✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. “প্রভু, অনুগৃহীত হলাম।”– অনুগৃহীত হওয়ার কারণ কী?
(ক) রাজা মৃত্যুদণ্ড দেননি, (খ) রাজা তাকে ক্ষমা করেছেন, (গ) রাজা তাকে মুক্তি দিয়েছেন, (ঘ) রাজা তাকে মুক্তির সঙ্গে আংটির মূল্যের সমান পরিমাণ অর্থ খুশি হয়ে দিয়েছেন।
উত্তর: (ঘ) রাজা তাকে মুক্তির সঙ্গে আংটির মূল্যের সমান পরিমাণ অর্থ খুশি হয়ে দিয়েছেন।
২. ‘আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে ?’– এই উক্তির বক্তা কে?
(ক) শ্যালক, (খ) ধীবর, (গ) সূচক, (ঘ) জানুক।
উত্তর: (খ) ধীবর।
৩. “এই অবশ্যই গোসাপ খাওয়া জেলে হবে”– এমন মন্তব্য করা হয়েছে কেন?
(ক) ধীবরের গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছিল, (খ) ধীবরের গা থেকে কাঁচা মাছের গন্ধ আসছিল, (গ) ধীবরের গায়ে গো-সাপের ছাল লেগেছিল, (ঘ) ধীবরের গায়ে রক্তের দাগ লেগেছিল।
উত্তর: (ক) ধীবরের গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছিল।
৪. যার গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছিল, সে কে?
(ক) সূচক, (খ) প্রথম রক্ষী, (গ) ধীবর, (ঘ) ধীবরের স্ত্রী।
উত্তর: (গ) ধীবর।
৫. “আমি খন্ড খন্ড করে কাটলাম”— এখানে যা কাটার কথা বলা হয়েছে, তা কী?
(ক) রুই মাছ, (খ) কাতল মাছ, (গ) ভেটকি মাছ, (ঘ) ইলিশ মাছ।
উত্তর: (ক) রুই মাছ।
৬. “তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি” — এই উক্তিটির বক্তা কে?
(ক) সূচক, (খ) প্রথম রক্ষী, (গ) ধীবর, (ঘ) রাজশ্যালক।
উত্তর: (ঘ) রাজশ্যালক।
৭. “ঘটনাক্রমে সেই আংটি পেল এক ধীবর…”– এই আংটিটি কার ছিল?
(ক) শকুন্তলার, (খ) মহর্ষি কণ্বের, (গ) রাজশ্যালকের, (ঘ) প্রিয়ংবদার।
উত্তর: (ক) শকুন্তলার।
৮. ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নামক নাট্যাংশটি মহাকবি কালিদাসের কোন রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে?
(ক) রঘুবংশম, (খ) অভিজ্ঞান শকুন্তলম, (গ) কুমারসম্ভবম, (ঘ) মেঘদূতম।
উত্তর: (খ) অভিজ্ঞান শকুন্তলম।
৯. “একে পূর্বাপর সব বলতে দাও।”– উক্তিটি কে বলেছেন?
(ক) সূচক, (খ) প্রথম রক্ষী, (গ) ধীবর, (ঘ) রাজশ্যালক।
উত্তর: (ঘ) রাজশ্যালক।
১০. “আপনারা শান্ত হন”– এই উক্তিটির বক্তা কে?
(ক) ধীবর, (খ) সূচক, (গ) জানুক, (ঘ) রাজশ্যালক।
উত্তর: (ক) ধীবর।
১১. ধীবর যে আংটিটি খুঁজে পেয়েছিল, তাতে কী লেখা ছিল?
(ক) রাজার ছবি, (খ) রানীর নাম, (গ) রাজার খোদাই করা নাম, (ঘ) শকুন্তলার ছবি।
উত্তর: (গ) রাজার খোদাই করা নাম।
১২. “এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন”– উক্তিটি কে বলেছেন?
(ক) ধীবর, (খ) জানুক, (গ) সূচক, (ঘ) শ্যালক।
উত্তর: (ক) ধীবর।
১৩. “ঘটনাক্রমে সেই আংটি পেল এক _____”– শূন্যস্থানে কী হবে?
