেন।


২. "আমি তাঁকে দশ টাকায় বিক্রি করেছিলুম" - এই উক্তিটির আলোকে সুকুমার চরিত্রটি আলোচনা করো।

উত্তর: ‘দাম’ গল্পের প্রধান চরিত্র সুকুমার একজন আত্মবিশ্লেষণধর্মী মানুষ। ছোটবেলায় তিনি গণিতে দুর্বল ছিলেন এবং তার অঙ্কের শিক্ষক মাস্টারমশাইয়ের কঠোর শাসন তাকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল।

প্রথমত, সুকুমার অঙ্কে অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন। স্কুলজীবনে মাস্টারমশাইয়ের কঠোরতা তার কাছে বিভীষিকার মতো মনে হতো। এমনকি বড় হওয়ার পরেও তিনি মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্নে মাস্টারমশাইকে দেখতে পেতেন।

দ্বিতীয়ত, তিনি ছিলেন আত্মসমালোচক। নিজের লেখার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন এবং নিজের বক্তৃতার আবেগসর্বস্বতা সম্পর্কে খোলাখুলি স্বীকার করতেন।

তৃতীয়ত, তিনি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল ও সংবেদনশীল। বহু বছর পর মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর, তিনি বুঝতে পারেন যে, এতদিন তিনি শুধুমাত্র তার কঠোরতাকেই দেখেছিলেন, কিন্তু তার অন্তরের স্নেহ অনুভব করতে পারেননি। মাস্টারমশাই যখন বলেন, “আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে,” তখন সুকুমার গভীর আত্মগ্লানিতে ভেঙে পড়েন।

সারকথা, সুকুমার এমন একজন ব্যক্তি যিনি সময়ের সাথে নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং তার পুরোনো শিক্ষকের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তার চরিত্রের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ও সম্পর্কের এক নতুন ব্যাখ্যা উঠে আসে।


৩. "এ অপরাধ আমি বইব কী করে, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব!" - অপরাধবোধ এবং আত্মগ্লানি দূর হয়ে কীভাবে বক্তার আত্মশুদ্ধি ঘটল তা সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: ‘দাম’ গল্পে কথকের শৈশবের বিভীষিকা ছিলেন তার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই। তার কঠোর শাসন এবং শাস্তি কথকের মনে চিরস্থায়ী ভয় তৈরি করেছিল।

প্রথমত, কথকের মনে একধরনের গোপন তৃপ্তি জন্ম নেয় যখন তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি এখন অঙ্ক পড়েন না, বরং বাংলা পড়ান। সেই সময় তিনি মাস্টারমশাই সম্পর্কে এক ব্যঙ্গাত্মক স্মৃতিকথা লেখেন, যা প্রকাশিত হয়।

দ্বিতীয়ত, যখন বহু বছর পর মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে তার পুনরায় দেখা হয়, তখন তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়। তিনি জানতে পারেন যে, মাস্টারমশাই সেই লেখা পড়েছেন এবং তাতে কোনো বিদ্বেষ অনুভব না করে বরং গর্বিত হয়েছেন।

তৃতীয়ত, মাস্টারমশাই যখন বলেন, "আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে," তখন কথকের মনে এক অপ্রকাশিত অপরাধবোধ জাগে। তিনি বুঝতে পারেন, মাস্টারমশাই তার শিক্ষাকে কখনো প্রতিশোধ বা বিদ্বেষের দৃষ্টিতে দেখেননি, বরং সন্তানের মতো ভালোবেসেছেন।

সারকথা, মাস্টারমশাইয়ের এই উদারতা কথকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তার আত্মগ্লানি গলে গিয়ে আত্মশুদ্ধিতে রূপান্তরিত হয়। তিনি মাস্টারমশাইয়ের প্রতি নতুনভাবে শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠেন।


৪. 'দাম' গল্পটি ছোটোগল্প হিসেবে কতটা সার্থক আলোচনা করো।

উত্তর: ‘দাম’ গল্পটি ছোটোগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলিকে ধারণ করে এক অনন্য মাত্রা অর্জন করেছে। এটি আকারে সংক্ষিপ্ত, চরিত্রের সংখ্যা সীমিত, কাহিনির গতি একমুখী এবং শেষ পরিণতিতে একটি চমকপ্রদ উপস্থাপনা রয়েছে।

প্রথমত, ছোটোগল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল সংক্ষিপ্ততা। ‘দাম’ গল্পে অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা নেই। এটি সুকুমার ও তার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ছোটোগল্পে চরিত্রের সংখ্যা কম হয়। এই গল্পেও তাই দেখা যায়—প্রধানত সুকুমার ও মাস্টারমশাইয়ের চরিত্রই গল্পের মূল চালিকা শক্তি।

তৃতীয়ত, ঘটনাবলী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং একমুখী। গল্পটি শুরু হয় ছাত্র ও শিক্ষকের সম্পর্কের বর্ণনা দিয়ে এবং শেষ হয় সেই সম্পর্কের এক নতুন উপলব্ধির মাধ্যমে। কোনো অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা এতে যুক্ত হয়নি।

চতুর্থত, গল্পের শেষ পরিণতিতে এক আকস্মিক চমক রয়েছে। মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে আশ্চর্যজনক প্রতিক্রিয়া পেয়ে সুকুমার নিজেকে অপরাধী ভাবতে থাকেন এবং তার আত্মশুদ্ধি ঘটে।

সারকথা, ‘দাম’ গল্পটি ছোটোগল্পের গুণাবলী পুরোপুরি রক্ষা করেছে। এটি পাঠকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্কের এক নতুন ব্যাখ্যা তুলে ধরে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, এটি একটি সফল ছোটোগল্প।

<<<<<<<<<<<<<🌹 সমাপ্ত 🌹>>>>>>>>>>>>>

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.