✍️বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. ফুলে ফুলে ওঠে—
(ক) জোয়ার জল । (খ) ভাটার ঢেউ । (গ) জোয়ারের ঢেউ । (ঘ) ভাটার টান ।
উত্তর: (গ) জোয়ারের ঢেউ।
২. তরিতে মাথা ঠোকে কে?
(ক) কবি নিজে । (খ) সাগরের মাছ । (গ) ভাটার জল । (ঘ) জোয়ারের ঢেউ ।
উত্তর: (ঘ) জোয়ারের ঢেউ।
৩. জোয়ারের ঢেউগুলিকে কী শোষণ করে?
(ক) সূর্যালোক । (খ) ভাটা । (গ) বড়ো সামুদ্রিক মাছ । (ঘ) জোয়ার স্বয়ং ।
উত্তর: (খ) ভাটা।
৪. কবির এই দাঁড় টানাকে কী মনে হয়েছে?
(ক) মিছে । (খ) বাস্তব । (গ) কঠিন । (ঘ) অযথা ।
উত্তর: (ক) মিছে।
৫. কবি কী উদ্দেশ্যে তরি নিয়ে বেরিয়েছেন?
(ক) বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে । (খ) ভ্রমণের উদ্দেশ্যে । (গ) সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে । (ঘ) ক্লান্তি মেটানোর উদ্দেশ্যে ।
উত্তর: (ক) বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে।
৬. জোয়ারের সময় নদীতে কী ঘটে?
(ক) জলস্ফীতি ঘটে । (খ) জল কমে যায় । (গ) জল শুকিয়ে যায় । (ঘ) জল উবে যায় ।
উত্তর: (ক) জলস্ফীতি ঘটে।
৭. ‘নোঙর’ কী?
(ক) কাছি । (খ) বড়শি । (গ) লৌহদণ্ড । (ঘ) কাছি বাঁধা বড়শির মতো যন্ত্র বা অঙ্কুশ ।
উত্তর: (ঘ) কাছি বাঁধা বড়শির মতো যন্ত্র বা অঙ্কুশ।
৮. দাঁড়ের নিক্ষেপে কবি কী শোনেন?
(ক) সাগরের গর্জন । (খ) ঢেউ-এর গর্জন । (গ) স্রোতের বিদ্রুপ । (ঘ) জলের কল্লোলধ্বনি ।
উত্তর: (গ) স্রোতের বিদ্রুপ।
৯. “নোঙর কখন জানি পড়ে গেছে তটের কিনারে” – এর মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) পাড়ি দেওয়ার বাসনা থাকলেও বন্ধন ছিন্ন করা যায় না ।
(খ) নৌকা নোঙরেই আটকে থাকে ।
(গ) ভারী পণ্যের কারণেই নোঙরে নৌকা বাঁধা থাকে ।
(ঘ) স্রোতে নোঙর ভেসে গেলে তবে নৌকা পাড়ি দেয় ।
উত্তর: (ক) পাড়ি দেওয়ার বাসনা থাকলেও বন্ধন ছিন্ন করা যায় না।
১০. ‘সপ্তসিন্ধুপারে’-এর অর্থ কী?
(ক) সাতটি নদীর পারে । (খ) সাতটি দেশের পারে । (গ) সাতসমুদ্র পারে । (ঘ) সপ্তগিরি পারে ।
উত্তর: (খ) সাতটি দেশের পারে।
১১. কবি কোথায় পাড়ি দিতে চেয়েছেন?
(ক) সাগরতীরে । (খ) সপ্তসিন্ধুপারে । (গ) মঙ্গল গ্রহে । (ঘ) সিন্ধুপারে ।
উত্তর: (ঘ) সিন্ধুপারে।
১২. ‘বাণিজ্য-তরী’ কোথায় বাঁধা পড়ে আছে?
(ক) তটের কাছে । (খ) নদীর কাছে । (গ) কবির কাছে । (ঘ) সাগরের কাছে ।
উত্তর: (ক) তটের কাছে।
১৩. দাঁড় টানা হয় কেন?
(ক) নৌকাকে স্থির রাখার জন্য । (খ) নৌকা ভাসিয়ে রাখার জন্য । (গ) নৌকা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য । (ঘ) নৌকার গতিবেগ ঠিক রাখার জন্য ।
উত্তর: (গ) নৌকা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
১৪. তটটি কোথায় বাঁধা পড়ে আছে?
(ক) সাগরের কাছে । (খ) জোয়ারভাটার কাছে । (গ) কবির কাছে । (ঘ) কাছির কাছে ।
উত্তর: (খ) জোয়ারভাটার কাছে।
১৫. ‘বাঁধা পড়ে আছে’-এর অর্থ কী?