(ক) ধীবর, (খ) নাপিত, (গ) কৃষক, (ঘ) শিকারী।
উত্তর: (ক) ধীবর।
১৪. ধীবর আংটিটি কোথায় পেয়েছিল?
(ক) রুই মাছের পেটে, (খ) জালের মধ্যে, (গ) জলের তলায়, (ঘ) একটি সোনার দোকানে।
উত্তর: (ক) রুই মাছের পেটে।
১৫. ধীবরকে যে অভিযোগে ধরে আনা হয়েছিল, তা কী?
(ক) সোনার হার চুরির অপরাধে, (খ) মৎস্য শিকারের অপরাধ, (গ) আংটি চুরির অপরাধে, (ঘ) হরিণ শিকারের অপরাধে।
উত্তর: (গ) আংটি চুরির অপরাধে।
১৬. শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠানোর আয়োজন করেছিলেন কে?
(ক) দুর্বাসা । (খ) প্রিয়ংবদা । (গ) দুষ্মন্ত । (ঘ) কণ্ব ।
উত্তর: (ঘ) কণ্ব।
১৭. “আমি একজন জেলে, _________ আমি থাকি।”– শূন্যস্থানে কী বসবে?
(ক) পাটলিপুত্র । (খ) কলিঙ্গদেশে । (গ) শক্রাবতারে । (ঘ) প্রয়াগে ।
উত্তর: (গ) শক্রাবতারে।
১৮. শকুন্তলার হাতের আংটি কখন পড়ে গিয়েছিল?
(ক) শচীতীর্থে স্নানের পর অঞ্জলি দেওয়ার সময় । (খ) শচীতীর্থে । (গ) নদীতে নৌকা ভ্রমণের সময় । (ঘ) নদীতে সখীদের সঙ্গে জলকেলি করার সময় ।
উত্তর: (ক) শচীতীর্থে স্নানের পর অঞ্জলি দেওয়ার সময়।
১৯. শকুন্তলার হাতের আংটি কোথায় পড়ে গিয়েছিল?
(ক) জাহ্নবীর তীরে । (খ) তপোবনে । (গ) বেনারসে । (ঘ) শচীতীর্থে ।
উত্তর: (ঘ) শচীতীর্থে।
২০. শকুন্তলাকে কে অভিশাপ দিয়েছিলেন?
(ক) ঋষি দুর্বাসা । (খ) বিশ্বামিত্র । (গ) দোনাচার্য । (ঘ) কৃপাচার্য ।
উত্তর: (ক) ঋষি দুর্বাসা।
২১. বিবাহের পর দুষ্মন্ত কোথায় ফিরে গিয়েছিলেন?
(ক) স্বর্গে । (খ) হস্তিনাপুরে । (গ) তপোবনে । (ঘ) কশ্যপের আশ্রমে ।
উত্তর: (খ) হস্তিনাপুরে।
২২. ধীবর-বৃত্তান্ত নাটকটি কোন রচনায় সংকলিত হয়েছে?
(ক) কুমারসম্ভবম্ । (খ) রঘুবংশম্ । (গ) মৃচ্ছকটিক । (ঘ) অভিজ্ঞান শকুন্তলম্ ।
উত্তর: (ঘ) অভিজ্ঞান শকুন্তলম্।
২৩. ধীবর-বৃত্তান্ত নাটকের রচয়িতা কে?
(ক) কালিদাস । (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । (গ) বানভট্ট । (ঘ) শেক্সপিয়ার ।
উত্তর: (ক) কালিদাস।
২৪. ধীবরকে বন্ধু হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন কে?
(ক) রাজশ্যালক । (খ) জানুক । (গ) রাজা । (ঘ) গ্রামরক্ষী ।
উত্তর: (ক) রাজশ্যালক।
২৫. জেলে পারিতোষিকের অর্ধেক অর্থ কী বাবদ দিয়েছিল?
(ক) আংটির দাম হিসেবে । (খ) জালের দাম হিসেবে । (গ) মাছের দাম হিসেবে । (ঘ) ফুলের দাম হিসেবে ।
উত্তর: (ঘ) ফুলের দাম হিসেবে।
২৬. আংটি দেখে মহারাজের কী মনে পড়েছিল?