(ক) বেঁধে রাখা হয়েছে । (খ) তটে আটকে আছে । (গ) নোঙরে বাঁধা অবস্থায় আটকে আছে । (ঘ) জলে আটকে আছে ।
উত্তর: (গ) নোঙরে বাঁধা অবস্থায় আটকে আছে।
১৬. কবি কতক্ষণ দাঁড় টানেন?
(ক) তিন রাত । (খ) সারারাত । (গ) অর্ধ দিন । (ঘ) অর্ধ রাত ।
উত্তর: (খ) সারারাত।
১৭. কবি সপ্তসিন্ধুপারে কেন যাবেন?
(ক) ভ্রমণ করতে । (খ) বাণিজ্য করতে । (গ) বিদেশ ঘুরতে । (ঘ) সাগর দেখতে ।
উত্তর: (খ) বাণিজ্য করতে।
১৮. নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলি কী কারণে কেঁপে ওঠে?
(ক) জলের গর্জনে । (খ) সাগরগর্জনে । (গ) বাতাসের গর্জনে । (ঘ) জোয়ারের গর্জনে ।
উত্তর: (খ) সাগরগর্জনে।
১৯. দাঁড়ের ‘নিক্ষেপ’ বলতে কী বোঝায়?
(ক) দাঁড় চালনা । (খ) দাঁড় তুলে নেওয়া । (গ) দাঁড় বাঁধা । (ঘ) দাঁড় বন্ধ রাখা ।
উত্তর: (ক) দাঁড় চালনা।
২০. পাল কোথায় বাঁধা হয়?
(ক) নৌকায় । (খ) দাঁড়ে । (গ) কাছির সঙ্গে । (ঘ) মাস্তুলে ।
উত্তর: (ঘ) মাস্তুলে।
২১. নোঙর কোথায় পড়ে গিয়েছে?
(ক) তটের মাঝে । (খ) তটের কিনারে । (গ) সমুদ্র মাঝে । (ঘ) নদীর জলে ।
উত্তর: (খ) তটের কিনারে।
২২. নোঙর কোথায় পড়ে আছে?
(ক) তটের কিনারে । (খ) মাস্তুলে । (গ) রাস্তার ধারে । (ঘ) নদীতে ।
উত্তর: (ক) তটের কিনারে।
২৩. ভাঁটার শোষণ কে গ্রহণ করে?
(ক) জোয়ারের জল । (খ) ভাটার জল । (গ) স্রোতের প্রবল প্রাণ । (ঘ) সমুদ্রের জল ।
উত্তর: (গ) স্রোতের প্রবল প্রাণ।
২৪. ‘নোঙর’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) বুদ্ধদেব বসু । (খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র । (গ) অজিত দত্ত । (ঘ) সমর সেন ।
উত্তর: (গ) অজিত দত্ত।
২৫. কবি কীভাবে দাঁড় টানেন?
(ক) অবিরাম । (খ) মাঝে মাঝে । (গ) দিনের বেলা । (ঘ) রাতের বেলা ।
উত্তর: (ক) অবিরাম।
২৬. ‘মিছে দাঁড় টানি’-এর অর্থ কী?
(ক) দাঁড় না টানা । (খ) নিষ্ফল দাঁড় টানা । (গ) দাঁড় টানার ভান করা । (ঘ) অবিরাম দাঁড় টানা ।
উত্তর: (খ) নিষ্ফল দাঁড় টানা।
২৭. ‘পাড়ি দিতে দূর সিন্ধুপারে’, এখানে ‘পাড়ি দেওয়া’ মানে কী?
(ক) পেরিয়ে যাওয়া । (খ) যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া । (গ) ভাসিয়ে দেওয়া । (ঘ) স্থির থাকা ।
উত্তর: (খ) যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া।
২৮. নৌকা কীতে বাঁধা আছে?
(ক) জোয়ারের টানে । (খ) নোঙরের কাছিতে । (গ) মাস্তুলের কাছিতে । (ঘ) দাঁড়ের সাথে ।
উত্তর: (খ) নোঙরের কাছিতে।
২৯. ‘মাস্তুলে বাঁধি পাল’, এখানে ‘মাস্তুল’ মানে কী?
(ক) নৌকার কিনারা । (খ) নৌকার উপর উচ্চ শক্ত দণ্ড । (গ) নৌকার ছই । (ঘ) নৌকার দাঁড় ।
উত্তর: (খ) নৌকার উপর উচ্চ শক্ত দণ্ড।
৩০. সাগরগর্জনে কাকে কাঁপিয়ে তোলে?
(ক) তরি । (খ) কবি । (গ) নিস্তব্ধ মুহূর্ত । (ঘ) সমুদ্র প্রাণী ।
উত্তর: (গ) নিস্তব্ধ মুহূর্ত।
৩১. তরি ভরা আছে কীসে?
(ক) ফসলে । (খ) পণ্য দ্রব্যে । (গ) যাত্রীতে । (ঘ) জলে ।
উত্তর: (খ) পণ্য দ্রব্যে।
৩২. তারার দিকে চেয়ে কবি কী করেন?
(ক) দিকের নিশানা করেন । (খ) সাগরের নিশানা করেন । (গ) দেশের নিশানা করেন । (ঘ) তটের নিশানা করেন ।
উত্তর: (ক) দিকের নিশানা করেন।
৩৩. ‘নোঙর পড়া’ বলতে কী বোঝায়?
(ক) বাঁধা পড়া । (খ) গতি বাড়া । (গ) গতি হ্ৰাস । (ঘ) ভেঙে পড়া ।
উত্তর: (ক) বাঁধা পড়া।
৩৪. কবির বাণিজ্যতরি কাদের কাছে বাঁধা?
(ক) সময়ের কাছে । (খ) জোয়ার-ভাটার কাছে । (গ) প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে । (ঘ) প্রতিকূলতার কাছে ।
উত্তর: (খ) জোয়ার-ভাটার কাছে।
৩৫. কবিতায় উল্লিখিত তরির চালক কে?
(ক) কবির বন্ধু । (খ) ভগবান । (গ) কবি স্বয়ং । (ঘ) কবির প্রতিযোগী ।
উত্তর: (গ) কবি স্বয়ং।
৩৬. জোয়ারের ঢেউগুলি তরিতে মাথা ঠুকে কী করে?
(ক) ভেঙে যায় । (খ) পালিয়ে যায় । (গ) সমুদ্রে ছোটে । (ঘ) তরি ভেঙে দেয় ।
উত্তর: (গ) সমুদ্রে ছোটে।
৩৭. স্রোতের বিদ্রুপ কোথায় শোনা যায়?
(ক) সাগরগর্জনে । (খ) জোয়ারের টানে । (গ) ভাঁটার শোষণে । (ঘ) দাঁড়ের নিক্ষেপে ।
উত্তর: (ঘ) দাঁড়ের নিক্ষেপে।
৩৮. ‘তট’ বলতে কী বোঝায়?
(ক) তীরভূমি । (খ) স্থলভূমি । (গ) জলাভূমি । (ঘ) মরুভূমি ।
উত্তর: (ক) তীরভূমি।
৩৯. ‘পণ্য’ বলতে কী বোঝায়?
(ক) মানুষজন । (খ) বিক্রয়ের সামগ্রী । (গ) নিজের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি । (ঘ) বর্জ্য সামগ্রী ।
উত্তর: (খ) বিক্রয়ের সামগ্রী।
৪০. তরী ভরা পণ্য নিয়ে কবি কোথায় পাড়ি দিতে চান?
(ক) পঞ্চ সিন্ধুপারে । (খ) ষষ্ঠসিন্ধুপারে । (গ) সপ্তসিন্ধুপারে । (ঘ) অষ্টসিন্ধুপারে ।
উত্তর: (গ) সপ্তসিন্ধুপারে।
৪১. ‘ভাঁটার শোষণ’ বলতে কী বোঝায়?
(ক) জলস্ফীতি । (খ) ভাটার টান । (গ) জল হ্রাস । (ঘ) জোয়ারের টান ।
উত্তর: (খ) ভাটার টান।
৪২. নোঙর কীভাবে পড়ে গেছে?
(ক) কবির জ্ঞাতে । (খ) কবির অজ্ঞাতে । (গ) কবির ঘুমের সময় । (ঘ) গভীর রাতে ।
উত্তর: (খ) কবির অজ্ঞাতে।
✍️ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
১. নৌকা কেন দূর সমুদ্রে যেতে পারছে না?
উত্তরঃ নৌকার নোঙর তটের কিনারায় পড়ে যাওয়ার কারণে এটি দূর সমুদ্রে যেতে পারছে না।
২. ‘সাগরগর্জনে ওঠে কেঁপে’—এর মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তরঃ কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি জীবনের তীরে বসে মহাসাগরের গর্জন শুনছেন, যা তাঁর জীবনের নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলিকে কাঁপিয়ে তুলছে।
৩. স্রোত কেন কবিকে বিদ্রুপ করে?