(ক) নিজের ছোটবেলার স্মৃতি । (খ) প্রিয়জনের কথা । (গ) রাজ্যাভিষেকের স্মৃতি । (ঘ) যুদ্ধজয়ের স্মৃতি ।
উত্তর: (খ) প্রিয়জনের কথা।
২৭. রাজশ্যালক ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ কাকে দিয়েছিলেন?
(ক) জানুককে । (খ) সূচককে । (গ) দুই রক্ষীকে । (ঘ) এদের কাউকেই নয় ।
উত্তর: (খ) সূচককে।
২৮. “বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ স্বভাবে দয়াপরায়ণ হলেও যজ্ঞীয় পশুবধের সময় নির্দয় হয়ে থাকেন।”– কে এই মন্তব্য করেছিলেন?
(ক) পুরুষ । (খ) শ্যালক । (গ) সূচক । (ঘ) প্রথম রক্ষী ।
উত্তর: (ক) পুরুষ।
২৯. “আমাদের প্রভুর দেখি খুব বিলম্ব হচ্ছে।” – এখানে ‘প্রভু’ বলতে বক্তা কাকে বুঝিয়েছেন?
(ক) মহারাজকে । (খ) মহাপাত্রকে । (গ) রাজশ্যালককে । (ঘ) প্রধান প্রহরীকে ।
উত্তর: (গ) রাজশ্যালককে।
৩০. ধীবর-বৃত্তান্ত নাটকে দুই রক্ষীর নাম কী ছিল?
(ক) জয় – বিজয় । (খ) ওম্ – ওমকার । (গ) জানুক – সূচক । (ঘ) অমল – বিমল ।
উত্তর: (গ) জানুক – সূচক।
৩১. ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশটি বাংলায় কে অনুবাদ করেছিলেন?
(ক) অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত । (খ) নবারুণ ভট্টাচার্য । (গ) সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী । (ঘ) সত্যপ্রিয় রায় ।
উত্তর: (গ) সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী।
৩২. “তিনি শকুন্তলাকে চিনতেও পারলেন না”– এখানে ‘তিনি’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) মহর্ষি দুর্বাসা । (খ) মহর্ষি কণ্ব । (গ) মহর্ষি বিশ্বামিত্র । (ঘ) মহারাজ দুষ্মন্ত ।
উত্তর: (ঘ) মহারাজ দুষ্মন্ত।
✍️ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. ‘এ অবশ্যই গোসাপ-খাওয়া জেলে হবে।’— শ্যালক এরকম সন্দেহ করেছিল কেন?
উত্তরঃ ধীবরের শরীর থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছিল, তাই রাজার শ্যালক সন্দেহ করেছিল যে সে সম্ভবত গোসাপ খেয়ে থাকে।
২. দুষ্মন্ত প্রদত্ত আংটিটি শকুন্তলা কীভাবে হারিয়ে ফেলেছিলেন?
উত্তরঃ শচীতীর্থে স্নানের পর যখন শকুন্তলা অঞ্জলি দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর হাত থেকে আংটিটি খুলে জলে পড়ে যায় এবং হারিয়ে যায়।
৩. মুক্তি পেয়ে ধীবর কী করেছিল?
উত্তরঃ মুক্তি পেয়ে আনন্দে ধীবর পারিতোষিকের অর্ধেক অংশ রক্ষীদের ফুলের দাম হিসেবে দিয়ে দেয়।
৪. আংটিটি পেয়ে রাজার কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তরঃ আংটিটি ফিরে পেয়ে রাজা দুষ্মন্ত মুহূর্তের জন্য বিহ্বল হয়ে যান এবং পুরনো স্মৃতিগুলো তাঁর মনে জেগে ওঠে।
৫. ধীবর সম্পর্কে রাজার আদেশ কী ছিল?
উত্তরঃ রাজা দুষ্মন্ত আদেশ দিয়েছিলেন যে ধীবরকে আংটির মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কারসহ মুক্তি দিতে হবে।
৬. ধীবর সংসার চালাতো কীভাবে?
উত্তরঃ ধীবর জাল, বড়শি এবং অন্যান্য উপায়ে মাছ ধরে সংসার চালাত।
৭. রাজা দুষ্মন্তের শ্যালকের কাজ কী ছিল?
উত্তরঃ রাজা দুষ্মন্তের শ্যালকের দায়িত্ব ছিল নগর রক্ষা করা।
৮. “আপনারা শান্ত হন।”— বক্তা কাদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে?
উত্তরঃ ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবর দুই নগররক্ষীকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
৯. পতিগৃহে যাবার পর শকুন্তলাকে দেখে দুষ্মন্তের প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?
উত্তরঃ পতিগৃহে পৌঁছানোর পর শকুন্তলাকে দেখে রাজা দুষ্মন্ত তাঁকে চিনতে পারেননি।
১০. প্রিয়ংবদার অনুরোধে ঋষি দুর্বাসা কী বলেছিলেন?
উত্তরঃ ঋষি দুর্বাসা বলেছিলেন যে, যদি কোনো স্মৃতিচিহ্ন দেখানো হয়, তবে দুষ্মন্তের উপর দেওয়া তাঁর অভিশাপ দূর হবে।
১১. ধীবর আংটিটি কোথায় পেয়েছিল?
উত্তরঃ ধীবর একটি রুই মাছের পেটের ভেতর থেকে আংটিটি পেয়েছিল।
১২. দুষ্মন্ত প্রদত্ত আংটিটি শকুন্তলা কীভাবে হারিয়ে ফেলেছিলেন?
উত্তরঃ শচীতীর্থে স্নানের পর শকুন্তলা যখন অঞ্জলি দিতে যান, তখন আংটিটি হাত থেকে খুলে জলে পড়ে যায় এবং হারিয়ে যায়।
১৩. তীর্থ থেকে ফিরে এসে মহর্ষি কণ্ব কী করেছিলেন?
উত্তরঃ মহর্ষি কণ্ব তীর্থ থেকে ফিরে এসে শকুন্তলাকে তাঁর পতিগৃহে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।
১৪. ধীবরকে কারা ধরে এনেছিল?
উত্তরঃ ধীবরকে নগর রক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজশ্যালক ও দুই রক্ষী ‘সূচক’ ও ‘জানুক’ ধরে নিয়ে এসেছিল।
১৫. “হাতবাঁধা অবস্থায় এক পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে দুই রক্ষীর প্রবেশ।” — পুরুষটির হাত বাঁধা ছিল কেন?
উত্তরঃ পুরুষটির কাছে রাজা দুষ্মন্তের আংটি পাওয়া গিয়েছিল, তাই তাকে চোর সন্দেহে হাত বেঁধে নিয়ে আসা হয়।
১৬. ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ শুনে দ্বিতীয় রক্ষীর আচরণ কেমন ছিল?
উত্তরঃ ধীবরকে মুক্তির আদেশ শুনে দ্বিতীয় রক্ষী বিদ্বেষপূর্ণ এবং ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছিল।
১৭. ধীবরের কথামতো বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ কখন নির্দয় হয়ে থাকেন?
উত্তরঃ ধীবরের মতে, যজ্ঞের সময় ব্রাহ্মণরা যজ্ঞীয় পশুবলি দিতে গিয়ে নির্দয় হয়ে থাকেন।
১৮. “প্রভু, অনুগৃহীত হলাম।” — কীভাবে বক্তা অনুগৃহীত হয়েছিল?
উত্তরঃ রাজা দুষ্মন্ত ধীবরকে আংটির মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করায় ধীবর নিজেকে অনুগৃহীত মনে করেছিল।
১৯. ‘আপনারা অনুগ্রহ করে শুনুন।’ — বক্তা কোন কথা শোনাতে চেয়েছে?
উত্তরঃ ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবর নগররক্ষীদের কাছে তার পরিচয় এবং কীভাবে রাজার আংটিটি সে পেয়েছে, সেই কথা জানাতে চেয়েছিল।
২০. জেলে তার পারিতোষিকের অর্ধেক অর্থ কী করতে চেয়েছিল?
উত্তরঃ ধীবর তার পারিতোষিকের অর্ধেক অংশ সেই ফুলের মূল্য হিসেবে দিতে চেয়েছিল, যা রক্ষীরা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে তার গলায় পরাতে চেয়েছিল।
২১. দুর্বাসা মুনি কীভাবে তার অভিশাপের প্রভাব দূর হবে বলে জানিয়েছিলেন?