উত্তরঃ কবির জীবন-তরি নোঙরে বাঁধা থাকার কারণে জলস্রোত ঠেলে এগোতে পারে না, এ কারণেই স্রোত তাঁকে বিদ্রুপ করে।
৪. ‘নোঙর’ কবিতায় কবি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তরঃ কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ ক্লান্ত ও হতাশাজনক জীবন থেকে মুক্তি পেতে চাইলেও দৈনন্দিন জীবনের বন্ধনে বাঁধা পড়ে থাকে।
৫. ‘নোঙর’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ কবিতায় ‘নোঙর’ বলতে বোঝায় নৌকা ঘাটে বেঁধে রাখার জন্য ব্যবহৃত লৌহদণ্ড বা বঁড়সি জাতীয় একটি যন্ত্র।
৬. কবি অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কী ধরনের কবিতা?
উত্তরঃ কবি অজিত দত্তের ‘নোঙর’ একটি রূপকধর্মী রোমান্টিক গীতি কবিতা।
৭. কবি দাঁড়ের নিক্ষেপে কী শোনেন?
উত্তরঃ কবি দাঁড়ের নিক্ষেপে স্রোতের বিদ্রুপ শোনেন।
৮. কবি কোনদিকে চেয়ে নিশানা করেন?
উত্তরঃ কবি আকাশের তারার দিকে চেয়ে নিশানা করেন।
৯. সারারাত বিরামহীন দাঁড় টানার কারণ কী?
উত্তরঃ কবি নোঙরের বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে তাঁর পণ্য-ভরা তরিটি সপ্তসিন্ধু পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি সারারাত বিরামহীন দাঁড় টানেন।
১০. কবি স্রোতের বিদ্রুপ শুনতে পান কেন?
উত্তরঃ অজান্তে তটের কিনারে নোঙর পড়ে যাওয়ায় কবি স্রোতের বিপরীত দিকে এগোতে পারেননি, ফলে তাঁকে বিদ্রুপ শুনতে হয়েছে।
১১. স্রোতের প্রবল প্রাণ কে আহরণ করে?
উত্তরঃ স্রোতের প্রবল প্রাণ আহরণ করে ভাটার শোষণ।
১২. প্রতিবার জলে দাঁড় পড়লে কী শোনা যায়?
উত্তরঃ প্রতিবার জলে দাঁড় পড়লে শোনা যায় স্রোতের বিদ্রুপ।
১৩. সারারাত মিছে দাঁড় টানার কারণ কী?
উত্তরঃ কবির অজান্তে তটের কিনারে নোঙর পড়ে যাওয়ায়, দাঁড় টানলেও নৌকাটি সামনে এগোতে পারছিল না।
১৪. ‘ততই বিরামহীন দাঁড় টানা’—দাঁড় টানা বিরামহীন কেন?
উত্তরঃ নৌকাকে নোঙরের বাঁধন থেকে মুক্ত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছায় কথকের দাঁড় টানা বিরামহীন হয়েছে।
১৫. ‘নোঙর’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তরঃ ‘নোঙর’ কবিতাটি কবি অজিত দত্তের শাদা মেঘ কালো পাহাড় কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
১৬. ‘নোঙর’ কবিতায় কোন জিনিস দুটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, এবং তারা কী নির্দেশ করে?
উত্তরঃ ‘নোঙর’ কবিতায় ‘নোঙর’ ও ‘নৌকা’ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে ‘নৌকা’ গতিশীল জীবনকে নির্দেশ করে, আর ‘নোঙর’ হলো বন্ধন বা আবদ্ধতার প্রতীক।
১৭. কবিতার কথক কীভাবে দিকের নিশানা ঠিক করার চেষ্টা করেন?
উত্তরঃ কবিতার কথক আকাশের তারার দিকে চেয়ে দিকের নিশানা ঠিক করার চেষ্টা করেন।
১৮. ‘সারারাত মিছে দাঁড় টানি।’— কবি সারারাত মিছে দাঁড় টেনেছেন কেন?
উত্তরঃ কবির অজান্তে তটের কিনারে নোঙর পড়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি সারারাত দাঁড় টানলেও নৌকা এগোতে পারেনি।
১৯. কবি সিন্ধুতীরে পাড়ি দিতে চান কেন?
উত্তরঃ কবি তাঁর সংকীর্ণ জীবনকে ভেঙে মুক্তির সন্ধানে বাণিজ্যতরী নিয়ে সিন্ধুতীরে পাড়ি দিতে চান।
২০. কবি সিন্ধুতীরে যেতে পারছেন না কেন?
উত্তরঃ কবির নৌকার নোঙর তটের কিনারায় পড়ে যাওয়ায় তিনি সিন্ধুতীরে যেতে পারছেন না।
২১. কবিতার কথক কোথায় পাড়ি দিতে চান?