উত্তরঃ প্রিয়ংবদার বিশেষ অনুরোধে দুর্বাসা মুনি বলেছিলেন, যদি শকুন্তলা কোনো স্মৃতিচিহ্ন দেখাতে পারেন, তবে অভিশাপের প্রভাব দূর হবে।
২২. দুর্বাসা মুনি শকুন্তলাকে কী অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ দুর্বাসা মুনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, যার চিন্তায় তিনি মগ্ন, সেই ব্যক্তি তাঁকে সম্পূর্ণ ভুলে যাবে।
২৩. শকুন্তলাকে দুর্বাসা অভিশাপ দিয়েছিলেন কেন?
উত্তরঃ স্বামী দুষ্মন্তের চিন্তায় নিমগ্ন থাকায় শকুন্তলা ঋষি দুর্বাসার আগমনের বিষয়টি খেয়াল করেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুর্বাসা তাকে অভিশাপ দেন।
২৪. শকুন্তলাকে কে অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন।
২৫. ঋষি কণ্বের অবর্তমানে কোন ঋষি তাঁর আশ্রমে এসেছিলেন?
উত্তরঃ ঋষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে ঋষি দুর্বাসা তাঁর আশ্রমে এসেছিলেন।
২৬. দুষ্মন্ত শকুন্তলার বিয়ে কোথায় হয়েছিল?
উত্তরঃ ঋষি কণ্বের আশ্রমেই রাজা দুষ্মন্তের সঙ্গে শকুন্তলার বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।
২৭. শকুন্তলার সঙ্গে কার বিবাহ হয়েছিল?
উত্তরঃ শকুন্তলার সঙ্গে রাজা দুষ্মন্তের বিবাহ হয়েছিল।
২৮. ‘চলরে গাঁটকাটা’— তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ ‘গাঁটকাটা’ অর্থাৎ ধীবরকে রাজদরবারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
২৯. “মহারাজ এ সংবাদ শুনে খুব খুশি হবেন।” — কোন সংবাদ শুনে মহারাজ খুশি হবেন?
উত্তরঃ ধীবরের কাছ থেকে রাজা দুষ্মন্তের হারিয়ে যাওয়া আংটি ফিরে পাওয়ার সংবাদ শুনে রাজা খুশি হবেন বলে রক্ষীরা মন্তব্য করেছিল।
৩০. শকুন্তলার সখির নাম কী ছিল?
উত্তরঃ শকুন্তলার সখির নাম ছিল প্রিয়ংবদা।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
১. “স্বভাবত গম্ভীর প্রকৃতির হলেও মুহূর্তের জন্য রাজা বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন।” — রাজা তার গম্ভীর স্বভাব ত্যাগ করে কখন এবং কেন মুহূর্তের জন্য বিহ্বল হয়েছিলেন?
উত্তরঃ আলোচ্য উক্তিটি ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। রাজ-শ্যালক যখন রাজা দুষ্মন্তের কাছে তাঁর আংটি নিয়ে যান এবং তা দেখান, তখন স্বভাবত গম্ভীর প্রকৃতির রাজা কিছু মুহূর্তের জন্য বিহ্বল হয়ে পড়েন।
ঋষি দুর্বাসার অভিশাপে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে ভুলে গিয়েছিলেন। সেই অভিশাপ অনুযায়ী, যদি তিনি পূর্বের কোনো নিদর্শন দেখেন, তবে স্মৃতি ফিরে আসবে। রাজা শকুন্তলাকে একসময় একটি আংটি দিয়েছিলেন, যা পথিমধ্যে হারিয়ে যায় এবং পরে ধীবরের হাতে এসে পৌঁছায়। ধীবর থেকে উদ্ধার করা সেই আংটি যখন রাজ-শ্যালক রাজাকে দেখান, তখনই তাঁর সমস্ত পূর্বস্মৃতি ফিরে আসে। এই আকস্মিক স্মৃতির প্রত্যাবর্তনে গম্ভীর প্রকৃতির রাজা কিছুক্ষণের জন্য বিহ্বল হয়ে যান।
২. “সূচক এই জেলেকে ছেড়ে দাও।” — কে কথাটি বলেছেন? জেলেকে কেন মুক্তি দেওয়া হলো?