উত্তরঃ ‘নোঙর’ কবিতার কথক সুদূর সিন্ধুপারে পাড়ি দিতে চান।
২২. ‘নোঙর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘নোঙর’ হল লোহার তৈরি বড়শির মতো একটি যন্ত্র, যা নৌকাকে তটের কিনারায় আটকে রাখে।
২৩. কবি কীভাবে সপ্তসিন্ধুপারে পাড়ি দিতে চান?
উত্তরঃ কবি তাঁর তরিভরা পণ্য নিয়ে সপ্তসিন্ধুপারে পাড়ি দিতে চান।
২৪. ‘নোঙর’ কবিতাটি কার লেখা?
উত্তরঃ ‘নোঙর’ কবিতাটি কবি অজিত দত্তের লেখা।
২৫. ‘নোঙর’ কবিতায় কথকের মনোভাব কী প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তরঃ কবিতায় কথকের মধ্যে গণ্ডিবদ্ধ জীবনের আবদ্ধতার বিপরীতে মুক্তির আকাঙ্ক্ষার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে।
২৬. নৌকায় দাঁড় ও পালের কী কাজ?
উত্তরঃ নৌকায় থাকা দাঁড় জল কেটে এগিয়ে নিয়ে যায়, আর পাল বাতাসের গতি কাজে লাগিয়ে নৌকাকে চালিত করে।
২৭. ‘নোঙর’ কবিতায় কোন জিনিসের বিরাম নেই?
উত্তরঃ নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশায় দাঁড় টানার কোনো বিরাম নেই।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
১. “নোঙরের কাছি বাঁধা তবু এ নৌকা চিরকাল।”– নৌকা কেন চিরকাল নোঙরের কাছিতে বাঁধা?
উত্তর: কবি অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতায় জীবনের বাস্তবতার কঠোর বাঁধনের প্রতীক হিসেবে নোঙর ও নৌকা ব্যবহৃত হয়েছে। মানুষ তার কল্পনা ও স্বপ্নের ডানা মেলে উড়তে চাইলেও বাস্তবের কঠিন নিয়ম ও দায়িত্ব তাকে থমকে দেয়। সমাজ ও সংসারের নানা দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতায় সে আটকে পড়ে। কবির মন মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উতলা হলেও, কঠোর বাস্তবতা সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত হতে দেয় না। তাই কবি বলেন, নৌকাটি চিরকাল নোঙরের কাছিতে বাঁধা থাকবে, যেমন মানুষের জীবন সংসারের দায়িত্বে জড়িত থাকে চিরকাল।
২. ‘স্রোতের বিদ্রুপ শুনি প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে।’- ‘স্রোতের বিদ্রুপ’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবি এখানে জীবনের যাত্রা ও সংগ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের চিত্র এঁকেছেন। তিনি নৌকা নিয়ে সুদূরে যেতে চান, কিন্তু তার নৌকা তীরে বাঁধা পড়ে আছে। যতবার তিনি দাঁড় ফেলেন, স্রোত যেন তাকে বিদ্রুপ করে বলে যে, তার চেষ্টা বৃথা, কারণ সে মুক্ত হতে পারবে না। এখানে স্রোত জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তা ও নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে বোঝায়, যা কবির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ব্যঙ্গ করে। কবির এই আক্ষেপ জীবনের প্রতিদিনের সংগ্রামে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন ও আশার প্রতিফলন।
৩. “নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে।”– এখানে কবির আক্ষেপ কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?
অথবা,
“নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে।”– উদ্ধৃত লাইনটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: কবির মন সবসময় দূরবর্তী, অজানা গন্তব্যের প্রতি আকৃষ্ট। তিনি সমুদ্রের ওপারে, নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানে যেতে চান। কিন্তু বাস্তবতা তাকে আটকে রাখে। সংসার ও সামাজিক দায়িত্বের শৃঙ্খল তাকে মুক্তভাবে চলতে বাধা দেয়। 'নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে'—এই বাক্যে কবির সেই বাধাবদ্ধ জীবনের প্রতি আক্ষেপ ফুটে উঠেছে। বাস্তবের শেকল তাকে তার কল্পনার জগতে পৌঁছতে দেয় না, তাই তার নৌকা তীরে বাঁধা পড়ে থাকে।
৪. “সারারাত মিছে দাঁড় টানি, মিছে দাঁড় টানি।”– দাঁড় টানাকে কবি মিছে বলেছেন কেন?
উত্তর: কবি সারারাত ধরে কল্পনার তরী বেয়ে সুদূরের সন্ধান করেন, কিন্তু তার মুক্তি মেলে না। তিনি জানেন, তার নৌকা বাস্তবের নোঙরে বাঁধা। তাই যতই চেষ্টা করুন, তিনি কল্পনার দেশে পৌঁছাতে পারবেন না। এটি কবির জীবনসংগ্রাম ও স্বপ্নের মধ্যকার বিরোধকে প্রতিফলিত করে। বাস্তবতার কঠিন শৃঙ্খলে বন্দি থেকে কবি বুঝতে পারেন, তার প্রচেষ্টা বৃথা। তাই তিনি বলেন, 'মিছে দাঁড় টানি'।
৫. “আমার বাণিজ্য-তরী বাঁধা পড়ে আছে।”– এই উক্তির তাৎপর্য কী?
উত্তর: কবি তার সাহিত্যসাধনাকে 'বাণিজ্য-তরী' হিসেবে কল্পনা করেছেন, যা তাকে সৃষ্টিশীলতার অজানায় ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু সংসারের বাধনে তিনি সেই যাত্রা শুরু করতে পারছেন না। তার কল্পনার তরী বাস্তবতার কঠিন শেকলে বাঁধা পড়েছে। এই উক্তির মাধ্যমে কবি জীবনের সীমাবদ্ধতা ও দায়িত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকার কষ্ট প্রকাশ করেছেন।
৬. ‘নোঙর’ কীসের প্রতীক তা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: কবি অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতাটি মূলত প্রতীকধর্মী। এখানে ‘নোঙর’ কেবল নৌকা থামিয়ে রাখার লৌহদণ্ড নয়, এটি জীবনের সীমাবদ্ধতা, দায়িত্ব ও প্রতিকূলতার প্রতীক। কবি দূর সমুদ্রে পাড়ি দিতে চান, কিন্তু বাস্তবতার শেকল তাকে আটকে রাখে। সমাজ, সংসার, দায়িত্ব ও বাস্তবতার কঠোর নিয়ম তাকে বাঁধনমুক্ত হতে দেয় না। তাই ‘নোঙর’ এখানে মানুষের জীবনের পিছুটান, বাধা ও অনিবার্য কর্তব্যের প্রতিফলন।
৭. ‘আমার বাণিজ্য-তরী বাঁধা পড়ে আছে।’– বাণিজ্য-তরী কেন বাঁধা পড়ে আছে?
উত্তর: কবি তার সৃষ্টিশীলতা ও সাহিত্যকীর্তিকে ‘বাণিজ্য-তরী’ বলে কল্পনা করেছেন। সাধারণ ব্যবসায়ীরা যেমন তাদের পণ্য নিয়ে সমুদ্রপথে দূরদেশে যান, তেমনি কবিও তার সাহিত্যসম্ভার নিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান। কিন্তু বাস্তবতা তাকে সে সুযোগ দেয় না। সংসারের দায়িত্ব ও প্রতিকূলতা তাকে আটকে রাখে, তার তরী যেন অদৃশ্য শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে থাকে। তাই কবি হতাশার সাথে বলেন, ‘আমার বাণিজ্য-তরী বাঁধা পড়ে আছে।’
৮. ‘তরী ভরা পণ্য নিয়ে পাড়ি দিতে সপ্তসিন্ধুপারে’—কোন পণ্যে কবির নৌকা ভরা?
উত্তর: কবির নৌকাটি সাধারণ বাণিজ্যিক তরী নয়, এটি তার সাহিত্য ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক। তার নৌকা সাধারণ বস্তু নয়, বরং তার কাব্য, সাহিত্য ও সৃজনশীলতায় পূর্ণ। তিনি চান তার এই মূল্যবান সাহিত্যসম্ভার নিয়ে সাত সমুদ্র পেরিয়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে দিতে। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন শৃঙ্খলে তিনি বাঁধা, ফলে তার সেই স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়িত হয় না। কবি এখানে জীবনকে তরী, আর সৃষ্টিকে পণ্য হিসেবে রূপায়িত করেছেন।
৯. “নোঙরের কাছি বাঁধা তবু এ নৌকা চিরকাল।”– নৌকা কেন চিরকাল নোঙরের কাছিতে বাঁধা?