উত্তরঃ এই উক্তিটি ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের এক রক্ষী বলেছেন।
ধীবরের কাছে রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা মণিখচিত আংটি দেখে নগররক্ষকরা সন্দেহবশত তাকে গ্রেফতার করেন। রাজ-শ্যালক বিষয়টি জানার জন্য রাজদরবারে গিয়ে রাজাকে সেই আংটি দেখান। রাজা তা দেখেই শকুন্তলার কথা স্মরণ করেন এবং বুঝতে পারেন যে ধীবর চুরি করেনি। ফলে, রাজা ধীবরকে মুক্তি দিয়ে পুরস্কৃত করার নির্দেশ দেন। এই আদেশ পাওয়ার পরই রক্ষী ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
৩. “তবে কি তোকে সদ্ ব্রাহ্মণ বিবেচনা করে রাজা এটা দান করেছেন?” — কে বলেছেন? মন্তব্যটির কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ আলোচ্য উক্তিটি ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের প্রথম রক্ষীর বলা কথা।
ধীবরের কাছে রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা দুর্মূল্য আংটি দেখে রক্ষীরা তাকে চোর বলে সন্দেহ করে গ্রেফতার করে। ধীবর বারবার জানায় যে সে আংটি চুরি করেনি, বরং নদীতে মাছ ধরার সময় তা তার জালের মধ্যে উঠে আসে। কিন্তু রক্ষীরা ধীবরের কথায় বিশ্বাস না করে বিদ্রূপমূলকভাবে মন্তব্য করে যে, হয়তো রাজা তাকে সদ্ ব্রাহ্মণ ভেবে এই মূল্যবান আংটি দান করেছেন।
৪. “যার চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন।” — কে বলেছেন? তাঁর এমন উক্তির কারণ কী?
উত্তরঃ এই উক্তির বক্তা ঋষি দুর্বাসা।
‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের পূর্বকথায় জানা যায়, রাজা দুষ্মন্ত কণ্ব ঋষির আশ্রমে গিয়ে শকুন্তলাকে গন্ধর্ববিবাহ করেন এবং রাজধানীতে ফিরে যান। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি ফিরে আসেননি। শকুন্তলা স্বামীর স্মৃতিতে মগ্ন থাকায় আশ্রমে আগত ঋষি দুর্বাসাকে যথাযথ অভ্যর্থনা জানাতে ভুলে যান। এতে রুষ্ট হয়ে ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন যে, যার চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যক্তি তাকে ভুলে যাবেন।
৫. “মুহূর্তের জন্য রাজা বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন।” — কোন পরিস্থিতিতে রাজা বিহ্বল হয়ে গিয়েছিলেন?
উত্তরঃ ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে, রাজ-শ্যালক যখন রাজা দুষ্মন্তের কাছে তাঁর আংটি নিয়ে যান, তখন রাজা মুহূর্তের জন্য বিহ্বল হয়ে পড়েন।
ঋষি দুর্বাসার অভিশাপে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে ভুলে যান। তবে অভিশাপের শর্ত অনুযায়ী, কোনো নিদর্শন দেখলে তাঁর স্মৃতি ফিরে আসবে। ধীবরের কাছ থেকে উদ্ধার করা আংটি রাজা দুষ্মন্তের কাছে পৌঁছালে তিনি শকুন্তলার কথা স্মরণ করেন এবং আবেগাপ্লুত হয়ে কিছুক্ষণের জন্য বিহ্বল হয়ে যান।
৬. “… তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখেছি।” — কে বলেছেন? কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন? ওই ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তরঃ আলোচ্য উক্তিটি ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের রাজ-শ্যালক ধীবরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন।
রাজ-শ্যালক ধীবরের জীবিকা নিয়ে ব্যঙ্গ করে এই মন্তব্য করেন। ধীবর তার জীবিকার নিন্দা শুনে উত্তর দেয়— “যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে, সে বৃত্তি ত্যাগ করা উচিত নয়। যেমন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ স্বভাবে দয়ালু হলেও যজ্ঞের সময় পশুবলি দিতে গিয়ে নির্দয় হয়ে যান।” এই যুক্তির মাধ্যমে ধীবর বোঝাতে চেয়েছিল যে, তার পেশা নিম্নমানের হলেও তা দেখে ব্যক্তির প্রকৃতি যাচাই করা উচিত নয়।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