উত্তর: কবির মতে, মানুষ জন্মগতভাবেই সামাজিক ও সাংসারিক জীব। তার জীবন বাঁধা থাকে দায়িত্ব, কর্তব্য ও বাস্তবতার শৃঙ্খলে। যদিও মন চায় মুক্তভাবে উড়ে যেতে, বাস্তবতা তাকে সে স্বাধীনতা দেয় না। কবি নিজেও চান সৃষ্টিশীলতার সমুদ্রে ভেসে যেতে, কিন্তু সংসারের দায়-দায়িত্ব তাকে আটকে রাখে। এই বাস্তবতার শেকল কখনোই পুরোপুরি ছিন্ন হয় না, তাই কবি বলেন, ‘নোঙরের কাছি বাঁধা তবু এ নৌকা চিরকাল।’
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
১. “এ-তরীতে মাথা ঠুকে সমুদ্রের দিকে তারা ছোটে।”– কারা ছোটে? তারা কেন সমুদ্রের দিকে ছোটে? তরিতে তাদের মাথা ঠোকার কারণ কী?
উত্তর: কবি অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতার এই পঙ্ক্তিতে ‘তারা’ বলতে নদীর জোয়ারের উচ্ছ্বাসপূর্ণ ঢেউগুলিকে বোঝানো হয়েছে।
নদীতে জোয়ারের স্রোত ফুলে ফুলে ওঠে এবং তীরের দিকে ধেয়ে আসে। কিন্তু তটে বাঁধা নৌকার গায়ে ধাক্কা খেয়ে তারা আবার সমুদ্রের দিকে ফিরে যায়। জোয়ারের এই ঢেউগুলির ক্রমাগত এগিয়ে আসা ও ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে কবির জীবনের এক অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রতিফলিত হয়েছে।
কবি তাঁর জীবন-নৌকাকে কল্পনার মুক্ত প্রান্তরে নিয়ে যেতে চান। তিনি সুদূর সাতসাগরের পারে বাঁধনহারা জীবনের সন্ধানে যাত্রা করতে ইচ্ছুক। কিন্তু সংসার ও দায়িত্বের নোঙর তাঁকে আটকে রেখেছে। নদীর ঢেউগুলির মতো কবির মনও বারবার মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উথলে ওঠে, কিন্তু বাস্তবতার কঠিন প্রাচীরে ধাক্কা খেয়ে ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবেই ঢেউগুলি তরিতে মাথা ঠুকে সমুদ্রের দিকে ফিরে যায়। তারা কবির জীবন-নৌকাকে গতিশীল করতে চাইলেও ব্যর্থ হয়, কারণ কবির জীবন সমাজ ও সংসারের দায়-দায়িত্বে বেঁধে আছে।
২. ‘স্রোতের বিদ্রুপ শুনি প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে।’– স্রোতের বিদ্রূপ কবিকে কেন ব্যথিত করেছে? নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
উত্তর: কবি অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতায় ‘স্রোতের বিদ্রূপ’ বলতে জীবনের কঠিন বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কবি তাঁর নৌকা নিয়ে সাতসাগরের পারে পাড়ি দিতে চান, কিন্তু তাঁর অজান্তেই নোঙর পড়ে গেছে তটের কিনারে। সমাজ ও সংসারের বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে তিনি বাস্তব জীবনের একঘেয়েমিতে আবদ্ধ হয়ে গেছেন। তাঁর মনের গভীরে এক অজানা দেশে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তিনি তা পূরণ করতে পারেন না।
তিনি সারারাত দাঁড় টানেন, কিন্তু জানেন এই প্রচেষ্টা বৃথা। বাস্তবতার কঠিন শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। নদীর স্রোত যেন এই অসহায় অবস্থার বিদ্রূপ করে চলে, বারবার মনে করিয়ে দেয় যে তাঁর চেষ্টাগুলো অর্থহীন।
এই বিদ্রূপ কবিকে ব্যথিত করে, কারণ এটি তাঁর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার অসম্পূর্ণতারই প্রতিচ্ছবি। একদিকে তাঁর অন্তরের গভীর আকাঙ্ক্ষা রয়েছে দূরদেশে পাড়ি দেওয়ার, অন্যদিকে বাস্তবতার কঠিন বন্ধন তাঁকে স্থির করে রেখেছে।
৩. “সারারাত তবু দাঁড় টানি”—কবি সারারাত দাঁড় টানেন কেন? ‘তবু’ কথাটি বলার কারণ কী? এই দাঁড় টানার মধ্য দিয়ে কবির কোন্ মানসিক অবস্থার পরিচয় ফুটে ওঠে?