১. “এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন”— বক্তা কে? এই উক্তির প্রেক্ষাপটে বক্তার চরিত্র আলোচনা করো।
উত্তর: আলোচ্য উক্তিটি ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের অন্যতম চরিত্র ধীবরের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে।
ধীবরের কাছ থেকে রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা মূল্যবান আংটি পাওয়ার পর রাজশ্যালক ও দুই রক্ষী তাকে চোর বলে অপবাদ দেয়। ধীবর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করলেও তারা তার জাতিগত পরিচয় নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করে।
তখন ধীবর নিজের পেশার পরিচয় দিয়ে জানায় যে, একটি রুইমাছ কাটার সময় সে আংটিটি পেয়েছে এবং তা বিক্রি করতে গিয়েই ধরা পড়েছে। সে সত্য বলার পরও যখন তাকে সন্দেহ করা হয়, তখন সে নির্ভীকভাবে উক্ত মন্তব্যটি করে।
এই উক্তি থেকে ধীবরের সততা, আত্মবিশ্বাস ও স্পষ্টবাদিতার পরিচয় পাওয়া যায়। সে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত হলেও বিনয়ের সঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে এবং ভয় না পেয়ে সত্য প্রকাশ করেছে।
২. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দুই রক্ষীর কথাবার্তায় সমাজের কোন চিত্র ফুটে উঠেছে তা লেখো।
উত্তর: মহাকবি কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দুই রক্ষীর কথোপকথনের মাধ্যমে তৎকালীন সমাজের বর্ণভেদ, শ্রেণিবৈষম্য ও অন্যায় অত্যাচারের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
নাট্যাংশে দেখা যায়, ধীবরের কাছে রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা মূল্যবান আংটি পাওয়া যাওয়ায় দুই রক্ষী তাকে চোর ভেবে ধরে নিয়ে যায়। তারা ধীবরকে অবজ্ঞাসূচক ভাষায় ‘গোসাপ খাওয়া জেলে’, ‘বাটপাড়’, ‘চোর’ বলে গালাগালি করে এবং তার গায়ে কাঁচা মাংসের গন্ধ পাচ্ছে বলে বিদ্রূপ করে।
এই কথোপকথনের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, উচ্চবর্ণের মানুষেরা নিম্নবর্ণের মানুষদের প্রতি চরম অবজ্ঞাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করত। নিম্নবিত্ত মানুষদের কথার কোনো গুরুত্ব ছিল না, এবং তাদের প্রতি অবিচার করা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। তবে রাজশ্যালক ধীবরকে কথা বলার সুযোগ দিয়েছিলেন এবং রাজার আদেশের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন, যা শাসকদের তুলনামূলক বিচারবোধের ইঙ্গিত দেয়।
৩. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের চরিত্রের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র ধীবর একজন সাধারণ মৎস্যজীবী হলেও তার ব্যক্তিত্ব অসাধারণ। তার চরিত্রে সততা, স্পষ্টবাদিতা, আত্মমর্যাদাবোধ, শাস্ত্রজ্ঞান, পারিবারিক দায়িত্ববোধ, কৃতজ্ঞতা ও উদারতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
প্রথমত, ধীবরের সততা ও স্পষ্টবাদিতার পরিচয় পাওয়া যায় যখন সে প্রথম থেকেই সত্যি কথা বলার চেষ্টা করে। আংটি পাওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করলেও তাকে ‘চোর’ বলে অপবাদ দেওয়া হয়।
দ্বিতীয়ত, তার আত্মমর্যাদাবোধ প্রকট হয় যখন রাজশ্যালক তার পেশাকে তুচ্ছ করলে সে দৃঢ়ভাবে জানায়— ‘যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে, সেই বৃত্তি নিন্দনীয় হলেও তা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।’
তৃতীয়ত, সে একজন দায়িত্ববান ব্যক্তি। রাজদরবার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তার প্রথম উদ্বেগ ছিল— “প্রভু, আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে?”
চতুর্থত, ধীবরের কৃতজ্ঞতা ও উদারতা লক্ষণীয়। পুরস্কার পাওয়ার পরও সে রাজশ্যালককে প্রণাম করে এবং দুই রক্ষীকে নিজের প্রাপ্য অর্থের অর্ধেক ভাগ দিয়ে দেয়।
এই সমস্ত গুণাবলি ধীবরকে এক অসাধারণ চরিত্রে পরিণত করেছে, যা নাট্যাংশের অন্যতম শিক্ষণীয় দিক।
৪. আংটি পাওয়ার পরে ধীবরের যে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: মহাকবি কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের জীবনে আংটি পাওয়ার পর নানা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়।
ধীবর যখন রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা মণিখচিত আংটি পায়, তখন সে এটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নগররক্ষীরা আংটি দেখে সন্দেহ করে এবং তার হাত পিছনে বেঁধে রাজশ্যালকের কাছে নিয়ে যায়। ধীবর নির্দোষ দাবি করলেও তারা তাকে বিশ্বাস করেনি। প্রথম রক্ষী বিদ্রুপ করে জানতে চায়, রাজা কি তাকে সদ্ ব্রাহ্মণ ভেবে আংটিটি দান করেছেন? ধীবর যখন জানায় যে সে জাল ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরে, তখনও তারা উপহাস করে।
ধীবর সব অপবাদ ও বিদ্রুপ সহ্য করেও সত্য কথা বলতে থাকে। সে ব্যাখ্যা করে যে, রুইমাছ কাটার সময় তার পেটের ভিতর থেকে আংটিটি পাওয়া গেছে। কিন্তু রক্ষীরা তার কথা বিশ্বাস না করে তাকে শাস্তি দিতে চায়।
রাজশ্যালক যখন রাজার কাছে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন, তখন রাজা নিশ্চিত করেন যে ধীবর চোর নয়। অবশেষে ধীবর মুক্তি পায় এবং রাজা তাকে পুরস্কার হিসেবে আংটির সমমূল্যের অর্থ প্রদান করেন। ফলে দিনের কাজ বন্ধ হলেও তার ক্ষতি হয় না।
এই ঘটনা ধীবরের জীবনে এক বড় শিক্ষা নিয়ে আসে— সততা ও ধৈর্য থাকলে শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়।
৫. “ঘটনাক্রমে সেই আংটি পেল এক ধীবর,”– কার আংটি সে পেয়েছিল? আংটি হারিয়ে যাওয়ার ইতিহাসটি লেখো।
উত্তর: ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের পাওয়া আংটিটি ছিল রাজা দুষ্মন্তের।
এই আংটিটির হারিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জড়িয়ে আছে। মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে শকুন্তলার সঙ্গে রাজা দুষ্মন্তের বিবাহ হয়। এরপর রাজা রাজধানীতে ফিরে যান, কিন্তু দীর্ঘদিনেও তিনি শকুন্তলার কোনো খোঁজ নেননি।
এই সময়ে, মহর্ষি দুর্বাসা আশ্রমে আসেন। কিন্তু স্বামীর চিন্তায় মগ্ন শকুন্তলা তাঁকে যথাযথ অভ্যর্থনা জানাতে ভুলে যান। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে দুর্বাসা অভিশাপ দেন যে যাঁর চিন্তায় শকুন্তলা এতটা ডুবে আছেন, তিনি তাকে ভুলে যাবেন। শকুন্তলার সখী প্রিয়ংবদা ঋষিকে শান্ত করতে অনুরোধ করলে, তিনি অভিশাপ কিছুটা লঘু করেন। তিনি বলেন, যদি শকুন্তলা তার প্রিয়জনকে কোনো স্মৃতিচিহ্ন দেখাতে পারেন, তবে অভিশাপের প্রভাব দূর হবে।
এরপর, মহর্ষি কণ্ব শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠানোর আয়োজন করেন। পথে শকুন্তলা শচীতীর্থে স্নান করতে গেলে, জল অঞ্জলি দেওয়ার সময় তার হাতে থাকা রাজা দুষ্মন্তের দেওয়া আংটিটি নদীতে পড়ে যায়। ফলে রাজা দুষ্মন্ত যখন তাকে দেখে, তখন চিনতে পারেন না।
অন্যদিকে, এক ধীবর মাছ ধরতে গিয়ে একটি রুইমাছ ধরে এবং তার পেট চিরে এই আংটিটি খুঁজে পায়। এভাবেই ঘটনাক্রমে ধীবরের হাতে রাজা দুষ্মন্তের আংটিটি পৌঁছায়।
<<<<<<<<<<<<<🌹 সমাপ্ত 🌹>>>>>>>>>>>>>