উত্তর: কবি অজিত দত্ত তাঁর ‘নোঙর’ কবিতায় বলেছেন যে নৌকাভরা পণ্য নিয়ে তিনি সাতসাগরের পারে পাড়ি দিতে চান, তাই তিনি সারারাত দাঁড় টানেন।
‘তবু’ শব্দের অর্থ ‘তা সত্ত্বেও’। কবি জানেন, তাঁর নোঙর পড়ে গেছে তটের কিনারে, অর্থাৎ তিনি বাস্তব জীবনের দায়-দায়িত্বের বন্ধনে আটকে গেছেন। তবু তাঁর মন এই কঠিন সত্য মেনে নিতে চায় না।
তিনি জানেন যে তাঁর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে, কারণ তাঁর নৌকা আর কখনো তট ছেড়ে যাবে না। তবু তিনি আশার আলোয় অবিচল থেকে সারারাত দাঁড় টেনে চলেন।
এই দাঁড় টানার মধ্যে কবির মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ফুটে ওঠে—একদিকে সমাজের দায়-দায়িত্ব, অন্যদিকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। কবি জানেন যে তিনি কখনোই মুক্ত হতে পারবেন না, কিন্তু তাঁর মনের কল্পনার রাজ্যে তিনি সেই সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করতে চান। তাঁর এই অবিরাম প্রচেষ্টা এক ধরনের প্রতীকী প্রতিরোধ, যা তাঁর স্বপ্নময় জীবনের প্রতি এক অনড় বিশ্বাস প্রকাশ করে।
৪. “নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে” — ‘নোঙর’ এখানে কীসের প্রতীক? কবি নৌকা নিয়ে কোথায় যেতে চান? কবির আকাঙ্ক্ষা ও আক্ষেপ কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: কবি অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতায় ‘নোঙর’ জীবনের বিভিন্ন বন্ধন ও স্থিতিশীলতার প্রতীক।
কবি নৌকা নিয়ে যেতে চান সুদূর সাতসাগরের পারে। তিনি বাস্তব জীবনের বাধাবন্ধন থেকে দূরে কল্পনার জগতে পাড়ি দিতে চান। মধ্যযুগের সওদাগরদের মতো তিনি তাঁর সৃষ্টিসম্পদে ভরা নৌকা নিয়ে অজানা অচেনা দেশে যেতে ইচ্ছুক।
কিন্তু বাস্তবের কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে তিনি তা পারেন না। সংসারের দায়-দায়িত্ব তাঁকে শক্ত করে বেঁধে রেখেছে। তাঁর মন মুক্তি চাইলেও জীবন-নৌকা এগোতে পারে না। এই কারণে কবির গভীর আক্ষেপ ফুটে ওঠে—
"তরী ভরা পণ্য নিয়ে পাড়ি দিতে সপ্তসিন্ধুপারে,
নোঙর কখন জানি পড়ে গেছে তটের কিনারে।
সারারাত তবু দাঁড় টানি, তবু দাঁড় টানি।"
এই পঙ্ক্তির মধ্য দিয়ে কবির আকাঙ্ক্ষার অপূর্ণতা ও বেদনাবোধ ফুটে উঠেছে।
৫. ‘নোঙর’ কবিতাটির নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা করো।
উত্তর: ‘নোঙর’ শব্দটি এসেছে ফারসি ‘লঙ্গর’ শব্দ থেকে, যার অর্থ নৌকাকে আটকে রাখার জন্য ব্যবহৃত ভারী বস্তু। এটি জলের নিচে ফেলে নৌকা স্থির রাখতে সাহায্য করে।
অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতার মূল ভাবনা হলো মানবজীবনের বিভিন্ন বন্ধন। মানুষের জীবনও একপ্রকার নৌকার মতো—দায়িত্ব, সম্পর্ক ও কর্তব্যের নোঙরে তা বাঁধা থাকে।
কিন্তু কিছু মানুষ ভাবুক, সৃষ্টিশীল ও রোমান্টিক মনের হয়। তাঁরা মাঝে মাঝে জীবনের সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে বাস্তব থেকে দূরে যেতে চান। তাঁদের মনে থাকে কল্পনার এক নতুন জগৎ, যেখানে তাঁরা মুক্তভাবে বিচরণ করতে চান।
তবে বাস্তবতা তাঁদের সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত হতে দেয় না। কবিও তাঁর মনের গভীরে সুদূরের আহ্বান শুনতে পান, কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করতে পারেন না। আবার সংসার-জীবনের সীমাবদ্ধতা তাঁকে আটকে রাখে।
তাই ‘নোঙর’ কবিতায় নোঙর হল একপ্রকার বন্ধনের প্রতীক। কবিতাটির নামকরণ অত্যন্ত সার্থক ও যথাযথ, কারণ এটি কবির মানসিক টানাপোড়েন, আকাঙ্ক্ষা ও সীমাবদ্ধতার চিত্রকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
<<<<<<<<<<<<<🌹 সমাপ্ত 🌹 >>>>>>>>>>>>>

